১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র জিন কেটে চিরতরে উচ্চ কোলেস্টেরল দূর করার আশায় বিজ্ঞানীরা

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্কদের মধ্যে আরএসভি সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তির হার স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ গুণ বেশি

শিশুদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি বয়স্কদের মধ্যেও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণজনিত ভাইরাস আরএসভি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

মৌসুমের শুরুতেই অস্বাভাবিক হারে হাসপাতালে ভর্তি

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি মৌসুমে প্রতি এক লাখ বয়স্ক মানুষের মধ্যে প্রায় ছয়জন আরএসভি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শিশুদের তুলনায় এই হার কম হলেও বছরের এই সময়ে এটি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। করোনা মহামারির আগের বছরগুলোতে একই সময়ে বয়স্কদের হাসপাতালে ভর্তির হার ছিল প্রায় ১০ গুণ কম।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর শিশুদের মধ্যে আরএসভি বাড়লেও বয়স্কদের হাসপাতালে ভর্তির হার ততটা বাড়েনি। এর অন্যতম কারণ ছিল বয়স্কদের মধ্যে মুখে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্বের মতো সতর্কতা বেশি থাকা। কিন্তু এখন এসব সতর্কতা কমে যাওয়ায় বয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণও বাড়ছে।

বয়স্কদের মধ্যে আরএসভি অনেক সময় শনাক্তই হয় না

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরএসভি সাধারণত শিশুদের রোগ হিসেবেই বেশি পরিচিত। ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের অসুস্থতার ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের কথা অনেক সময় বিবেচনাতেই আসে না। পরীক্ষা না করলে একজন ব্যক্তি আসলে কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রে আরএসভি সংক্রমণের হিসাবও করোনার তুলনায় অনেক কম বিস্তৃতভাবে সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক আরএসভি সংক্রমণে মারা যান। হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় প্রায় দেড় লাখ মানুষকে।

সাধারণ সর্দি থেকে নিউমোনিয়াও হতে পারে

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আরএসভির উপসর্গ অনেকটা সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো। নাক দিয়ে পানি পড়া, ক্ষুধা কমে যাওয়া, কাশি, হাঁচি, জ্বর ও শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়া—এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল পান করলে উপসর্গ কমে যায়।

তবে বয়স্ক বা শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংক্রমণের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুনালিতে প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র বা বয়স্কদের আবাসনেও ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ সেবনকারীদের ঝুঁকি বেশি।

এ ছাড়া হাঁপানি, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ বা হৃদ্‌যন্ত্রের দুর্বলতার মতো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরাও আরএসভিতে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।Researchers note high burden of RSV on older US adults before vaccine availability | CIDRAP

শিশুদের কাছ থেকেও ছড়াতে পারে

আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে আরএসভি ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রের ক্ষুদ্র কণা দরজার হাতল, টেবিল বা অন্য কোনো পৃষ্ঠে পড়ার পর সেটি স্পর্শ করে মুখে হাত দিলেও সংক্রমণ হতে পারে।

শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি থাকায় তাদের সংস্পর্শে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদেরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আবার অনেক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে উপসর্গ তুলনামূলক হালকা হওয়ায় তারা বুঝতেই পারেন না যে তারা ভাইরাসটি বহন করছেন। ফলে কর্মস্থল, যানবাহন কিংবা অন্যান্য জনসমাগমের জায়গায় গিয়ে অজান্তেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারেন।

উপসর্গ দেখা দিলে কী করবেন

কাশি বা আরএসভির মতো উপসর্গ দেখা দিলে এবং ব্যক্তি যদি উচ্চঝুঁকির মধ্যে থাকেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরীক্ষার মাধ্যমে আরএসভি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আলাদা করা সম্ভব।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনাভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাস ওষুধ থাকলেও আরএসভির জন্য তখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাস চিকিৎসা ছিল না। তাই আরএসভির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান, বিশ্রাম নেওয়া এবং অন্যদের থেকে দূরে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বাড়ির অন্যদের কাছাকাছি থাকলে মাস্ক ব্যবহার করাও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি

কাশির সঙ্গে শ্বাস নেওয়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া বা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হতে পারে, প্রয়োজনে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাও দরকার হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে অতিরিক্ত অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

তখন আরএসভির প্রতিরোধে টিকা সহজলভ্য ছিল না। তবে বিভিন্ন বয়সী মানুষের জন্য টিকা তৈরির গবেষণা চলছিল এবং ভবিষ্যতে এর পরিবর্তনের সম্ভাবনা ছিল।

সতর্কতাই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আরএসভির সংক্রমণ বাড়ার সময়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, বিভিন্ন পৃষ্ঠ পরিষ্কার রাখা এবং ভিড়ের জায়গায় মাস্ক ব্যবহার করা উপকারী। বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের অসুস্থ শিশুদের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংক্রমণের চিকিৎসার সুযোগ সীমিত থাকায় আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্কদের মধ্যে আরএসভি সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তির হার স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ গুণ বেশি

০৭:৩০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

শিশুদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি বয়স্কদের মধ্যেও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণজনিত ভাইরাস আরএসভি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

মৌসুমের শুরুতেই অস্বাভাবিক হারে হাসপাতালে ভর্তি

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি মৌসুমে প্রতি এক লাখ বয়স্ক মানুষের মধ্যে প্রায় ছয়জন আরএসভি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শিশুদের তুলনায় এই হার কম হলেও বছরের এই সময়ে এটি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। করোনা মহামারির আগের বছরগুলোতে একই সময়ে বয়স্কদের হাসপাতালে ভর্তির হার ছিল প্রায় ১০ গুণ কম।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর শিশুদের মধ্যে আরএসভি বাড়লেও বয়স্কদের হাসপাতালে ভর্তির হার ততটা বাড়েনি। এর অন্যতম কারণ ছিল বয়স্কদের মধ্যে মুখে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্বের মতো সতর্কতা বেশি থাকা। কিন্তু এখন এসব সতর্কতা কমে যাওয়ায় বয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণও বাড়ছে।

বয়স্কদের মধ্যে আরএসভি অনেক সময় শনাক্তই হয় না

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরএসভি সাধারণত শিশুদের রোগ হিসেবেই বেশি পরিচিত। ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের অসুস্থতার ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের কথা অনেক সময় বিবেচনাতেই আসে না। পরীক্ষা না করলে একজন ব্যক্তি আসলে কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রে আরএসভি সংক্রমণের হিসাবও করোনার তুলনায় অনেক কম বিস্তৃতভাবে সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক আরএসভি সংক্রমণে মারা যান। হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় প্রায় দেড় লাখ মানুষকে।

সাধারণ সর্দি থেকে নিউমোনিয়াও হতে পারে

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আরএসভির উপসর্গ অনেকটা সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো। নাক দিয়ে পানি পড়া, ক্ষুধা কমে যাওয়া, কাশি, হাঁচি, জ্বর ও শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়া—এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল পান করলে উপসর্গ কমে যায়।

তবে বয়স্ক বা শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংক্রমণের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুনালিতে প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র বা বয়স্কদের আবাসনেও ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ সেবনকারীদের ঝুঁকি বেশি।

এ ছাড়া হাঁপানি, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ বা হৃদ্‌যন্ত্রের দুর্বলতার মতো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরাও আরএসভিতে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।Researchers note high burden of RSV on older US adults before vaccine availability | CIDRAP

শিশুদের কাছ থেকেও ছড়াতে পারে

আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে আরএসভি ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রের ক্ষুদ্র কণা দরজার হাতল, টেবিল বা অন্য কোনো পৃষ্ঠে পড়ার পর সেটি স্পর্শ করে মুখে হাত দিলেও সংক্রমণ হতে পারে।

শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি থাকায় তাদের সংস্পর্শে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদেরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আবার অনেক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে উপসর্গ তুলনামূলক হালকা হওয়ায় তারা বুঝতেই পারেন না যে তারা ভাইরাসটি বহন করছেন। ফলে কর্মস্থল, যানবাহন কিংবা অন্যান্য জনসমাগমের জায়গায় গিয়ে অজান্তেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারেন।

উপসর্গ দেখা দিলে কী করবেন

কাশি বা আরএসভির মতো উপসর্গ দেখা দিলে এবং ব্যক্তি যদি উচ্চঝুঁকির মধ্যে থাকেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরীক্ষার মাধ্যমে আরএসভি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আলাদা করা সম্ভব।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনাভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাস ওষুধ থাকলেও আরএসভির জন্য তখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাস চিকিৎসা ছিল না। তাই আরএসভির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান, বিশ্রাম নেওয়া এবং অন্যদের থেকে দূরে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বাড়ির অন্যদের কাছাকাছি থাকলে মাস্ক ব্যবহার করাও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি

কাশির সঙ্গে শ্বাস নেওয়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া বা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হতে পারে, প্রয়োজনে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাও দরকার হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে অতিরিক্ত অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

তখন আরএসভির প্রতিরোধে টিকা সহজলভ্য ছিল না। তবে বিভিন্ন বয়সী মানুষের জন্য টিকা তৈরির গবেষণা চলছিল এবং ভবিষ্যতে এর পরিবর্তনের সম্ভাবনা ছিল।

সতর্কতাই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আরএসভির সংক্রমণ বাড়ার সময়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, বিভিন্ন পৃষ্ঠ পরিষ্কার রাখা এবং ভিড়ের জায়গায় মাস্ক ব্যবহার করা উপকারী। বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের অসুস্থ শিশুদের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংক্রমণের চিকিৎসার সুযোগ সীমিত থাকায় আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।