দক্ষিণ আফ্রিকায় ডিজিটাল রূপান্তরকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নত কর্মসংস্থানের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখা হলেও শিক্ষা ব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কাঠামোগত সংকট দূর করতে নীতি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
ডিজিটাল দক্ষতার চাহিদা বনাম শিক্ষার বাস্তবতা
‘ফ্রম ডিমান্ড টু ডেলিভারি: স্ট্রেংদেনিং সাউথ আফ্রিকাস ডিজিটাল স্কিলস পাইপলাইন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিজিটাল দক্ষতা তৈরির পুরো প্রক্রিয়াকে স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থান পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক মাস্টারকার্ড ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের অংশীদারত্বে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দক্ষতা-শৃঙ্খলের শুরুতেই অনেক তরুণের প্রয়োজনীয় মৌলিক ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। অনলাইনে তথ্য খোঁজা বা ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহারের মতো মৌলিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে। শহর ও গ্রাম, ধনী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইন্টারনেটের মান, প্রবেশাধিকার ও ব্যয়ের পার্থক্য এই বৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে।
চাকরি আছে, দক্ষ কর্মী নেই
অন্যদিকে বিভিন্ন খাতের নিয়োগদাতারা প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী খুঁজে পাচ্ছেন না। একদিকে উচ্চ বেকারত্ব, অন্যদিকে ডিজিটাল পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার এই বৈপরীত্য দেখাচ্ছে যে সমস্যা শুধু নতুন চাকরি তৈরির নয়; বরং চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাও জরুরি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগদাতাদের চাহিদা কেবল বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় অর্ধেক চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যোগাযোগ, সমস্যা সমাধানসহ স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতারও প্রয়োজন দেখা যায়। সফটওয়্যার উন্নয়ন, নেটওয়ার্কিং ও সাইবার নিরাপত্তার মতো উন্নত প্রযুক্তি খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি সবচেয়ে তীব্র।
ডিগ্রি বাড়লেও চাহিদার সঙ্গে মিলছে না দক্ষতা
দক্ষিণ আফ্রিকায় ডিজিটাল দক্ষতার বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলেও স্নাতকদের বড় অংশ আইটি ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল নকশার মতো বিষয়ে কেন্দ্রীভূত। বিপরীতে ডেটা বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সফটওয়্যার প্রকৌশলের মতো উচ্চ চাহিদার ক্ষেত্রে স্নাতকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রভিত্তিক শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ যুক্ত করা হলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা এবং আয়—দুটিই বাড়ে। উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে স্বল্পমেয়াদি, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত এবং প্রশিক্ষণ ভাতা দিতে দেরির মতো সমস্যাও এর কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে।
সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর জোর
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলেও পুরো ব্যবস্থাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিচালনার জন্য একক কোনো সংস্থা দায়ী নয়। ফলে নীতি থাকলেও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয় এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ দ্রুত সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বাস্তবসম্মত শ্রমবাজারের তথ্য ব্যবহার, কর্মক্ষেত্রভিত্তিক শিক্ষা বাড়ানো এবং সফটওয়্যার উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তার মতো উচ্চ চাহিদার ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়ন ও ভর্তি-উদ্দীপনার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, নীতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলে ডিজিটাল দক্ষতায় বিনিয়োগ সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও বেশি দক্ষিণ আফ্রিকানকে উন্নত মানের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















