নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর এবার নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির একটি নদীর মিলনস্থলের কাছে বড় একটি প্রাকৃতিক বাঁধে আটকে তৈরি হয়েছে হ্রদ। চীনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, হ্রদটি ইতিমধ্যে উপচে পড়ছে এবং আগামী কয়েক দিনে আরও পানি জমলে বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
হ্রদে জমেছে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নতুন তৈরি হওয়া হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি সেখানে প্রবেশ করতে পারে। এতে হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
হ্রদটি নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। বাঁধ ভেঙে গেলে পানির সম্ভাব্য গতিপথ ও ক্ষয়ক্ষতি বোঝার জন্য বন্যার বিভিন্ন পরিস্থিতির অনুকরণ করে বিশ্লেষণও চালানো হচ্ছে।
তিব্বত থেকে নেপালে প্রবাহ
ছোটচেন ও পুরেপু নদীর উৎপত্তি তিব্বতে। দুটি নদী একত্রিত হয়ে নেপালে প্রবেশ করার পর স্থানীয়ভাবে ভোতেকোশি নামে পরিচিত। ভোতেকোশি নদী ত্রিশূলী নদীর ওপরের দিকের অন্যতম প্রধান শাখা।
নতুন হ্রদটি ভেঙে গেলে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে যেতে পারে। এতে নদী অববাহিকার জনবসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ভয়াবহ বন্যার এক দিন পর নতুন সতর্কতা
এই সতর্কতা এসেছে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার মাত্র এক দিন পর। বুধবার সকালে রাসুয়া জেলার ভোতেকোশি নদীতে শক্তিশালী পানির ঢল নামে। এতে তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশীসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
প্রবল স্রোতে সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সেই পানির প্রবাহ ত্রিশূলী নদীর দিকে নেমে যায়। বন্যার পর থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। নদীর নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এখন পর্যন্ত মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতায় নতুন শঙ্কা
বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়কে চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন হ্রদের সম্ভাব্য বাঁধভাঙনের আশঙ্কা উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদের পানি ও নদীর গতিপ্রকৃতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলপ্রবাহের বিশ্লেষণ এবং জরুরি উদ্ধার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
নেপালের জন্য সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, নতুন এই প্রাকৃতিক বাঁধ হঠাৎ ভেঙে গেলে আগের বন্যার ক্ষত শুকানোর আগেই নদীপথের নিম্নাঞ্চলে আবারও ভয়াবহ পানির ঢল নামতে পারে।
নেপালে নতুন হ্রদ তৈরি হয়ে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে; চীনের সতর্কতায় ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় নতুন বিপদের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















