তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, অনিয়মিত লোডশেডিং এবং দীর্ঘ সময়ের নির্ধারিত বিদ্যুৎ বন্ধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দারা। দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি তৈরি করছে।
লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ ট্রিপ করা ও অনিয়মিত লোডশেডিং বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জোহর টাউন, ইচরা, ওল্ড আনরাকলি, রহমানপুরা, গুলবার্গ, মুলতান রোড, ঠোকর নিয়াজ বেগ, চুবুরজি, বাতাপুরের আশপাশ, শাহদরা ও মাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন গ্রাহকেরা।
সন্ধ্যা হলেই বাড়ছে বিদ্যুতের সংকট
জোহর টাউনের এক বাসিন্দা জানান, গত কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যা ও রাতের দিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও অভিযোগ জানানোর পর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর।
অনেক এলাকায় নির্ধারিত কয়েক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের নামে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে রোববার এমন দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় বাসিন্দাদের অবসর সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
খায়াবান-ই-জিন্নাহ এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, কয়েক দিন ধরে সেখানে বারবার বিদ্যুৎ কমে যাওয়া ও ওঠানামার ঘটনা ঘটছে। এতে ঘরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অতিরিক্ত চাপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সন্ধ্যা ও রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে এই সময়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ছে।
দিনের বেলায় অনেক গ্রাহক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করায় বিদ্যুৎব্যবস্থা তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু সন্ধ্যায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার কমে গেলে গ্রাহকেরা আবার মূল বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেন। তখন চাহিদা বেড়ে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বাধ্যতামূলক লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।
চুরি প্রবণ এলাকায় বেশি লোডশেডিং
আরেক কর্মকর্তা জানান, বাতাপুর, মাঙ্গা এবং কাসুর জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে উচ্চ ক্ষতিসম্পন্ন সরবরাহ লাইনের নীতির সম্পর্ক রয়েছে।
যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা বেশি, সেসব এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত সরবরাহ লাইন হিসেবে বিবেচিত হয়। নীতিমালা অনুযায়ী এসব এলাকায় লোডশেডিং বেশি হওয়ার কথা বলে তিনি জানান।
তবে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন এবং বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িত নন—এমন গ্রাহকদের এলাকায় সর্বোচ্চ মানের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে অনেক এলাকা
হঠাৎ ত্রুটির কারণেও বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। কয়েক দিন আগে একটি এলাকার অতিরিক্ত চাপের কারণে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের যন্ত্র বিকল হয়ে যায়। এতে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে বহু বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। পরে প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করার পর সমস্যার সমাধান হয় বলে অভিযোগ করেছেন এক বাসিন্দা।
এদিকে বিদ্যুৎ চুরি ও বকেয়া বিল আদায়ে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাসুর অঞ্চলে পরিচালিত অভিযানে ছয়টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও সাতটি মিটার অপসারণ করা হয়েছে। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়। পাঁচজন বকেয়াদারের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ রুপি আদায় করা হয়েছে এবং বেশ কিছু বৈদ্যুতিক তারও জব্দ করা হয়েছে।
গরমের মধ্যে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে
প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় লাহোরের মানুষের দৈনন্দিন জীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়ায় শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ পরিবারের ভোগান্তি আরও তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ ওঠানামায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
তীব্র আবহাওয়ার মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















