সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বন্যায় নিহতদের পরিবার এবং সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকরাও এই সহায়তার আওতায় থাকবেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনে জোর
শনিবার মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এসব নির্দেশ দেন। তিনি বন্যায় প্রাণ হারানো প্রত্যেকের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বৃষ্টি ও বন্যায় সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের মালিকদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও সড়ক যোগাযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। ফেডারেল সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবদের বন্যাকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
৬১৫ টন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে
বৈঠকে ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেন শাহবাজ শরিফ। যেসব এলাকায় যোগাযোগের সমস্যার কারণে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি, সেখানে খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, চলতি মৌসুমি বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত মোট ৬১৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া, গিলগিত-বালতিস্তান এবং আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের বৃষ্টি ও বন্যাকবলিত এলাকায় অবকাঠামো পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
আগাম সতর্কতায় নিরাপদে সরানো হয়েছে মানুষ
বৈঠকে ২০২৬ সালের মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাব এবং প্রাদেশিক প্রশাসন ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, দেশের সব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বন্যার্তদের সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দলগুলোও নতুন করে বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কায় জনগণকে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাও সক্রিয় রয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্যার আগেই বেশ কয়েকজন নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বৈঠকে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, চার প্রদেশের মুখ্য সচিব, গিলগিত-বালতিস্তান ও আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের কর্মকর্তারা, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনাম হায়দার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















