০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
দক্ষিণ থাইল্যান্ডে সমন্বিত অগ্নিসংযোগ, আহত ২ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যুক্তরাজ্যে ক্রসরেল ট্রেনের প্রায় সব সেবা বাতিল কুড়িগ্রামে সারের সংকটে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেলেন কৃষকেরা দক্ষতা শেখায় ঝুঁকছেন তরুণরা, ভবিষ্যতের খরচ কমানোর নতুন কৌশল সুয়েজের বিকল্প আর্কটিক রুট: চীন-ইউরোপ বাণিজ্যে নতুন সমুদ্রপথের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি জাপানের ‘আইস-এজ’ প্রজন্ম: তরুণদের বেতন বাড়লেও ৪০–৫০-এর কর্মীদের আয় কমছে ভারতের ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’: মোদির হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রচিন্তায় বদলে যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক কাজাখস্তানের নির্বাচন: নতুন সংবিধান, পুরোনো শাসনের ছায়া আবাসস্থল সংকটে ভারতের হাতি, ৯ বছরে কমেছে ১৮ শতাংশ ডিম্বাণু সংরক্ষণ: ভবিষ্যতের মাতৃত্বের নিরাপত্তা, নাকি ব্যয়বহুল আর্থিক সিদ্ধান্ত?

কোভিডের তদন্ত ঘিরে চাপে ফাউচি, আইনি লড়াইয়ে গড়লেন বিশেষ তহবিল

কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত মুখ অ্যান্থনি ফাউচিকে ঘিরে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তদন্ত বাড়তে থাকায় তাঁর আইনজীবীরা একটি বিশেষ আইনি প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করেছেন। অবসর নেওয়া এই শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত শুরু হওয়ায় দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁর আইনজীবীরা।

তবে এই তহবিল থেকে ফাউচি নিজে কোনো অর্থ পাবেন না বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন। একটি স্বাধীন ট্রাস্টের মাধ্যমে তহবিলটি পরিচালিত হবে এবং এর অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্তেও ফাউচি বা তাঁর আইনজীবীদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

কোভিডের ভূমিকা ঘিরে নতুন করে তদন্ত

ফাউচি প্রায় চার দশক যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অ্যালার্জি ও সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশটির সাতজন প্রেসিডেন্টকে চিকিৎসাবিষয়ক পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ২০২২ সালে অবসর নেওয়ার পরও কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি।

মহামারির সময় ঘরে থাকার বিধিনিষেধ, মাস্ক ব্যবহার এবং টিকা তৈরির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ফাউচি। এসব পদক্ষেপকে সে সময় বিশ্বের বহু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকার সমর্থন করেছিল। তবে পরে কোভিডের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়। ভাইরাসটি চীনের কোনো গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল, নাকি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের মাধ্যমে এর শুরু—এ প্রশ্নে বিজ্ঞানী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যেও মতভেদ রয়েছে।

ফাউচির বিরুদ্ধে মহামারি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা এবং ভাইরাসটির উৎসসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ অবশ্য স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফাউচি নিজেও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ক্ষমা পেলেও আইনি ঝুঁকি কমেনি

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফাউচিকে আগাম ক্ষমা করেছিলেন। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে তখন অভিযোগ করা হয়েছিল, মহামারির সঙ্গে সম্পর্কিত গবেষণায় ফাউচির ভূমিকা ছিল এবং পরে তিনি ভাইরাসটির উৎসসংক্রান্ত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাইডেনের দেওয়া ক্ষমা সত্ত্বেও ফাউচির আইনজীবীদের মতে, চলমান তদন্তগুলোর জেরে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।

ফাউচির আইনজীবী ডেভিড শের্টলার বলেছেন, অবসর নেওয়া একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য এমন নজিরবিহীন আইনি চাপ অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর দাবি, ফাউচি কোনো অন্যায় করেননি এবং তাঁকে লক্ষ্য করে চালানো এসব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্তভাবে আইনি লড়াই করা হবে।

র‌্যান্ড পলের অভিযোগ

ফাউচির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপের অন্যতম প্রধান মুখ রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল। গত মাসে কংগ্রেসের এক শুনানিতে মহামারি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান ফাউচি। পরে পল তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের মাধ্যমে মামলা করার দাবি জানান।

শুনানিতে ফাউচি নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেন। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর দাবিতে পলের প্রচেষ্টাকে তিনি অতিরঞ্জিত ও উন্মত্ত রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেন।

পল এর আগেও মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য ফাউচিকে দায়ী করার চেষ্টা করেছেন এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর দাবি তুলেছেন।

ব্যক্তিগত নথি ও বার্তা নিয়েও বিতর্ক

ফাউচিকে ঘিরে অভিযোগের পরিধি আরও বাড়িয়েছে তাঁর সরকারি নথি ও ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশের ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সরকারি কম্পিউটার ব্যবস্থায় ফাউচির ব্যক্তিগত দিনলিপি খুঁজে বের করেন। পরে এসব নথি র‌্যান্ড পলের হাতে দেওয়া হয় এবং তিনি তা প্রকাশ্যে আনেন।

রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসনের সঙ্গে পল ফাউচির সরকারি মুঠোফোনের একটি অনুলিপি থেকে পাওয়া ব্যক্তিগত বার্তাও প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

ফাউচির সাবেক উপদেষ্টা ডেভিড মোরেন্সও সম্প্রতি সরকারি নথি গোপন এবং সরকারি তথ্য সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন এড়িয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। মহামারি ও গবেষণা অনুদানের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি নিয়ে ওই মামলায় ফাউচির কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়েও পল প্রশ্ন তুলেছেন।Fauci lawyers launch legal defense fund as federal, state investigations  mount against him

তিন অঙ্গরাজ্যেও তদন্ত

ফাউচির বিরুদ্ধে শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়েই নয়, অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস ইউথমেয়ার ফাউচিকে নোটিশ দিয়ে জানতে চেয়েছেন, কোভিড মোকাবিলায় তাঁর দেওয়া নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছিলেন কি না।

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও লুইজিয়ানাও ফ্লোরিডার এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ফলে অন্তত তিনটি অঙ্গরাজ্যে ফাউচিকে আইনি সহায়তা নিতে হবে বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

নথি পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং তদন্তকারীদের কাছে সেগুলো জমা দেওয়ার মতো কাজেও এই আইনি সহায়তার প্রয়োজন হবে।

তহবিলের অর্থ যাবে কোথায়

আইনজীবীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফাউচির বিরুদ্ধে চলমান সব আইনি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা তহবিল ব্যবহার করা হবে।

তহবিলটি একটি স্বাধীন ট্রাস্টের অধীনে থাকবে। ফাউচি কিংবা তাঁর আইনজীবীরা অর্থ কীভাবে বিতরণ বা ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

আইনজীবীদের জমা দেওয়া বিলও একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা যাচাই করবেন। অর্থাৎ আইনি ব্যয়ের ওপর স্বতন্ত্র নজরদারি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সব মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তহবিলে কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে তা দাতব্য কাজে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফাউচির আইনজীবীরা।

একসময় মহামারির মুখ, এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতির অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন ফাউচি। মহামারির সময় তাঁর বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত কোটি কোটি মানুষের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু মহামারি শেষ হওয়ার পর তাঁর সেই ভূমিকা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা কোভিডের উৎস, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মহামারি মোকাবিলায় ফাউচির ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এখন ফেডারেল তদন্তের পাশাপাশি একাধিক অঙ্গরাজ্যের তদন্ত এবং কংগ্রেসের অনুসন্ধান—সব মিলিয়ে ৮৫ বছর বয়সী ফাউচির সামনে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আইনি লড়াই। সেই সম্ভাব্য দীর্ঘ লড়াইয়ের ব্যয় সামলাতেই এবার আলাদা প্রতিরক্ষা তহবিল গড়লেন তাঁর আইনজীবীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ থাইল্যান্ডে সমন্বিত অগ্নিসংযোগ, আহত ২

কোভিডের তদন্ত ঘিরে চাপে ফাউচি, আইনি লড়াইয়ে গড়লেন বিশেষ তহবিল

০৫:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত মুখ অ্যান্থনি ফাউচিকে ঘিরে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তদন্ত বাড়তে থাকায় তাঁর আইনজীবীরা একটি বিশেষ আইনি প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করেছেন। অবসর নেওয়া এই শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত শুরু হওয়ায় দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁর আইনজীবীরা।

তবে এই তহবিল থেকে ফাউচি নিজে কোনো অর্থ পাবেন না বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন। একটি স্বাধীন ট্রাস্টের মাধ্যমে তহবিলটি পরিচালিত হবে এবং এর অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্তেও ফাউচি বা তাঁর আইনজীবীদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

কোভিডের ভূমিকা ঘিরে নতুন করে তদন্ত

ফাউচি প্রায় চার দশক যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অ্যালার্জি ও সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশটির সাতজন প্রেসিডেন্টকে চিকিৎসাবিষয়ক পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ২০২২ সালে অবসর নেওয়ার পরও কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি।

মহামারির সময় ঘরে থাকার বিধিনিষেধ, মাস্ক ব্যবহার এবং টিকা তৈরির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ফাউচি। এসব পদক্ষেপকে সে সময় বিশ্বের বহু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকার সমর্থন করেছিল। তবে পরে কোভিডের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়। ভাইরাসটি চীনের কোনো গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল, নাকি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের মাধ্যমে এর শুরু—এ প্রশ্নে বিজ্ঞানী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যেও মতভেদ রয়েছে।

ফাউচির বিরুদ্ধে মহামারি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা এবং ভাইরাসটির উৎসসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ অবশ্য স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফাউচি নিজেও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ক্ষমা পেলেও আইনি ঝুঁকি কমেনি

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফাউচিকে আগাম ক্ষমা করেছিলেন। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে তখন অভিযোগ করা হয়েছিল, মহামারির সঙ্গে সম্পর্কিত গবেষণায় ফাউচির ভূমিকা ছিল এবং পরে তিনি ভাইরাসটির উৎসসংক্রান্ত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাইডেনের দেওয়া ক্ষমা সত্ত্বেও ফাউচির আইনজীবীদের মতে, চলমান তদন্তগুলোর জেরে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।

ফাউচির আইনজীবী ডেভিড শের্টলার বলেছেন, অবসর নেওয়া একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য এমন নজিরবিহীন আইনি চাপ অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর দাবি, ফাউচি কোনো অন্যায় করেননি এবং তাঁকে লক্ষ্য করে চালানো এসব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্তভাবে আইনি লড়াই করা হবে।

র‌্যান্ড পলের অভিযোগ

ফাউচির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপের অন্যতম প্রধান মুখ রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল। গত মাসে কংগ্রেসের এক শুনানিতে মহামারি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান ফাউচি। পরে পল তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের মাধ্যমে মামলা করার দাবি জানান।

শুনানিতে ফাউচি নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেন। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর দাবিতে পলের প্রচেষ্টাকে তিনি অতিরঞ্জিত ও উন্মত্ত রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেন।

পল এর আগেও মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য ফাউচিকে দায়ী করার চেষ্টা করেছেন এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর দাবি তুলেছেন।

ব্যক্তিগত নথি ও বার্তা নিয়েও বিতর্ক

ফাউচিকে ঘিরে অভিযোগের পরিধি আরও বাড়িয়েছে তাঁর সরকারি নথি ও ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশের ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সরকারি কম্পিউটার ব্যবস্থায় ফাউচির ব্যক্তিগত দিনলিপি খুঁজে বের করেন। পরে এসব নথি র‌্যান্ড পলের হাতে দেওয়া হয় এবং তিনি তা প্রকাশ্যে আনেন।

রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসনের সঙ্গে পল ফাউচির সরকারি মুঠোফোনের একটি অনুলিপি থেকে পাওয়া ব্যক্তিগত বার্তাও প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

ফাউচির সাবেক উপদেষ্টা ডেভিড মোরেন্সও সম্প্রতি সরকারি নথি গোপন এবং সরকারি তথ্য সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন এড়িয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। মহামারি ও গবেষণা অনুদানের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি নিয়ে ওই মামলায় ফাউচির কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়েও পল প্রশ্ন তুলেছেন।Fauci lawyers launch legal defense fund as federal, state investigations  mount against him

তিন অঙ্গরাজ্যেও তদন্ত

ফাউচির বিরুদ্ধে শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়েই নয়, অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস ইউথমেয়ার ফাউচিকে নোটিশ দিয়ে জানতে চেয়েছেন, কোভিড মোকাবিলায় তাঁর দেওয়া নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছিলেন কি না।

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও লুইজিয়ানাও ফ্লোরিডার এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ফলে অন্তত তিনটি অঙ্গরাজ্যে ফাউচিকে আইনি সহায়তা নিতে হবে বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

নথি পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং তদন্তকারীদের কাছে সেগুলো জমা দেওয়ার মতো কাজেও এই আইনি সহায়তার প্রয়োজন হবে।

তহবিলের অর্থ যাবে কোথায়

আইনজীবীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফাউচির বিরুদ্ধে চলমান সব আইনি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা তহবিল ব্যবহার করা হবে।

তহবিলটি একটি স্বাধীন ট্রাস্টের অধীনে থাকবে। ফাউচি কিংবা তাঁর আইনজীবীরা অর্থ কীভাবে বিতরণ বা ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

আইনজীবীদের জমা দেওয়া বিলও একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা যাচাই করবেন। অর্থাৎ আইনি ব্যয়ের ওপর স্বতন্ত্র নজরদারি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সব মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তহবিলে কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে তা দাতব্য কাজে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফাউচির আইনজীবীরা।

একসময় মহামারির মুখ, এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতির অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন ফাউচি। মহামারির সময় তাঁর বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত কোটি কোটি মানুষের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু মহামারি শেষ হওয়ার পর তাঁর সেই ভূমিকা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা কোভিডের উৎস, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মহামারি মোকাবিলায় ফাউচির ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এখন ফেডারেল তদন্তের পাশাপাশি একাধিক অঙ্গরাজ্যের তদন্ত এবং কংগ্রেসের অনুসন্ধান—সব মিলিয়ে ৮৫ বছর বয়সী ফাউচির সামনে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আইনি লড়াই। সেই সম্ভাব্য দীর্ঘ লড়াইয়ের ব্যয় সামলাতেই এবার আলাদা প্রতিরক্ষা তহবিল গড়লেন তাঁর আইনজীবীরা।