০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
দক্ষতা শেখায় ঝুঁকছেন তরুণরা, ভবিষ্যতের খরচ কমানোর নতুন কৌশল সুয়েজের বিকল্প আর্কটিক রুট: চীন-ইউরোপ বাণিজ্যে নতুন সমুদ্রপথের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি জাপানের ‘আইস-এজ’ প্রজন্ম: তরুণদের বেতন বাড়লেও ৪০–৫০-এর কর্মীদের আয় কমছে ভারতের ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’: মোদির হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রচিন্তায় বদলে যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক কাজাখস্তানের নির্বাচন: নতুন সংবিধান, পুরোনো শাসনের ছায়া আবাসস্থল সংকটে ভারতের হাতি, ৯ বছরে কমেছে ১৮ শতাংশ ডিম্বাণু সংরক্ষণ: ভবিষ্যতের মাতৃত্বের নিরাপত্তা, নাকি ব্যয়বহুল আর্থিক সিদ্ধান্ত? কর্মক্ষেত্রে এআই: দক্ষতার আগে আইনি সুরক্ষা ও মানবিক নজরদারি জরুরি উসাইন বোল্টের বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে গেল চীনের মানবাকৃতির রোবট স্প্যানিশ রিবড নিউট: বিশাল আকারের শান্ত জলজ প্রাণী, যত্নও তুলনামূলক সহজ

মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে, ক্লাং উপত্যকায় সর্বোচ্চ ঝুঁকি

মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। রাজধানী কুয়ালালামপুর ও আশপাশের ক্লাং উপত্যকায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।

আগস্টেই আক্রান্ত ৫৮ হাজারের বেশি

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরু থেকে দেশটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৭৯ জন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। ডেঙ্গুর জটিলতায় এ সময় ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ক্লাং উপত্যকার কুয়ালালামপুর, পুত্রজায়া ও সেলাঙ্গর অঞ্চলে। কুয়ালালামপুর ও পুত্রজায়ায় আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। সেলাঙ্গরে বেড়েছে ৬১ শতাংশ।

অন্যান্য রাজ্যেও বাড়ছে সংক্রমণ

ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধু রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। উত্তরাঞ্চলের পার্লিস রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ২০৭ শতাংশ। দক্ষিণাঞ্চলের জোহরে বেড়েছে ১০৯ শতাংশ। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ জোরদার করেছে। এসব উদ্যোগে কিছুটা ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেও দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃষ্টি ও গরমে বাড়ছে এডিস মশার প্রজনন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, অনিয়মিত আবহাওয়া ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৃষ্টির সঙ্গে অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

এ ছাড়া বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি এবং ঠিকমতো পরিষ্কার না করা পানির পাত্রেও এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও তীব্র হচ্ছে।

এডিস এজিপ্টাই মশার মাধ্যমে ছড়ানো ডেঙ্গুতে উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে র‌্যাশ এবং পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় এটি রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য কোনো টিকা নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং রোগের বিস্তারের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও পরিবর্তন ও জোরদার করা হবে।

মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বগতি বিশেষ করে ক্লাং উপত্যকায় জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে আগস্টের শুরু থেকেই আক্রান্ত ৫৮ হাজারের বেশি। কুয়ালালামপুর, পুত্রজায়া ও সেলাঙ্গরে দ্রুত সংক্রমণ বাড়ায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষতা শেখায় ঝুঁকছেন তরুণরা, ভবিষ্যতের খরচ কমানোর নতুন কৌশল

মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে, ক্লাং উপত্যকায় সর্বোচ্চ ঝুঁকি

০৫:১৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। রাজধানী কুয়ালালামপুর ও আশপাশের ক্লাং উপত্যকায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।

আগস্টেই আক্রান্ত ৫৮ হাজারের বেশি

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরু থেকে দেশটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৭৯ জন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। ডেঙ্গুর জটিলতায় এ সময় ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ক্লাং উপত্যকার কুয়ালালামপুর, পুত্রজায়া ও সেলাঙ্গর অঞ্চলে। কুয়ালালামপুর ও পুত্রজায়ায় আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। সেলাঙ্গরে বেড়েছে ৬১ শতাংশ।

অন্যান্য রাজ্যেও বাড়ছে সংক্রমণ

ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধু রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। উত্তরাঞ্চলের পার্লিস রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ২০৭ শতাংশ। দক্ষিণাঞ্চলের জোহরে বেড়েছে ১০৯ শতাংশ। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ জোরদার করেছে। এসব উদ্যোগে কিছুটা ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেও দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃষ্টি ও গরমে বাড়ছে এডিস মশার প্রজনন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, অনিয়মিত আবহাওয়া ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৃষ্টির সঙ্গে অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

এ ছাড়া বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি এবং ঠিকমতো পরিষ্কার না করা পানির পাত্রেও এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও তীব্র হচ্ছে।

এডিস এজিপ্টাই মশার মাধ্যমে ছড়ানো ডেঙ্গুতে উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে র‌্যাশ এবং পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় এটি রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য কোনো টিকা নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং রোগের বিস্তারের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও পরিবর্তন ও জোরদার করা হবে।

মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বগতি বিশেষ করে ক্লাং উপত্যকায় জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে আগস্টের শুরু থেকেই আক্রান্ত ৫৮ হাজারের বেশি। কুয়ালালামপুর, পুত্রজায়া ও সেলাঙ্গরে দ্রুত সংক্রমণ বাড়ায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।