০৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
কুড়িগ্রামে সারের সংকটে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেলেন কৃষকেরা দক্ষতা শেখায় ঝুঁকছেন তরুণরা, ভবিষ্যতের খরচ কমানোর নতুন কৌশল সুয়েজের বিকল্প আর্কটিক রুট: চীন-ইউরোপ বাণিজ্যে নতুন সমুদ্রপথের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি জাপানের ‘আইস-এজ’ প্রজন্ম: তরুণদের বেতন বাড়লেও ৪০–৫০-এর কর্মীদের আয় কমছে ভারতের ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’: মোদির হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রচিন্তায় বদলে যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক কাজাখস্তানের নির্বাচন: নতুন সংবিধান, পুরোনো শাসনের ছায়া আবাসস্থল সংকটে ভারতের হাতি, ৯ বছরে কমেছে ১৮ শতাংশ ডিম্বাণু সংরক্ষণ: ভবিষ্যতের মাতৃত্বের নিরাপত্তা, নাকি ব্যয়বহুল আর্থিক সিদ্ধান্ত? কর্মক্ষেত্রে এআই: দক্ষতার আগে আইনি সুরক্ষা ও মানবিক নজরদারি জরুরি উসাইন বোল্টের বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে গেল চীনের মানবাকৃতির রোবট

সোমালিয়ায় ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট, অপুষ্টিতে পড়তে পারে ১৯ লাখ শিশু

সোমালিয়ায় শিশুদের ক্ষুধা ও অপুষ্টির সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। চলতি বছর দেশটিতে প্রায় ১৯ লাখ শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অপুষ্টির সবচেয়ে প্রাণঘাতী ধরনগুলোর একটি।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর তীব্র অপুষ্টি ও সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে মানবিক সহায়তার অর্থায়নে বড় ধরনের কাটছাঁটের কারণে দেশজুড়ে একের পর এক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বন্ধ হয়ে গেছে ২০৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র

মানবিক সহায়তায় নজিরবিহীন অর্থসংকোচনের কারণে ইতোমধ্যে সোমালিয়ায় ২০৫টি স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দেশজুড়ে মোট ৬১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র কমে যাওয়ায় বিশেষ করে মা ও শিশুদের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের। এতে চিকিৎসা নিতে দেরি হচ্ছে এবং অসুস্থতা আরও গুরুতর হয়ে ওঠার পাশাপাশি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে।Child malnutrition soars in Baidoa

অর্থায়ন কমেছে ৮০ শতাংশের বেশি

সোমালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র অপুষ্টি মোকাবিলার অর্থায়ন চলতি বছর ৮০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি অন্যান্য পশ্চিমা দেশও মানবিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, এমন সময়ে সহায়তা কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ সোমালিয়া একই সঙ্গে জলবায়ু সংকট, খরা, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির মতো একাধিক বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে।

খরা ও সংঘাতে বাড়ছে সংকট

সোমালিয়ার উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি যুক্ত হয়ে খাদ্য ও চিকিৎসাসংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়াও দেশটির পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।Child malnutrition soars in Baidoa

এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা না মিললে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

শিশুদের জন্য বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

চলতি বছর সোমালিয়ায় প্রায় ১৯ লাখ শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর তীব্র অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুষ্টিসেবা না পাওয়া এসব শিশুর জন্য পরিস্থিতি জীবনসংকটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সোমালিয়ার শিশুদের জন্য ক্ষুধা, অপুষ্টি ও প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে সারের সংকটে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

সোমালিয়ায় ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট, অপুষ্টিতে পড়তে পারে ১৯ লাখ শিশু

০৫:২৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

সোমালিয়ায় শিশুদের ক্ষুধা ও অপুষ্টির সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। চলতি বছর দেশটিতে প্রায় ১৯ লাখ শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অপুষ্টির সবচেয়ে প্রাণঘাতী ধরনগুলোর একটি।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর তীব্র অপুষ্টি ও সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে মানবিক সহায়তার অর্থায়নে বড় ধরনের কাটছাঁটের কারণে দেশজুড়ে একের পর এক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বন্ধ হয়ে গেছে ২০৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র

মানবিক সহায়তায় নজিরবিহীন অর্থসংকোচনের কারণে ইতোমধ্যে সোমালিয়ায় ২০৫টি স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দেশজুড়ে মোট ৬১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র কমে যাওয়ায় বিশেষ করে মা ও শিশুদের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের। এতে চিকিৎসা নিতে দেরি হচ্ছে এবং অসুস্থতা আরও গুরুতর হয়ে ওঠার পাশাপাশি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে।Child malnutrition soars in Baidoa

অর্থায়ন কমেছে ৮০ শতাংশের বেশি

সোমালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র অপুষ্টি মোকাবিলার অর্থায়ন চলতি বছর ৮০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি অন্যান্য পশ্চিমা দেশও মানবিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, এমন সময়ে সহায়তা কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ সোমালিয়া একই সঙ্গে জলবায়ু সংকট, খরা, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির মতো একাধিক বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে।

খরা ও সংঘাতে বাড়ছে সংকট

সোমালিয়ার উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি যুক্ত হয়ে খাদ্য ও চিকিৎসাসংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়াও দেশটির পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।Child malnutrition soars in Baidoa

এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা না মিললে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

শিশুদের জন্য বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

চলতি বছর সোমালিয়ায় প্রায় ১৯ লাখ শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর তীব্র অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুষ্টিসেবা না পাওয়া এসব শিশুর জন্য পরিস্থিতি জীবনসংকটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সোমালিয়ার শিশুদের জন্য ক্ষুধা, অপুষ্টি ও প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।