পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরাট জেলার ডিঙ্গা শহরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পুকুরসদৃশ জলাশয় থেকে এক নারী, তাঁর দুই বছরের মেয়ে ও ১৫ বছর বয়সী বোনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বজনকে মৃত্যুসংবাদ দিতে বেরিয়ে নিখোঁজ
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাই দা ডেরা মহল্লার বাসিন্দা শওকত আলীর ২১ বছর বয়সী মেয়ে আরুজ ফাতিমা, তাঁর দুই বছরের মেয়ে রাকু ফাতিমা এবং ১৫ বছর বয়সী বোন হালিমা সাদিয়া বাড়ি থেকে বের হন। তাঁদের গন্তব্য ছিল চারগাহ লোকড়ি এলাকার আরুজের শ্বশুরবাড়ি।
পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ স্বজনের মৃত্যুর খবর জানাতেই তাঁরা সেখানে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে তাঁরা পৌঁছাননি, আবার বাড়িতেও ফিরে আসেননি।
পরে শওকত আলী ডিঙ্গা থানায় অভিযোগ করেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, অজ্ঞাতপরিচয় কেউ হয়তো তিনজনকে অপহরণ করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
বৃষ্টির পানিতে তৈরি জলাশয় থেকে উদ্ধার
পরদিন ডিঙ্গা উদ্ধারকারী সংস্থাকে একটি জলাশয়ে মরদেহ পড়ে থাকার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, জায়গাটি মূলত একটি খোলা মাঠ ছিল। টানা বৃষ্টির পানি জমে সেটি সাময়িকভাবে পুকুরের মতো জলাশয়ে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকেই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য খারিয়ান তহসিল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাঞ্জাব ফরেনসিক বিজ্ঞান সংস্থার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ
গুজরাট জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল শাহজাদ, তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা হাফিজ ইমতিয়াজ আহমেদ, খারিয়ানের সহকারী কমিশনার আহমেদ শায়েরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডিঙ্গায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। তদন্তের প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা বের করার আশ্বাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবে তিনজনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















