নেপালে বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ভোটেকোশি নদী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৫৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্যোগের পর কয়েকটি জেলায় একযোগে চলছে উদ্ধার, তল্লাশি ও ত্রাণ কার্যক্রম। এখনও ৯১০ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ)-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রাসুয়া থেকে দুটি, নুয়াকোট থেকে ১২টি, ধাদিং থেকে ২৭টি, গোরখা থেকে ২০টি, চিতওয়ান থেকে ১০৮টি, তানাহুন থেকে ১২টি, নাওয়ালপরাসি ইস্ট থেকে ৬৩টি এবং নাওয়ালপরাসি ওয়েস্ট থেকে ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় মোট ১৩ হাজার ২৯৫ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নেপাল পুলিশ, নেপালি সেনাবাহিনী ও আর্মড পুলিশ ফোর্সের ৭ হাজার ২৫০ জন সদস্য মোতায়েনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষের দেওয়া পৃথক সংখ্যাগুলোতে অসঙ্গতি রয়েছে। নেপাল পুলিশের ৭২৫ জন, নেপালি সেনাবাহিনীর ৪ হাজার ২০০ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ১ হাজার ৮৪৫ জন সদস্যের হিসাব যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭৭০ জন। ফলে মোট মোতায়েনের ১৩ হাজার ২৯৫ জনের হিসাবটি আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
হেলিকপ্টারে উদ্ধার ৩৫১ জন
দুর্যোগের দিন বুধবার আক্রান্ত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার ৬৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। এসব অভিযানে মোট ৩৫১ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মচারী
এনডিআরআরএমএর হিসাব অনুযায়ী, এখনও নিখোঁজ ৯১০ জনের মধ্যে নেপাল পুলিশের ২৮ জন, নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৪ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া কাস্টমস অফিসের ১৫ জন এবং ইমিগ্রেশন অফিসের চারজন কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন।
রাসুয়া জেলার ১৬১ জন এবং নুয়াকোটের একজনেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের তালিকায় বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। দুর্যোগের সময় নেপালে অবস্থানরত ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এবং বিদেশে বসবাসরত ১২৭ জন নেপালি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















