ইয়েমেনের উপকূলের কাছে একটি তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাংকার ছিনতাই করেছে সোমালি জলদস্যুরা। এ ঘটনায় এডেন উপসাগর ও পশ্চিম ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের নতুন করে তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ছয় সশস্ত্র জলদস্যু বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের আল-মুকাল্লা থেকে প্রায় ১৩৬ নটিক্যাল মাইল বা ২৫২ কিলোমিটার পূর্বে এরিত্রিয়ার পতাকাবাহী এমটি সিবু-১ দখলে নেয়। পরে জাহাজটিকে সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এক সোমালি সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি এ তথ্য দেন। তবে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।
সিবু-১ পরিচালনা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কাত্রাত আলনাদা আলমাসি শিপ ম্যানেজমেন্ট। গত বছর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। মার্কিন অভিযোগ ছিল, জাহাজটি ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে।
জাহাজে ছিলেন ২০ জন ক্রু
ছিনতাইয়ের সময় সিবু-১-এ ২০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়, একজন সিরীয়, একজন সুদানি এবং একজন ইরাকি নাগরিক। আরও একজন ক্রু সদস্যের জাতীয়তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। জাহাজটি এর আগে কোন বন্দর থেকে যাত্রা করেছিল এবং কোথায় যাওয়ার কথা ছিল, সেটিও পরিষ্কার নয়।
সিবু-১ ছিনতাইয়ের মাত্র তিন দিন আগে সোমালিয়ার উপকূলের কাছে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ লুতুফও জলদস্যুদের কবলে পড়ে। ওই জাহাজে ছিলেন ১০ জন ক্রু—ছয়জন ভারতীয়, একজন তুর্কি, একজন জর্জিয়ান এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষী।
এপ্রিল থেকে ষষ্ঠ বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাই
২১ এপ্রিল সোমালিয়ার উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার অনার-২৫ ছিনতাইয়ের পর থেকে সিবু-১ হলো সোমালি জলদস্যুদের দখলে যাওয়া ষষ্ঠ বাণিজ্যিক জাহাজ।
এরপর ২৬ এপ্রিল সোয়ার্ড, ২ মে ইউরেকা, ১৭ জুলাই আসানা এবং ১৭ আগস্ট লুতুফ ছিনতাই হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে—জলদস্যুরা সোমালিয়ার উপকূল থেকে ক্রমেই দূরে গিয়ে হামলা চালাচ্ছে। ইউরেকা ইয়েমেনের কাছে নোঙর করা অবস্থায় ছিনতাই হয়েছিল। আর আসানা আল-মুকাল্লার প্রায় ৬৫ নটিক্যাল মাইল বা ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে দখল করা হয়।
বিশ্বজুড়ে জলদস্যুতা নিয়ে উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতির ৩৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ছিল জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা। ওই সময়ে জিম্মি হওয়া ক্রু সদস্যদের ৯৪ শতাংশই সোমালি জলদস্যুদের হাতে পড়েছেন বলে ব্যুরো জানিয়েছে।
পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় শুক্রবার বলেছে, তাদের তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে যে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো শক্তি নতুন করে জলদস্যুতা শুরুর পেছনে রয়েছে। তবে কোনো গোষ্ঠী বা দেশের নাম তারা উল্লেখ করেনি এবং দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুন্টল্যান্ড উপকূলজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় ছিনতাই করা জাহাজ রাখার স্থানগুলোর কাছে মাছ ধরার নৌকা ও সম্পত্তিতে বিমান হামলার অভিযোগও তুলেছে তারা। গারাকাদের কাছে ১৮ ও ২০ আগস্টের কথিত হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে পুন্টল্যান্ড। তবে হামলাগুলো কে চালিয়েছে, তা তারা জানায়নি এবং এসব অভিযোগও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















