০৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন অধ্যায়, বৈশ্বিক প্রভাব বাড়াতে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ঘোষণা ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯৯৪ জন হামে আক্রান্তের মৃত্যু ৯৩৮, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু পাকিস্তানে রাজস্বভিত্তিক ফেডারেল ব্যবস্থা ও স্থানীয় ক্ষমতা হস্তান্তর জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়ন ০.৬৯ শতাংশ, বাড়েনি গতি ত্রিপুরার ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫০ হেক্টর জমি প্লাবিত, পানিবন্দি ৪০ পরিবার তারেক রহমানই ‘আমাদের নজরুল’: সংসদীয় চিফ হুইপ মনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পররাষ্ট্রনীতিতে সাফল্যের সংকটে ট্রাম্প বাঁধাকপি সতেজ রাখতে ফরমালডিহাইড ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্তে চীন দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের সেই ফুটবল বিক্রি হলো ২৫ লাখ পাউন্ডে

চরমপন্থার ক্ষত থেকে সম্প্রীতির শিক্ষা: ট্রাম্পের আমলে ওকলাহোমার ভিন্ন রাজনৈতিক পথ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন যখন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তখন ওকলাহোমা রাজ্যের কিছু রাজনৈতিক নেতা দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে সহনশীলতা ও রাজনৈতিক সৌজন্যের উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এর পেছনে রয়েছে প্রায় তিন দশক আগের এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার স্মৃতি, যা রাজ্যটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর ছাপ ফেলেছে।

ওকলাহোমার রাজনৈতিক সৌজন্যের চর্চা

রিপাবলিকান নেতা ডেভিড হল্ট, ওকলাহোমা সিটির মেয়র এবং রিপাবলিকান গভর্নর কেভিন স্টিট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যথাক্রমে মেয়র ও গভর্নরদের জাতীয় সংগঠনের নেতৃত্ব ছেড়েছেন। তাদের নেতৃত্বে এসব সংগঠনের সভায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতাদের একসঙ্গে হাত মেলাতে, আলিঙ্গন করতে এবং অতিরিক্ত দলীয় রাজনীতির বিপদ নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে।

দুই নেতাই নিজ নিজ দলের বাইরে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তারা সব বিষয়ে একমত নন এবং প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্থানীয় ও রাজ্য সরকার পরিচালনায় বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে যে ধরনের বাস্তববাদ প্রয়োজন, কংগ্রেসের রাজনীতিতে সবসময় তার একই প্রয়োজন পড়ে না।

১৯৯৫-এর বিস্ফোরণের স্মৃতি

এই রাজনৈতিক অবস্থানের পেছনে ওকলাহোমার ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৫ সালের ১৯ এপ্রিল টিমোথি ম্যাকভেই ওকলাহোমা সিটির কেন্দ্রস্থলে একটি ফেডারেল ভবনে বোমা হামলা চালান। এতে প্রায় ১৭০ জন নিহত হন। হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে স্মরণ করা হয়।

সেসময় হল্ট ছিলেন উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শ্রেণিকক্ষে টেলিভিশন এনে সরাসরি সংবাদ দেখানো হয়েছিল। হামলার পর আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, স্বজন এবং উদ্ধারকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পুরো সম্প্রদায়ের যে অভূতপূর্ব সংহতি তৈরি হয়েছিল, সেটিই পরে ‘ওকলাহোমা স্ট্যান্ডার্ড’ নামে পরিচিতি পায়।

হল্টের রাজনীতিতে সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও মানুষকে অমানবিকভাবে দেখার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যেতে পারে, ওকলাহোমা সিটির কেন্দ্রস্থলের স্মৃতিচিহ্নটি তার স্থায়ী সতর্কবার্তা।

অন্তর্ভুক্তির রাজনীতি

রিপাবলিকান হলেও হল্ট ওকলাহোমা সিটিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি শহরটির প্রথম এলজিবিটিকিউ প্রাইড সপ্তাহ ঘোষণা করেন এবং ২০২০ সালে জাতিগত ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। গত বছর বোমা হামলার স্মরণসভায় ২৩০ জন মেয়র রাজনৈতিক সহিংসতা প্রত্যাখ্যান এবং মার্কিন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে অঙ্গীকারের ঘোষণা দেন।

গভর্নর স্টিট তার এই অবস্থানকে ‘ওকলাহোমার সাধারণ বুদ্ধিবোধ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, কঠোর ভাষার চেয়ে সৌজন্য ও সহযোগিতা মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে বেশি কার্যকর।Oklahoma leaders ask Trump administration to cut federal strings on  education funds • Oklahoma Voice

ট্রাম্পের যুগে ভিন্নমতের চর্চা

তবে দুই নেতাই স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আক্রমণাত্মক আচরণের প্রবণতা কাটানো কঠিন। ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিভাজন থাকলেও তারা নিজেদের আচরণের মাধ্যমে ভিন্ন উদাহরণ তৈরি করতে চান। সবসময় যে সফল হন, তা নয়। চলতি মাসে গভর্নরদের জাতীয় সংগঠনের এক সম্মেলনে স্টিট ক্যালিফোর্নিয়ার সমালোচনা করার পরপরই নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

হল্ট দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বন্ধ প্রাথমিক নির্বাচন ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার পক্ষে। তার ধারণা, এতে অতিরিক্ত চরমপন্থী প্রার্থীদের মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ কমতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণার ফল একমুখী নয়।

অন্যদিকে স্টিট আরও বেশি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ক্ষমতা এবং ছোট কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য কয়েকজন রিপাবলিকান গভর্নরও ‘ওকলাহোমা স্ট্যান্ডার্ড’-এর নাগরিক মূল্যবোধের প্রশংসা করেছেন।

স্মৃতি থেকে ভবিষ্যতের শিক্ষা

ওকলাহোমা সিটির স্মৃতিসৌধের বাইরে একটি বেড়ায় এখনো হামলায় নিহতদের স্বজনরা ফুল, ছবি ও চিঠি রেখে যান। নিহতদের একজনের ছেলে কাইল জেনজার প্রতি বছর সেখানে তার মায়ের উদ্দেশে চিঠি লেখেন। তার বিশ্বাস, হামলার স্মৃতি ধরে রাখা শুধু নিহতদের সম্মান জানানোর বিষয় নয়; জীবিতদেরও মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনো ঘৃণায় পরিণত হওয়া উচিত নয়।

ওকলাহোমার অভিজ্ঞতা তাই শুধু একটি রাজ্যের স্মৃতি নয়; চরম রাজনৈতিক বিভাজনের সময়ে সহনশীলতা, মানবিকতা ও রাজনৈতিক সৌজন্যের প্রয়োজনীয়তারও একটি উদাহরণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন অধ্যায়, বৈশ্বিক প্রভাব বাড়াতে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ঘোষণা

চরমপন্থার ক্ষত থেকে সম্প্রীতির শিক্ষা: ট্রাম্পের আমলে ওকলাহোমার ভিন্ন রাজনৈতিক পথ

০৫:০৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন যখন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তখন ওকলাহোমা রাজ্যের কিছু রাজনৈতিক নেতা দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে সহনশীলতা ও রাজনৈতিক সৌজন্যের উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এর পেছনে রয়েছে প্রায় তিন দশক আগের এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার স্মৃতি, যা রাজ্যটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর ছাপ ফেলেছে।

ওকলাহোমার রাজনৈতিক সৌজন্যের চর্চা

রিপাবলিকান নেতা ডেভিড হল্ট, ওকলাহোমা সিটির মেয়র এবং রিপাবলিকান গভর্নর কেভিন স্টিট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যথাক্রমে মেয়র ও গভর্নরদের জাতীয় সংগঠনের নেতৃত্ব ছেড়েছেন। তাদের নেতৃত্বে এসব সংগঠনের সভায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতাদের একসঙ্গে হাত মেলাতে, আলিঙ্গন করতে এবং অতিরিক্ত দলীয় রাজনীতির বিপদ নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে।

দুই নেতাই নিজ নিজ দলের বাইরে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তারা সব বিষয়ে একমত নন এবং প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্থানীয় ও রাজ্য সরকার পরিচালনায় বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে যে ধরনের বাস্তববাদ প্রয়োজন, কংগ্রেসের রাজনীতিতে সবসময় তার একই প্রয়োজন পড়ে না।

১৯৯৫-এর বিস্ফোরণের স্মৃতি

এই রাজনৈতিক অবস্থানের পেছনে ওকলাহোমার ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৫ সালের ১৯ এপ্রিল টিমোথি ম্যাকভেই ওকলাহোমা সিটির কেন্দ্রস্থলে একটি ফেডারেল ভবনে বোমা হামলা চালান। এতে প্রায় ১৭০ জন নিহত হন। হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে স্মরণ করা হয়।

সেসময় হল্ট ছিলেন উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শ্রেণিকক্ষে টেলিভিশন এনে সরাসরি সংবাদ দেখানো হয়েছিল। হামলার পর আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, স্বজন এবং উদ্ধারকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পুরো সম্প্রদায়ের যে অভূতপূর্ব সংহতি তৈরি হয়েছিল, সেটিই পরে ‘ওকলাহোমা স্ট্যান্ডার্ড’ নামে পরিচিতি পায়।

হল্টের রাজনীতিতে সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও মানুষকে অমানবিকভাবে দেখার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যেতে পারে, ওকলাহোমা সিটির কেন্দ্রস্থলের স্মৃতিচিহ্নটি তার স্থায়ী সতর্কবার্তা।

অন্তর্ভুক্তির রাজনীতি

রিপাবলিকান হলেও হল্ট ওকলাহোমা সিটিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি শহরটির প্রথম এলজিবিটিকিউ প্রাইড সপ্তাহ ঘোষণা করেন এবং ২০২০ সালে জাতিগত ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। গত বছর বোমা হামলার স্মরণসভায় ২৩০ জন মেয়র রাজনৈতিক সহিংসতা প্রত্যাখ্যান এবং মার্কিন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে অঙ্গীকারের ঘোষণা দেন।

গভর্নর স্টিট তার এই অবস্থানকে ‘ওকলাহোমার সাধারণ বুদ্ধিবোধ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, কঠোর ভাষার চেয়ে সৌজন্য ও সহযোগিতা মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে বেশি কার্যকর।Oklahoma leaders ask Trump administration to cut federal strings on  education funds • Oklahoma Voice

ট্রাম্পের যুগে ভিন্নমতের চর্চা

তবে দুই নেতাই স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আক্রমণাত্মক আচরণের প্রবণতা কাটানো কঠিন। ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিভাজন থাকলেও তারা নিজেদের আচরণের মাধ্যমে ভিন্ন উদাহরণ তৈরি করতে চান। সবসময় যে সফল হন, তা নয়। চলতি মাসে গভর্নরদের জাতীয় সংগঠনের এক সম্মেলনে স্টিট ক্যালিফোর্নিয়ার সমালোচনা করার পরপরই নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

হল্ট দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বন্ধ প্রাথমিক নির্বাচন ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার পক্ষে। তার ধারণা, এতে অতিরিক্ত চরমপন্থী প্রার্থীদের মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ কমতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণার ফল একমুখী নয়।

অন্যদিকে স্টিট আরও বেশি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ক্ষমতা এবং ছোট কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য কয়েকজন রিপাবলিকান গভর্নরও ‘ওকলাহোমা স্ট্যান্ডার্ড’-এর নাগরিক মূল্যবোধের প্রশংসা করেছেন।

স্মৃতি থেকে ভবিষ্যতের শিক্ষা

ওকলাহোমা সিটির স্মৃতিসৌধের বাইরে একটি বেড়ায় এখনো হামলায় নিহতদের স্বজনরা ফুল, ছবি ও চিঠি রেখে যান। নিহতদের একজনের ছেলে কাইল জেনজার প্রতি বছর সেখানে তার মায়ের উদ্দেশে চিঠি লেখেন। তার বিশ্বাস, হামলার স্মৃতি ধরে রাখা শুধু নিহতদের সম্মান জানানোর বিষয় নয়; জীবিতদেরও মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনো ঘৃণায় পরিণত হওয়া উচিত নয়।

ওকলাহোমার অভিজ্ঞতা তাই শুধু একটি রাজ্যের স্মৃতি নয়; চরম রাজনৈতিক বিভাজনের সময়ে সহনশীলতা, মানবিকতা ও রাজনৈতিক সৌজন্যের প্রয়োজনীয়তারও একটি উদাহরণ।