০৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় চাকরির বাজারে বাড়ছে বৈপরীত্য দুর্গম কম্বোডিয়ায় শিক্ষার আলো, শ্রেণিকক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের পথে হাজারো তরুণ শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান: নেপালের তরুণদের উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের নতুন উদ্যোগ আলবেনিয়ায় স্মার্টল্যাবে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার ধরন, ৭০ হাজার শিক্ষার্থী শিখছে ডিজিটাল দক্ষতা সাগরে লঘুচাপ, চার বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত; ৩-৪ দিন ভ্যাপসা গরমের পূর্বাভাস পানি সংকট সমাধানে শুধু বরাদ্দ নয়, দরকার বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা ইরান যুদ্ধের জ্বালানি সংকট: আসল ধাক্কা এখনো সামনে পাকিস্তানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তার নির্দেশ শাহবাজ শরিফের ঝিনাইদহে মানসিক প্রতিবন্ধী কৃষককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা, চাচা-চাচাতো ভাইকে খুঁজছে পুলিশ বুরকিনা ফাসোয় সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন স্থগিত, নেতাসহ গ্রেপ্তার ১০

নেপালে প্রসাধনী আমদানি বেড়ে ১৩ বিলিয়ন রুপি, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে চাহিদা

নেপালে প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় গত অর্থবছরে এসব পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মেকআপ, ত্বক ও চুলের যত্নের বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশটির আমদানি ব্যয়ে।

নেপালের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি মোট ১৩ দশমিক ০০৪ বিলিয়ন রুপির প্রসাধনী পণ্য আমদানি করেছে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন রুপি।

মেকআপ থেকে ত্বকের যত্ন

আমদানির তালিকায় রয়েছে পারফিউম, লিপস্টিক, ফেস ক্রিম, বডি লোশন, শ্যাম্পু, চুলের রংসহ নানা ধরনের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য। সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ‘অন্যান্য মেকআপ প্রস্তুতি’ শ্রেণি থেকে, যার আমদানি মূল্য ছিল ৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন রুপি।

লিপস্টিক আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৭৯৪ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন রুপি। চোখের মেকআপ পণ্যে ব্যয় হয়েছে ২৯৭ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন রুপি। নেইল পলিশের আমদানি ছিল ৬৬ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন রুপি এবং ম্যানিকিউর-পেডিকিউর সামগ্রী ৫৭ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন রুপি।

Cosmetic Imports Surge in Nepal: NPR 2 Billion on Face Creams | News Detail  | ShareHub

ত্বকের যত্নের পণ্যের মধ্যেও ফেস ক্রিমের চাহিদা ছিল উল্লেখযোগ্য। এ খাতে আমদানি ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন রুপি। বডি লোশনের আমদানি মূল্য ছিল ৮২৭ দশমিক ০৭ মিলিয়ন রুপি। এ ছাড়া পাউডারে ২৮৪ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন রুপি, স্কিন ক্রিম ও পেট্রোলিয়াম জেলিতে ৭৭ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন রুপি এবং সিঁদুরে ১২ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হয়েছে।

চুলের পরিচর্যাতেও বাড়ছে আমদানি

নেপালের প্রসাধনী আমদানিতে চুলের পরিচর্যার পণ্যের অংশও বড়। গত অর্থবছরে শ্যাম্পু আমদানি হয়েছে ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন রুপির। হেয়ার অয়েলে ব্যয় হয়েছে ৭০৬ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন রুপি এবং হেয়ার কালারে ৩৫২ দশমিক ২৫ মিলিয়ন রুপি।

চুল সোজা করার পণ্যের আমদানি মূল্য ছিল ৪২ দশমিক ২২ মিলিয়ন রুপি। হেয়ার ক্রিমে ৪৯ দশমিক ০৮ মিলিয়ন এবং হেয়ার কন্ডিশনারে ৬৬ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হয়েছে। হেয়ার ডাই ও কালার পণ্যের সম্মিলিত আমদানি ছিল ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন রুপি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে চাহিদা

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রসাধনী ব্যবহারের বিস্তার বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির চাহিদাও বাড়িয়েছে। ব্যক্তিগত ক্রেতাদের পাশাপাশি বিউটি পারলার ও সেলুনেও এসব পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে।

Imports of cosmetic products in Nepal have increased significantly in the  first 11 months of the current fiscal year. According to the Department of  Customs, Nepal spent about Rs 12.68 billion on

কাঠমান্ডুর নিউ রোডের প্রসাধনী পাইকার সুরজ শ্রেষ্ঠের মতে, বাজার সম্প্রসারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টিকটক ও ফেসবুকে প্রচারমূলক ভিডিও এবং বিভিন্ন পণ্যের উপস্থাপন দেখে ক্রেতারা সেসব পণ্য কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

তার ভাষ্য, অনলাইনে কোনো প্রসাধনী পণ্য বেশি আলোচনায় এলে তার বিক্রিও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ আমদানি বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়ভাবে প্রসাধনী উৎপাদনের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক ভোক্তা ব্র্যান্ডেড পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বিদেশি প্রসাধনীর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেপালের আমদানিনির্ভর বাজারও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় চাকরির বাজারে বাড়ছে বৈপরীত্য

নেপালে প্রসাধনী আমদানি বেড়ে ১৩ বিলিয়ন রুপি, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে চাহিদা

০৩:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় গত অর্থবছরে এসব পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মেকআপ, ত্বক ও চুলের যত্নের বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশটির আমদানি ব্যয়ে।

নেপালের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি মোট ১৩ দশমিক ০০৪ বিলিয়ন রুপির প্রসাধনী পণ্য আমদানি করেছে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন রুপি।

মেকআপ থেকে ত্বকের যত্ন

আমদানির তালিকায় রয়েছে পারফিউম, লিপস্টিক, ফেস ক্রিম, বডি লোশন, শ্যাম্পু, চুলের রংসহ নানা ধরনের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য। সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ‘অন্যান্য মেকআপ প্রস্তুতি’ শ্রেণি থেকে, যার আমদানি মূল্য ছিল ৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন রুপি।

লিপস্টিক আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৭৯৪ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন রুপি। চোখের মেকআপ পণ্যে ব্যয় হয়েছে ২৯৭ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন রুপি। নেইল পলিশের আমদানি ছিল ৬৬ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন রুপি এবং ম্যানিকিউর-পেডিকিউর সামগ্রী ৫৭ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন রুপি।

Cosmetic Imports Surge in Nepal: NPR 2 Billion on Face Creams | News Detail  | ShareHub

ত্বকের যত্নের পণ্যের মধ্যেও ফেস ক্রিমের চাহিদা ছিল উল্লেখযোগ্য। এ খাতে আমদানি ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন রুপি। বডি লোশনের আমদানি মূল্য ছিল ৮২৭ দশমিক ০৭ মিলিয়ন রুপি। এ ছাড়া পাউডারে ২৮৪ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন রুপি, স্কিন ক্রিম ও পেট্রোলিয়াম জেলিতে ৭৭ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন রুপি এবং সিঁদুরে ১২ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হয়েছে।

চুলের পরিচর্যাতেও বাড়ছে আমদানি

নেপালের প্রসাধনী আমদানিতে চুলের পরিচর্যার পণ্যের অংশও বড়। গত অর্থবছরে শ্যাম্পু আমদানি হয়েছে ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন রুপির। হেয়ার অয়েলে ব্যয় হয়েছে ৭০৬ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন রুপি এবং হেয়ার কালারে ৩৫২ দশমিক ২৫ মিলিয়ন রুপি।

চুল সোজা করার পণ্যের আমদানি মূল্য ছিল ৪২ দশমিক ২২ মিলিয়ন রুপি। হেয়ার ক্রিমে ৪৯ দশমিক ০৮ মিলিয়ন এবং হেয়ার কন্ডিশনারে ৬৬ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হয়েছে। হেয়ার ডাই ও কালার পণ্যের সম্মিলিত আমদানি ছিল ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন রুপি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে চাহিদা

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রসাধনী ব্যবহারের বিস্তার বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির চাহিদাও বাড়িয়েছে। ব্যক্তিগত ক্রেতাদের পাশাপাশি বিউটি পারলার ও সেলুনেও এসব পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে।

Imports of cosmetic products in Nepal have increased significantly in the  first 11 months of the current fiscal year. According to the Department of  Customs, Nepal spent about Rs 12.68 billion on

কাঠমান্ডুর নিউ রোডের প্রসাধনী পাইকার সুরজ শ্রেষ্ঠের মতে, বাজার সম্প্রসারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টিকটক ও ফেসবুকে প্রচারমূলক ভিডিও এবং বিভিন্ন পণ্যের উপস্থাপন দেখে ক্রেতারা সেসব পণ্য কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

তার ভাষ্য, অনলাইনে কোনো প্রসাধনী পণ্য বেশি আলোচনায় এলে তার বিক্রিও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ আমদানি বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়ভাবে প্রসাধনী উৎপাদনের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক ভোক্তা ব্র্যান্ডেড পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বিদেশি প্রসাধনীর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেপালের আমদানিনির্ভর বাজারও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।