বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে নেপালের চিতওয়ানে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৫৬টি হাতিকে খাওয়ানো হয়েছে। বুধবার সৌরাহার কাছে বাঘমারা বন কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বার্ষিক ‘হাতি পিকনিক’-এ হাতিদের জন্য সাজানো হয়েছিল ২০ ধরনের খাবার।
আয়োজনে ছিল বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের জঙ্গল সাফারিতে ব্যবহৃত হাতি, চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের টহল ও গবেষণায় নিয়োজিত সরকারি হাতি এবং জাতীয় প্রকৃতি সংরক্ষণ ট্রাস্টের সৌরাহা কার্যালয়ের হাতি। মাহুতরা সাজিয়ে হাতিগুলোকে অনুষ্ঠানের স্থানে নিয়ে আসেন। সেখানে বিভিন্ন খাবারে সাজানো টেবিল থেকে হাতিদের নিজেদের পছন্দমতো খাবার বেছে খাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিশ্ব হাতি দিবস ঘিরে আয়োজন
প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস পালিত হয়। গত কয়েক বছর ধরে সৌরাহা এলাকার হাতির মালিক ও সংরক্ষণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দিবসটি উপলক্ষে হাতিদের একত্র করে এ ধরনের ভোজের আয়োজন করে আসছে। এবার ছিল আয়োজনটির ১৫তম বছর।
বেসরকারি সাফারি পরিচালনাকারীদের উদ্যোগে গঠিত ইউনাইটেড এলিফ্যান্ট ম্যানেজমেন্ট কো-অপারেটিভ লিমিটেড বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।
সমবায়টির চেয়ারম্যান দীপেন্দ্র খাতিওয়াদা বলেন, হাতির সঙ্গে পর্যটন খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই সৌরাহা ও চিতওয়ানের বেসরকারি পর্যটন উদ্যোক্তারাও হাতি সংরক্ষণে যুক্ত হয়েছেন। প্রাণীর কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাতির সুস্থতা পর্যটন উদ্যোক্তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান।
ছিল নানা ফল ও স্থানীয় খাবার
হাতিদের জন্য আয়োজিত খাবারের তালিকায় ছিল ধান, ছোলা, গুড়, গাজর ও আখ। দেওয়া হয় গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্টি ভাত, তাদের নিয়মিত খাবার ‘কুচি’ এবং লবণও। পাশাপাশি ছিল আপেল, কলা, তরমুজ, ড্রাগন ফল, পেঁপে, পেয়ারা ও নাশপাতি।
স্থানীয় খাবারের মধ্যে ছিল কুমড়া, আনারস, কাঁচা ভুট্টা ও পাউরুটি। খাবারে সাজানো টেবিলের সামনে হাতিগুলো নিজেদের পছন্দের খাবার তুলে খেতে থাকে।
দর্শনার্থীদের ভিড়
ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে জড়ো হন। হাতিগুলোকে বিভিন্ন ফল ও খাবার খেতে দেখেন তারা।
চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের প্রধান সংরক্ষণ কর্মকর্তা দিল বাহাদুর পুরজা পুন একটি হাতিশাবককে ফল ও অন্যান্য খাবার খাইয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। বিশ্ব হাতি দিবসের এই আয়োজন হাতি, সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং পর্যটন খাতের পারস্পরিক সম্পর্ককেও সামনে নিয়ে আসে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















