রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে ইউক্রেন নিজেই ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলেছে। এর জবাবে ইউক্রেনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক খাতগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে পাল্টাপাল্টি হামলা
পুতিনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেন ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। তেল শোধনাগার থেকে শুরু করে অনলাইন পণ্য বিক্রেতাদের গুদাম—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এসব হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার সঙ্গে এসব অবকাঠামোর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই এগুলোতে হামলা চালিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করাই কিয়েভের অন্যতম লক্ষ্য।
এর জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। কৃষিপণ্য রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও এর মধ্যে রয়েছে। কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির কৃষি খাত নতুন চাপের মুখে পড়েছে।
বিশ্ববাজারে খাদ্যসংকট হবে না: পুতিন
পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যাহত হলেও বিশ্ববাজারে খাদ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না। রাশিয়া প্রয়োজন হলে ইউক্রেনের রপ্তানির ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তবে রাশিয়ার নিজেদের পণ্য পরিবহনেও কিছু সমস্যা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন পুতিন। তার ভাষ্য, এসব সমস্যা তারা সমাধান করতে পারবেন এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য রপ্তানি সুরক্ষিত রাখতে এর আগে তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া সেই চুক্তি থেকে সরে যায়।
আলোচনার দরজা খোলা, তবে শর্তও আছে
পুতিন আবারও বলেছেন, মস্কো শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার’ ভিত্তিতে হতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দেওয়া কিছু প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ বলে আখ্যা দিয়ে পুতিন জানিয়েছেন, সেসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা করতে রাজি নয় মস্কো।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যে দুই পক্ষের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা এখন যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। পুতিনের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাই স্পষ্ট হয়েছে।
রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার জবাব হিসেবে ইউক্রেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলোতে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়ে পুতিন কার্যত নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার বার্তা দিয়েছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পুতিনের হুঁশিয়ারি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ও কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য রপ্তানি—সব মিলিয়ে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















