বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকার দেশটির সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন জেনারেল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস অব বুরকিনা (ইউজিইবি) তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির নেতা উইলফ্রিড বাজোসহ প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এ পদক্ষেপ দেশটিতে ভিন্নমত ও স্বাধীন সংগঠনের ওপর চলমান দমন-পীড়ন আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
আঞ্চলিক প্রশাসনবিষয়ক মন্ত্রীর জারি করা এক আদেশে ইউজিইবির কার্যক্রম তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। সংগঠনটির বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংগঠনটির নেতাদের বক্তব্য ও প্রকাশিত লেখার ‘গুরুত্ব’ বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক তদন্ত শুরু করা হবে।
বুরকিনা ফাসোতে ২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তা সরকার বিরোধী ও সমালোচনামূলক কণ্ঠের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির প্রায় এক হাজার নাগরিক সমাজ সংগঠনকে বিলুপ্ত বা স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জান্তার বিরুদ্ধে ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ
ইউজিইবি গত সপ্তাহে দেশের গণতান্ত্রিক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। সংগঠনটি আরও দাবি করে, মানুষকে অপহরণ, আটক এবং গোপন স্থানে আটকে রাখার ঘটনা ঘটছে।
দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও সরব ছিল সংগঠনটি। বুরকিনা ফাসোর বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও জিহাদি সহিংসতা অব্যাহত থাকায় জান্তা সরকার নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ‘স্পষ্টভাবে ব্যর্থ’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল ইউজিইবি।
এর কয়েক দিনের মধ্যেই সংগঠনটির কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে সশস্ত্র ও পরিচয়হীন একদল ব্যক্তি রাজধানী ওয়াগাদুগুর কার্যালয়ে ঢুকে প্রায় ১০ শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে সংগঠনটির সভাপতি উইলফ্রিড বাজোও ছিলেন।

নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে সংকট
ছাত্র সংগঠন স্থগিতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলেছে, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে বুরকিনা ফাসোর ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার সংকটের সমাধান হবে না।
সামরিক সরকারের সর্বশেষ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটি দীর্ঘদিন ধরে জিহাদি সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা সেই পরিস্থিতিতে স্বাধীন সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ার বিষয়টি সামনে এনেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















