নেপালের উচ্চশিক্ষাকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের পথ হিসেবে না দেখে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সুযোগ, ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা এবং নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
বেসরকারি খাতের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সংযোগ
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর অংশীদারত্ব শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। নেপালে বেসরকারি খাত মোট কর্মশক্তির ৮৫ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেশি।
এ লক্ষ্যে উদ্যোক্তা সহায়তা কর্মসূচি বা ইএসপি শিক্ষার্থীদের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে। বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ পরামর্শকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নেপালের ব্যবসায়িক পরিবেশ, উদ্যোগ পরিচালনা এবং বাস্তব বাজারের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা পাচ্ছেন।
শিক্ষা থেকে উদ্ভাবন ও ব্যবসা
ইএসপির কার্যক্রম শুধু প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ নয়। কর্মসূচিটির আওতায় ছয়টি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা ইনকিউবেশন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র শিক্ষার্থী ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ব্যবসা সৃষ্টির মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে সহায়তা করছে।
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বীজ তহবিলের ব্যবস্থাও তরুণদের নতুন ব্যবসায়িক ধারণাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষার প্রচলিত একাডেমিক পথের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা বাড়ছে।
শ্রমবাজারমুখী উচ্চশিক্ষায় বড় উদ্যোগ
ইএসপি নেপাল উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে নেওয়া বৃহত্তর নেহেপ উদ্যোগের একটি অংশ। এই প্রকল্পের আওতায় শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক একাডেমিক কর্মসূচি, কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, উদ্যোক্তা সহায়তা তখনই বেশি কার্যকর হয়, যখন তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিজ্ঞ পরামর্শক এবং বাস্তব সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। নেপালের তরুণদের শিক্ষা থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে নিতে এসব উদ্যোগ সেই সংযোগই শক্তিশালী করছে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নতুন ধারণাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তরুণদের অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















