নিউ গিনিতে আবিষ্কৃত নতুন এক প্রজাতির সাপের নাম রাখা হয়েছে কিংবদন্তি রক ব্যান্ড গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্ল্যাশের নামে। বৈজ্ঞানিকভাবে সাপটির নাম দেওয়া হয়েছে Lielaphis slashi, আর এর প্রচলিত নাম ‘স্ল্যাশ’স গ্রাউন্ডস্নেক’।
২০০৬ সালে নিউ গিনিতে মাঠপর্যায়ের গবেষণা চালানোর সময় লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল সায়েন্সের হারপেটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও কিউরেটর ক্রিস অস্টিন প্রথম সাপটির সন্ধান পান। সাপটি তার কাছে অপরিচিত মনে হয়। পরে ২০১৬ সালে অস্টিন তৎকালীন ডক্টরাল শিক্ষার্থী সারা রুয়েন এবং তিয়ানকি হুয়াংয়ের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হন। তাদের যৌথ গবেষণার মাধ্যমে সাপটিকে পৃথক একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও জেনেটিক পরীক্ষায় মিলল প্রমাণ
গবেষকেরা প্রথমে সাপটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করেন। তবে শুধু চেহারা ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এটি নতুন প্রজাতি কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। এরপর সাপটির ওপর জেনেটিক বিশ্লেষণ চালানো হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, Lielaphis slashi একই গণের অন্যান্য কাছাকাছি প্রজাতির সাপের তুলনায় জেনেটিকভাবে স্বতন্ত্র। গবেষক তিয়ানকি হুয়াং জানান, বিভিন্ন আধুনিক জেনেটিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি শারীরিক বৈশিষ্ট্যও পরীক্ষা করা হয়েছে। অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় আঁশের সংখ্যার মতো বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য এবং জেনেটিক প্রমাণ মিলিয়ে গবেষকেরা নিশ্চিত হন যে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি।
এ ছাড়া পরিবেশগত মডেলিং ব্যবহার করে গবেষকেরা দেখেছেন, নতুন সাপটির পছন্দের আবাসস্থলও একই গণের কাছাকাছি অন্যান্য সাপের আবাসস্থল থেকে আলাদা।
স্ল্যাশের সঙ্গে সাপের নামকরণের যোগসূত্র
নতুন প্রজাতিটির নামকরণের পেছনে গবেষক সারা রুয়েনের ব্যক্তিগত আগ্রহও রয়েছে। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই গানস এন’ রোজেস তার প্রিয় ব্যান্ডগুলোর একটি ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি শিক্ষককে জানিয়েছিলেন, বড় হয়ে সরীসৃপ নিয়ে গবেষণা করা একজন বিজ্ঞানী হতে চান।
১২ বছর বয়সে ডাকযোগে পাওয়া REPTILES Magazine-এর একটি সংখ্যার প্রচ্ছদে স্ল্যাশকে তার পোষা রেটিকুলেটেড পাইথনের সঙ্গে দেখেছিলেন রুয়েন। সেই ছবি তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। স্ল্যাশকে তখন তার কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একজন মানুষ মনে হয়েছিল। বহু বছর পর সেই স্মৃতির সঙ্গে নতুন আবিষ্কারের যোগসূত্র তৈরি হলো।
স্ল্যাশও নামকরণে সম্মানিত
নিজের নামে নিউ গিনির নতুন সাপের প্রজাতির নামকরণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্ল্যাশ। তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের সরীসৃপপ্রেমী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তার নামে Lielaphis slashi নামকরণ করা তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও আনন্দের বিষয়। এমন একটি মুহূর্ত আসবে, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি বলেও জানান।
নতুন প্রজাতি শনাক্তের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে Zootaxa-তে। গবেষণাটির শিরোনাম ‘A new species of Papuan groundsnake (Squamata: Colubridae: Lielaphis) from New Guinea’।
নিউ গিনির নতুন সাপের প্রজাতি Lielaphis slashi এখন একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য গবেষণা এবং রকসংগীতের এক অভিনব সংযোগের উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
নিউ গিনিতে আবিষ্কৃত নতুন সাপের নাম রাখা হয়েছে গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্ল্যাশের নামে। জেনেটিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যে এটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















