ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় তাবিবুর রহমান (৪৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী কৃষককে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। রোববার সকালে উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের মাল্লিকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর এক দিন আগে জেলার কালীগঞ্জে গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নিহত তাবিবুর রহমান মাল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত পারিবারিক বিরোধে
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সবুসুর রহমান ও প্রতিবেশী জিয়াউর রহমান জানান, রোববার সকালে তাবিবুর তার চাচি বাড়ির উঠান ঝাড়ু দেওয়ার সময় তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। স্থানীয়দের ধারণা, তার মানসিক অবস্থার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
পরে ওই নারী বিষয়টি তার স্বামী উজির আলী ও ছেলে শাকিলকে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা দুজন লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাবিবুরকে ধাওয়া করেন।
প্রাণভয়ে ধানখেতে দৌড়
স্থানীয়রা জানান, চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের ধাওয়া থেকে বাঁচতে তাবিবুর পাশের একটি ধানখেতে চলে যান। একপর্যায়ে উজির আলী ও শাকিল তাকে ধরে ফেলেন। এরপর তারা তার ওপর হামলা চালান।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাবিবুরের বুকের বাঁ পাশে একাধিকবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এবং লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাবিবুরের মৃত্যু হয়।
লাশ উদ্ধার, আসামিদের ধরতে অভিযান

কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ রহমান জানান, পুলিশ ধানখেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাবিবুরের মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে শনিবার ভোরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে হাবিব হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি যশোর সদর উপজেলার আরবপুর গ্রামের মৃত আয়ুব হোসেনের ছেলে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















