জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে ইসরাত জাহান (৩০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে আটকে থাকা তার দুই সন্তানকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাউসার আহম্মেদ শাওন পলাতক রয়েছেন।
জানালা দিয়ে শিশুদের আকুতি, সন্দেহ স্থানীয়দের
রোববার সকালে ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দুই শিশুকে বারবার পানি চাইতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কান্নাকাটি ও আকুতি শুনে আশপাশের মানুষের সন্দেহ হয়। বিষয়টি পরে ভবনের মালিককে জানানো হলে ফ্ল্যাটটির মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয়রা তালা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। ভেতরে গিয়ে তারা দুই শিশুকে একটি কক্ষে আটকে থাকা অবস্থায় দেখতে পান এবং তাদের উদ্ধার করেন। এরপর ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে ইসরাত জাহানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে
খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের ১০ বছর বয়সী মেয়ে স্নেহা এবং ৫ বছর বয়সী ছেলে মমিন শাহরিয়ার বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ইসরাত জাহানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বামী পলাতক, তদন্তে পুলিশ
জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর পেছনের কারণ ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
এদিকে নিহতের স্বামী কাউসার আহম্মেদ শাওন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
জামালপুরের এই ঘটনায় দুই শিশুর দীর্ঘ সময় জানালা দিয়ে পানি চাওয়া এবং পরে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে তাদের মায়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















