০৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
কাজাখস্তানের নির্বাচন: নতুন সংবিধান, পুরোনো শাসনের ছায়া আবাসস্থল সংকটে ভারতের হাতি, ৯ বছরে কমেছে ১৮ শতাংশ ডিম্বাণু সংরক্ষণ: ভবিষ্যতের মাতৃত্বের নিরাপত্তা, নাকি ব্যয়বহুল আর্থিক সিদ্ধান্ত? কর্মক্ষেত্রে এআই: দক্ষতার আগে আইনি সুরক্ষা ও মানবিক নজরদারি জরুরি উসাইন বোল্টের বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে গেল চীনের মানবাকৃতির রোবট স্প্যানিশ রিবড নিউট: বিশাল আকারের শান্ত জলজ প্রাণী, যত্নও তুলনামূলক সহজ পালান্টিরকে বাদ দিলে ভুল করবে ব্রিটেন, সমালোচনার যুক্তি কতটা টেকসই? কোভিডের তদন্ত ঘিরে চাপে ফাউচি, আইনি লড়াইয়ে গড়লেন বিশেষ তহবিল সোমালিয়ায় ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট, অপুষ্টিতে পড়তে পারে ১৯ লাখ শিশু ১১টি নতুন নিকোটিন পণ্যে অনুমোদন পেল ফিলিপ মরিস

সাহেল কি যুদ্ধ নয়, আলোচনার পথেই শান্তি খুঁজে পেতে পারে?

আন্তর্জাতিক কূটনীতি যখন একের পর এক আঞ্চলিক সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সাহেল অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে পরাজিত করেই কি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব?

মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারে এক দশকের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা, বিদেশি সেনা, ড্রোন হামলা কিংবা পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার নিরাপত্তা সহযোগিতা—কোনোটিই সহিংসতার স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে, নতুন ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই বাস্তবতায় সামরিক অভিযানের পাশাপাশি সংলাপের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা

সাহেলের সংকট কেবল সন্ত্রাসবাদের সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জলবায়ুজনিত চাপ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় সেবার অনুপস্থিতি।

বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এই সমস্যার প্রধান সমাধান হিসেবে সামরিক সহায়তাকে বেছে নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা দেখিয়েছে, একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা বা তাদের ঘাঁটি ধ্বংস করা গেলেও সেই গোষ্ঠী যে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে, সেটি পরিবর্তন না হলে সংঘাত আবার ফিরে আসতে পারে।

গত বছরের শেষ দিকে মালির রাজধানী বামাকোতে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন বা জেএনআইএমের বড় ধরনের হামলা সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে। মোদিবো কেইতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শহরের উপকণ্ঠে একটি জেন্ডারমেরি স্কুলে হামলায় ৮০ জন পর্যন্ত নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

২০১৫ সালের পর বামাকোতে এটিই ছিল গোষ্ঠীটির অন্যতম বড় প্রত্যক্ষ হামলা। এর তাৎপর্য শুধু প্রাণহানিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের পরও জেএনআইএমের মতো গোষ্ঠীগুলো মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যকর প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম।

পশ্চিমা শক্তি থেকে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়া

সাহেলের দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর মধ্যেও বিদেশি নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। অনেক স্থানীয় সেনা কর্মকর্তা মনে করতেন, এসব কৌশল স্থানীয় বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং জনগণের উদ্বেগ যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

এই অসন্তোষ শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক জোটের পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে। মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর পশ্চিমা শক্তির পরিবর্তে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ওয়াগনার এবং পরে আফ্রিকা কর্পসের মতো রুশ বাহিনী ও সামরিক কাঠামো এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠে।

রাশিয়াকে অনেক সময় পশ্চিমা প্রভাবের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—একটি এমন অংশীদার হিসেবে, যারা স্থানীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়ে বেশি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু নতুন অংশীদারিত্বও সাহেলের মৌলিক নিরাপত্তা সংকটের সমাধান করতে পারেনি।

রুশ বাহিনীর অভিযানে বেসামরিক মানুষের ওপর নির্যাতন ও নির্বিচার সহিংসতার অভিযোগও সামনে এসেছে। অর্থাৎ সমস্যা কেবল কে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, তা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া সামরিক পদ্ধতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মধ্যেই সংকটের বড় অংশ নিহিত।Burkina Faso, Niger Join Mali in Leaving G5 Anti-Jihadi Force

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান যখন নতুন ক্ষোভ তৈরি করে

সাহেলের সংঘাতের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কিছু পদ্ধতি কখনও কখনও উল্টো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য নতুন সদস্য তৈরি করে।

মালি ও নাইজারে সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বুরকিনা ফাসোতে সরকারপন্থী মিলিশিয়ারা পেউল জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জঙ্গিদের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও বেড়েছে।

কেউ কেউ আদর্শগত কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিলেও অনেকের সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে নিরাপত্তা, জীবিকা, প্রতিশোধ কিংবা নিজেদের সম্প্রদায়কে রক্ষা করার প্রয়োজন।

গ্রামাঞ্চলে যখন সামরিক অভিযান অবকাঠামো ধ্বংস করে, সরকারি সেবা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তখন রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে যায়। সেই শূন্যস্থানই কাজে লাগায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। তারা নিজেদের কখনও নিরাপত্তাদাতা, কখনও বিরোধ নিষ্পত্তিকারী, আবার কখনও স্থানীয় সেবাদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।

ফলে যে অভিযান জঙ্গিদের দমন করার কথা, সেটিই যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন ক্ষোভ সৃষ্টি করে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সংলাপের কথা কেন উঠছে

জিহাদি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করার ধারণাটি স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কিত। একটি সরকার যদি সশস্ত্র হামলাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে, তাহলে সেটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হতে পারে। আরও বড় আশঙ্কা হলো, কোনো কোনো গোষ্ঠী আলোচনাকে কৌশলগত বিরতি হিসেবে ব্যবহার করে পুনর্গঠিত হতে পারে।

তবু আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাচ্ছে।

বাস্তবে সাহেলের বিভিন্ন অঞ্চলে গত এক দশকে স্থানীয় পর্যায়ে গোপন বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। কোথাও সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কোথাও বন্দিবিনিময় হয়েছে, কোথাও মানবিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মালিতে ২০১২ সালের তুয়ারেগ বিদ্রোহের পর আনসার আল-দিনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে তখন ছিলেন ইয়াদ আগ ঘালি, যিনি বর্তমানে জেএনআইএমের প্রধান। ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী এবং সরকারি প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

২০১৫ সালে আলজেরিয়ার উদ্যোগে হওয়া আলজিয়ার্স শান্তি প্রক্রিয়া তুয়ারেগ বিদ্রোহের অবসানে ভূমিকা রাখে। যদিও জিহাদি গোষ্ঠীগুলো সেই প্রক্রিয়ার অংশ ছিল না, তবুও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহী আন্দোলনের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন করা এবং কিছু যোদ্ধাকে সমাজে পুনঃএকীভূত করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

স্থানীয় পর্যায়ের ছোট সাফল্য

মালির সেগু অঞ্চলে কাটিবা মাচিনা ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতির নজির রয়েছে। মালির সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বন্দিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে।

বুরকিনা ফাসোতেও ২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের আগে সরকার সরাসরি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এমন একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ পাওয়া যায়।

নাইজারের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমও একই ধরনের পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছিলেন। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, প্রতিনিধিদের পাঠানো এবং আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ ছিল সেই উদ্যোগের অংশ।

কিন্তু পরপর সামরিক অভ্যুত্থানের পর এসব উদ্যোগ ভেঙে পড়ে। নতুন সামরিক সরকারগুলো আলোচনাকে দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করে এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয়।

মরিতানিয়ার অভিজ্ঞতা

সাহেলের মধ্যেই মরিতানিয়ার অভিজ্ঞতা একটি ভিন্ন সম্ভাবনা দেখায়।

২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দেশটি জিহাদি বন্দিদের নিয়ে ধর্মীয় সংলাপের একটি কর্মসূচি চালু করেছিল। লক্ষ্য ছিল শুধু তাদের উগ্রপন্থা থেকে ফেরানো নয়, বরং তাদের চিন্তাভাবনা বোঝা এবং সমাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

এই উদ্যোগ মরিতানিয়ার অভ্যন্তরে জিহাদি হুমকি কমাতে ভূমিকা রাখে।

এটি অবশ্য অন্য দেশগুলোর জন্য সরাসরি অনুসরণযোগ্য কোনো সহজ মডেল নয়। প্রতিটি সংঘাতের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। তবু মরিতানিয়ার অভিজ্ঞতা দেখায়, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা মানেই তাদের আদর্শ বা কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা নয়।

শান্তির জন্য কতটা ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব?

জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা কখনোই ঝুঁকিমুক্ত নয়। সাময়িক যুদ্ধবিরতি, মানবিক করিডোর কিংবা বন্দিবিনিময় তুলনামূলকভাবে সহজ লক্ষ্য হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন আরও জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া—ক্ষমতার কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তি, মতাদর্শগত পুনর্মূল্যায়ন, অস্ত্র ত্যাগ এবং সমাজে যোদ্ধাদের পুনঃএকীভূত করা।

এর জন্য সময় ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। সাহেলের বারবার সরকার পরিবর্তন এবং সামরিক অভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিকতাকে দুর্বল করেছে।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো আন্তর্জাতিক জিহাদি নেটওয়ার্ক। কোনো স্থানীয় গোষ্ঠী যদি নিজস্বভাবে সমঝোতায় যেতে চায়, তার ওপর বৃহত্তর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের কতটা প্রভাব থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো চুক্তি হলেও তা বৃহত্তর সংগঠন মেনে নেবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

জনগণের সমর্থনও অপরিহার্য। জিহাদিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। জনগণের কাছে যদি বোঝানো না যায় যে আলোচনার লক্ষ্য সন্ত্রাসকে বৈধতা দেওয়া নয়, বরং সহিংসতা কমানো ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা, তাহলে সেই উদ্যোগ দ্রুত জনসমর্থন হারাতে পারে।Mali, Burkina Faso and Niger call for joint 'large-scale operations' against  extremists - Los Angeles Times

যুদ্ধের বদলে শান্তির সংজ্ঞা বদলাতে হবে

সাহেলের অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে—বিজয় বলতে আমরা কী বুঝি?

যদি বিজয়ের অর্থ হয় যত বেশি সম্ভব জঙ্গিকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করা, তাহলে সামরিক অভিযানকে সফল বলা যায়। কিন্তু যদি লক্ষ্য হয় এমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নতুন সদস্য সংগ্রহের সুযোগ থাকবে না, তাহলে শুধু সামরিক সাফল্য যথেষ্ট নয়।

এক দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সামরিক শক্তি দিয়ে সাহেলের সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে, রাষ্ট্রের ওপর আস্থা দুর্বল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অনেক সময় সরকার ও বিদ্রোহী—দুই পক্ষের চাপের মধ্যে পড়েছে।

সংলাপ কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। সব গোষ্ঠী আলোচনায় আগ্রহী হবে না। কেউ কেউ আলোচনার সুযোগকে পুনর্গঠনের জন্য ব্যবহার করতে পারে। আবার তাদের কিছু দাবি রাষ্ট্রের পক্ষে গ্রহণ করাও অসম্ভব হতে পারে।

তবু এই ঝুঁকিগুলো আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকে বাতিল করে না। বরং আলোচনাকে কীভাবে সীমিত, শর্তসাপেক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক রাখা যায়, সেটিই হওয়া উচিত মূল প্রশ্ন।

সাহেলের সামনে এখন আসল পছন্দ শুধু যুদ্ধ আর আত্মসমর্পণের মধ্যে নয়। পছন্দ হলো এমন একটি সংঘাতের চক্র চালিয়ে যাওয়া, যেখানে প্রতিটি সামরিক অভিযান নতুন ক্ষোভ তৈরি করে, নাকি রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেই চক্র ভাঙার চেষ্টা করা।

এক দশকের বেশি সময়ের যুদ্ধের পর প্রশ্নটি এখন অন্যভাবে দেখা দরকার। যদি সামরিক শক্তিই একমাত্র পথ হয়, তাহলে বারবার সামরিক অভিযানের পরও কেন স্থায়ী শান্তি আসছে না—এর উত্তরও দিতে হবে।

জিহাদি গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বললেই সাহেলের যুদ্ধ শেষ হবে না। কিন্তু তাদের সঙ্গে কথা বলার সম্ভাবনাটিই যদি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়, তাহলে শান্তির একটি সম্ভাব্য পথ শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যায়।

লরা বার্লিংগোজির বিশ্লেষণের মূল শিক্ষা এখানেই—যদি লক্ষ্য সত্যিই যুদ্ধ জেতা নয়, বরং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে সংলাপকে দুর্বলতার প্রতীক নয়, বরং কূটনীতির একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাজাখস্তানের নির্বাচন: নতুন সংবিধান, পুরোনো শাসনের ছায়া

সাহেল কি যুদ্ধ নয়, আলোচনার পথেই শান্তি খুঁজে পেতে পারে?

০৫:১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক কূটনীতি যখন একের পর এক আঞ্চলিক সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সাহেল অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে পরাজিত করেই কি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব?

মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারে এক দশকের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা, বিদেশি সেনা, ড্রোন হামলা কিংবা পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার নিরাপত্তা সহযোগিতা—কোনোটিই সহিংসতার স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে, নতুন ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই বাস্তবতায় সামরিক অভিযানের পাশাপাশি সংলাপের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা

সাহেলের সংকট কেবল সন্ত্রাসবাদের সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জলবায়ুজনিত চাপ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় সেবার অনুপস্থিতি।

বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এই সমস্যার প্রধান সমাধান হিসেবে সামরিক সহায়তাকে বেছে নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা দেখিয়েছে, একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা বা তাদের ঘাঁটি ধ্বংস করা গেলেও সেই গোষ্ঠী যে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে, সেটি পরিবর্তন না হলে সংঘাত আবার ফিরে আসতে পারে।

গত বছরের শেষ দিকে মালির রাজধানী বামাকোতে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন বা জেএনআইএমের বড় ধরনের হামলা সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে। মোদিবো কেইতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শহরের উপকণ্ঠে একটি জেন্ডারমেরি স্কুলে হামলায় ৮০ জন পর্যন্ত নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

২০১৫ সালের পর বামাকোতে এটিই ছিল গোষ্ঠীটির অন্যতম বড় প্রত্যক্ষ হামলা। এর তাৎপর্য শুধু প্রাণহানিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের পরও জেএনআইএমের মতো গোষ্ঠীগুলো মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যকর প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম।

পশ্চিমা শক্তি থেকে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়া

সাহেলের দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর মধ্যেও বিদেশি নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। অনেক স্থানীয় সেনা কর্মকর্তা মনে করতেন, এসব কৌশল স্থানীয় বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং জনগণের উদ্বেগ যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

এই অসন্তোষ শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক জোটের পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে। মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর পশ্চিমা শক্তির পরিবর্তে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ওয়াগনার এবং পরে আফ্রিকা কর্পসের মতো রুশ বাহিনী ও সামরিক কাঠামো এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠে।

রাশিয়াকে অনেক সময় পশ্চিমা প্রভাবের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—একটি এমন অংশীদার হিসেবে, যারা স্থানীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়ে বেশি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু নতুন অংশীদারিত্বও সাহেলের মৌলিক নিরাপত্তা সংকটের সমাধান করতে পারেনি।

রুশ বাহিনীর অভিযানে বেসামরিক মানুষের ওপর নির্যাতন ও নির্বিচার সহিংসতার অভিযোগও সামনে এসেছে। অর্থাৎ সমস্যা কেবল কে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, তা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া সামরিক পদ্ধতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মধ্যেই সংকটের বড় অংশ নিহিত।Burkina Faso, Niger Join Mali in Leaving G5 Anti-Jihadi Force

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান যখন নতুন ক্ষোভ তৈরি করে

সাহেলের সংঘাতের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কিছু পদ্ধতি কখনও কখনও উল্টো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য নতুন সদস্য তৈরি করে।

মালি ও নাইজারে সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বুরকিনা ফাসোতে সরকারপন্থী মিলিশিয়ারা পেউল জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জঙ্গিদের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও বেড়েছে।

কেউ কেউ আদর্শগত কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিলেও অনেকের সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে নিরাপত্তা, জীবিকা, প্রতিশোধ কিংবা নিজেদের সম্প্রদায়কে রক্ষা করার প্রয়োজন।

গ্রামাঞ্চলে যখন সামরিক অভিযান অবকাঠামো ধ্বংস করে, সরকারি সেবা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তখন রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে যায়। সেই শূন্যস্থানই কাজে লাগায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। তারা নিজেদের কখনও নিরাপত্তাদাতা, কখনও বিরোধ নিষ্পত্তিকারী, আবার কখনও স্থানীয় সেবাদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।

ফলে যে অভিযান জঙ্গিদের দমন করার কথা, সেটিই যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন ক্ষোভ সৃষ্টি করে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সংলাপের কথা কেন উঠছে

জিহাদি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করার ধারণাটি স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কিত। একটি সরকার যদি সশস্ত্র হামলাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে, তাহলে সেটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হতে পারে। আরও বড় আশঙ্কা হলো, কোনো কোনো গোষ্ঠী আলোচনাকে কৌশলগত বিরতি হিসেবে ব্যবহার করে পুনর্গঠিত হতে পারে।

তবু আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাচ্ছে।

বাস্তবে সাহেলের বিভিন্ন অঞ্চলে গত এক দশকে স্থানীয় পর্যায়ে গোপন বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। কোথাও সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কোথাও বন্দিবিনিময় হয়েছে, কোথাও মানবিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মালিতে ২০১২ সালের তুয়ারেগ বিদ্রোহের পর আনসার আল-দিনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে তখন ছিলেন ইয়াদ আগ ঘালি, যিনি বর্তমানে জেএনআইএমের প্রধান। ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী এবং সরকারি প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

২০১৫ সালে আলজেরিয়ার উদ্যোগে হওয়া আলজিয়ার্স শান্তি প্রক্রিয়া তুয়ারেগ বিদ্রোহের অবসানে ভূমিকা রাখে। যদিও জিহাদি গোষ্ঠীগুলো সেই প্রক্রিয়ার অংশ ছিল না, তবুও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহী আন্দোলনের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন করা এবং কিছু যোদ্ধাকে সমাজে পুনঃএকীভূত করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

স্থানীয় পর্যায়ের ছোট সাফল্য

মালির সেগু অঞ্চলে কাটিবা মাচিনা ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতির নজির রয়েছে। মালির সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বন্দিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে।

বুরকিনা ফাসোতেও ২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের আগে সরকার সরাসরি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এমন একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ পাওয়া যায়।

নাইজারের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমও একই ধরনের পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছিলেন। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, প্রতিনিধিদের পাঠানো এবং আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ ছিল সেই উদ্যোগের অংশ।

কিন্তু পরপর সামরিক অভ্যুত্থানের পর এসব উদ্যোগ ভেঙে পড়ে। নতুন সামরিক সরকারগুলো আলোচনাকে দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করে এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয়।

মরিতানিয়ার অভিজ্ঞতা

সাহেলের মধ্যেই মরিতানিয়ার অভিজ্ঞতা একটি ভিন্ন সম্ভাবনা দেখায়।

২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দেশটি জিহাদি বন্দিদের নিয়ে ধর্মীয় সংলাপের একটি কর্মসূচি চালু করেছিল। লক্ষ্য ছিল শুধু তাদের উগ্রপন্থা থেকে ফেরানো নয়, বরং তাদের চিন্তাভাবনা বোঝা এবং সমাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

এই উদ্যোগ মরিতানিয়ার অভ্যন্তরে জিহাদি হুমকি কমাতে ভূমিকা রাখে।

এটি অবশ্য অন্য দেশগুলোর জন্য সরাসরি অনুসরণযোগ্য কোনো সহজ মডেল নয়। প্রতিটি সংঘাতের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। তবু মরিতানিয়ার অভিজ্ঞতা দেখায়, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা মানেই তাদের আদর্শ বা কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা নয়।

শান্তির জন্য কতটা ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব?

জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা কখনোই ঝুঁকিমুক্ত নয়। সাময়িক যুদ্ধবিরতি, মানবিক করিডোর কিংবা বন্দিবিনিময় তুলনামূলকভাবে সহজ লক্ষ্য হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন আরও জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া—ক্ষমতার কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তি, মতাদর্শগত পুনর্মূল্যায়ন, অস্ত্র ত্যাগ এবং সমাজে যোদ্ধাদের পুনঃএকীভূত করা।

এর জন্য সময় ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। সাহেলের বারবার সরকার পরিবর্তন এবং সামরিক অভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিকতাকে দুর্বল করেছে।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো আন্তর্জাতিক জিহাদি নেটওয়ার্ক। কোনো স্থানীয় গোষ্ঠী যদি নিজস্বভাবে সমঝোতায় যেতে চায়, তার ওপর বৃহত্তর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের কতটা প্রভাব থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো চুক্তি হলেও তা বৃহত্তর সংগঠন মেনে নেবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

জনগণের সমর্থনও অপরিহার্য। জিহাদিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। জনগণের কাছে যদি বোঝানো না যায় যে আলোচনার লক্ষ্য সন্ত্রাসকে বৈধতা দেওয়া নয়, বরং সহিংসতা কমানো ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা, তাহলে সেই উদ্যোগ দ্রুত জনসমর্থন হারাতে পারে।Mali, Burkina Faso and Niger call for joint 'large-scale operations' against  extremists - Los Angeles Times

যুদ্ধের বদলে শান্তির সংজ্ঞা বদলাতে হবে

সাহেলের অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে—বিজয় বলতে আমরা কী বুঝি?

যদি বিজয়ের অর্থ হয় যত বেশি সম্ভব জঙ্গিকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করা, তাহলে সামরিক অভিযানকে সফল বলা যায়। কিন্তু যদি লক্ষ্য হয় এমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নতুন সদস্য সংগ্রহের সুযোগ থাকবে না, তাহলে শুধু সামরিক সাফল্য যথেষ্ট নয়।

এক দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সামরিক শক্তি দিয়ে সাহেলের সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে, রাষ্ট্রের ওপর আস্থা দুর্বল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অনেক সময় সরকার ও বিদ্রোহী—দুই পক্ষের চাপের মধ্যে পড়েছে।

সংলাপ কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। সব গোষ্ঠী আলোচনায় আগ্রহী হবে না। কেউ কেউ আলোচনার সুযোগকে পুনর্গঠনের জন্য ব্যবহার করতে পারে। আবার তাদের কিছু দাবি রাষ্ট্রের পক্ষে গ্রহণ করাও অসম্ভব হতে পারে।

তবু এই ঝুঁকিগুলো আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকে বাতিল করে না। বরং আলোচনাকে কীভাবে সীমিত, শর্তসাপেক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক রাখা যায়, সেটিই হওয়া উচিত মূল প্রশ্ন।

সাহেলের সামনে এখন আসল পছন্দ শুধু যুদ্ধ আর আত্মসমর্পণের মধ্যে নয়। পছন্দ হলো এমন একটি সংঘাতের চক্র চালিয়ে যাওয়া, যেখানে প্রতিটি সামরিক অভিযান নতুন ক্ষোভ তৈরি করে, নাকি রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেই চক্র ভাঙার চেষ্টা করা।

এক দশকের বেশি সময়ের যুদ্ধের পর প্রশ্নটি এখন অন্যভাবে দেখা দরকার। যদি সামরিক শক্তিই একমাত্র পথ হয়, তাহলে বারবার সামরিক অভিযানের পরও কেন স্থায়ী শান্তি আসছে না—এর উত্তরও দিতে হবে।

জিহাদি গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বললেই সাহেলের যুদ্ধ শেষ হবে না। কিন্তু তাদের সঙ্গে কথা বলার সম্ভাবনাটিই যদি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়, তাহলে শান্তির একটি সম্ভাব্য পথ শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যায়।

লরা বার্লিংগোজির বিশ্লেষণের মূল শিক্ষা এখানেই—যদি লক্ষ্য সত্যিই যুদ্ধ জেতা নয়, বরং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে সংলাপকে দুর্বলতার প্রতীক নয়, বরং কূটনীতির একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে।