বিশ্ব অর্থনীতির যে কাঠামোকে আমরা এতদিন স্থায়ী বলে ধরে নিয়েছিলাম, তার ভিত্তি এখন নড়বড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল দর্শন ছিল তুলনামূলক সুবিধার ভিত্তিতে বাণিজ্য, বহুপাক্ষিক নিয়ম এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই কাঠামোর জায়গায় ক্রমশ এমন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক শক্তি এবং কৌশলগত সক্ষমতা বাণিজ্যনীতিকে পরিচালিত করছে।
২০২৫ সালে নতুন মার্কিন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হয়েছে। শুল্ক এখন শুধু রাজস্ব আদায়ের মাধ্যম নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার। শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সেমিকন্ডাক্টর কিংবা উন্নত প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারও হয়ে উঠেছে কৌশলগত অস্ত্র। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, নৌপথ ও সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা কখন আরোপ করা হবে, কখন তুলে নেওয়া হবে—সেটিও অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করছে দর-কষাকষির ওপর।
অর্থাৎ অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাকে আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। একটি দেশের শক্তি এখন নির্ধারিত হচ্ছে তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামরিক শক্তি, পারমাণবিক ক্ষমতা, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় তার প্রভাবের সমন্বয়ে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে ভারতের শিল্পখাতের জন্য বড় একটি প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে: পুরোনো পদ্ধতিতে ব্যবসা করে কি নতুন বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব?
উত্তরটি স্পষ্টতই না।
ভারতীয় শিল্পকে তাই এখনই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। কারণ নতুন বিশ্বব্যবস্থা একদিকে পুরোনো সুবিধাগুলো কেড়ে নিতে পারে, অন্যদিকে যারা দ্রুত নিজেদের বদলাতে পারবে তাদের সামনে বিশাল বাজারও খুলে দিতে পারে।
সুরক্ষার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা শিল্প
ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক চরিত্র বুঝতে হলে স্বাধীনতার পরের সময়টিতে ফিরে তাকাতে হয়। স্বাধীনতার সময় বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মতো ভারতও সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার গ্রহণ করেছিল। ফলে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও কল্যাণের দাবি রাষ্ট্রীয় নীতিতে বড় ভূমিকা পায়।
ভর্তুকি, সহায়ক মূল্য এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুবিধা ধীরে ধীরে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে শিল্পকে দেওয়া হয় ব্যাপক সুরক্ষা। উচ্চ শুল্কের দেয়াল বিদেশি প্রতিযোগিতা থেকে দেশীয় উৎপাদকদের রক্ষা করেছিল। এর ফলে ভারতীয় ভোক্তা অনেক ক্ষেত্রে সীমিত বিকল্পের বাজারে পরিণত হয়।
এই ব্যবস্থার একটি বড় ক্ষতি ছিল প্রতিযোগিতার চাপ কমে যাওয়া। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লড়াই করতে না হলে পণ্যের মান বাড়ানো, উৎপাদন খরচ কমানো কিংবা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রয়োজনও কমে যায়। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগের প্রবণতা তাই শক্তিশালী হয়নি।
জওহরলাল নেহরুর রাষ্ট্রনির্ভর শিল্পনীতির পরবর্তী বিকাশ শেষ পর্যন্ত লাইসেন্স রাজে গিয়ে দাঁড়ায়। কোনো প্রতিষ্ঠান কতটা উৎপাদন করবে, কোন পণ্য তৈরি করবে কিংবা উৎপাদন সক্ষমতা কতটা বাড়াবে—এসব সিদ্ধান্তেও সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন হতো। ব্যাংকিং, বিমা, তেল ও গ্যাস, ইস্পাত, কয়লা, টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুৎসহ অর্থনীতির বিস্তৃত অংশে রাষ্ট্র সরাসরি ব্যবসায়ী হিসেবেও উপস্থিত ছিল।
এমন ব্যবস্থায় অদক্ষতা বাড়া এবং প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়া ছিল প্রায় অনিবার্য। সরকারি ব্যয়ও ক্রমে বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের বৈদেশিক মুদ্রা সংকট পুরোনো অর্থনৈতিক কাঠামোর অসংগতিগুলোকে আর আড়াল করে রাখতে পারেনি।
১৯৯১ সালের সংস্কার বদলে দিল গতিপথ
সংকটের পর ১৯৯১ সালে ভারত বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটে। রুপির অবমূল্যায়ন, শুল্ক হ্রাস, মূল্যব্যবস্থার কিছুটা উদারীকরণ এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার ফলে অর্থনীতির ওপর থেকে বহু পুরোনো বাধা সরে যায়।
এর ফলও দ্রুত দেখা যায়। ভারতের প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। কিন্তু সংস্কার অর্থনীতির গতিপথ বদলালেও তার মৌলিক কাঠামো পুরোপুরি পাল্টাতে পারেনি।
অবকাঠামোর দুর্বলতা ছিল বড় বাধা। ২০০০ সালের পর পরিষেবা খাতের রপ্তানি এবং প্রবাসী ভারতীয়দের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে ওঠে। এর ফলে তেল, গ্যাস ও সোনার মতো পণ্যের আমদানিনির্ভরতা সত্ত্বেও তুলনামূলকভাবে সীমিত চলতি হিসাব ঘাটতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল।
এই মডেল ভারতকে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দিয়েছে, কিন্তু বিশ্বমানের উৎপাদনশীল শিল্পশক্তিতে পরিণত করতে পারেনি।
অবকাঠামোতে অগ্রগতি, শিল্পে এখনও ঘাটতি
২০১৪ সালের পর পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। সরকার অবকাঠামোকে প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে বিনিয়োগ বাড়ায়। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ১০০টি বিমানবন্দর, ২১০ গিগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং রেল ও বন্দর অবকাঠামোর সম্প্রসারণ ঘটে। একই সময়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি স্বল্পমূল্যের বাড়ি নির্মাণ করা হয়।
গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স এবং দেউলিয়া ও দেউলিয়াত্ব সংক্রান্ত আইনও ব্যবসার পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। আধার, মোবাইল যোগাযোগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর ব্যাপক বিস্তার ভারতের অর্থনীতিকে আরও সংযুক্ত করে। ডিজিটাল পেমেন্ট ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ভারত একটি শক্তিশালী নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
এসব অর্জন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানেই আত্মতুষ্টির বিপদ।
কারণ অর্থনীতির মৌলিক মডেল এখনো পুরোপুরি বদলায়নি। শিল্প সুরক্ষায় শুল্ক এখনো যথেষ্ট বেশি। গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় এখনও অপ্রতুল। অনেক ভারতীয় পণ্য বৈশ্বিক মানের সঙ্গে পুরোপুরি পাল্লা দিতে পারে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতীয় ব্যবসার বড় অংশ এখনো দেশের বিশাল ভোক্তা বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
এর ফলও স্পষ্ট। গত কয়েক দশকে ভারতের বৈশ্বিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি হলেও আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী ভোক্তা ব্র্যান্ড তৈরির সাফল্য সীমিত। একই সময়ে জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অংশও প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি।
আত্মনির্ভরতা মানে দরজা বন্ধ করা নয়
নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভারতের জন্য আত্মনির্ভরতার অর্থও নতুন করে ভাবতে হবে। আত্মনির্ভরতা যদি বিদেশি প্রতিযোগিতা ঠেকানোর আরেক নাম হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জন্য লাভজনক হবে না।
বরং আত্মনির্ভরতার অর্থ হওয়া উচিত এমন সক্ষমতা তৈরি করা, যাতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আমদানিনির্ভর না থাকে এবং একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
এই চিন্তা থেকেই উন্নত উৎপাদন খাতে উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা, ডেটা সেন্টারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা, সমুদ্রে তেল অনুসন্ধানের অনুমতি এবং গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য তহবিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভারত বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার পথও বেছে নিয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তারই প্রমাণ। এসব চুক্তি ভারতের রপ্তানিকারকদের নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে।
কিন্তু সুযোগের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও আসবে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠান যেমন ভারতের বাজারে প্রবেশ করবে, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তেমন বিদেশি বাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। তাই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি ভারতীয় শিল্পের সক্ষমতার পরীক্ষাও হবে।
প্রতিযোগিতার জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ জরুরি
নতুন বিশ্ব অর্থনীতিতে সফল হওয়ার জন্য ভারতীয় শিল্পের সামনে তিনটি পথ থাকবে—উন্নত মান, উন্নত পরিষেবা অথবা কম উৎপাদন ব্যয়। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এই তিনটির কোনোটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যেতে না পারে, তাহলে শুধু দেশীয় সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন টিকে থাকা কঠিন হবে।
এই কারণেই গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় বাড়ানো এখন আর ঐচ্ছিক বিষয় নয়। এটি শিল্পনীতির কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
প্রতিটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকা বাজারকে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে, কোথায় ভারতীয় উৎপাদকদের মূল্যগত সুবিধা আছে, কোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং কোন বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করা সম্ভব—এসব প্রশ্নের উত্তর ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হতে হবে।
একই সঙ্গে মেধাবী কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে উৎকর্ষ অর্জনের জন্য ভারতে বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং উন্নত উৎপাদনের মতো খাতে নিজস্ব গবেষণা ও দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা ছাড়া ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা কঠিন হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দরকার শিল্পের মানসিকতায়। কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করা হয়তো স্বল্পমেয়াদে কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে চাইলে শিল্পের প্রয়োজন মানসম্মত উপকরণ, সাশ্রয়ী ইনপুট এবং দক্ষ সরবরাহব্যবস্থা।
তাই সুরক্ষার দাবি নয়, সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি হওয়া উচিত ভারতীয় শিল্পের প্রধান অবস্থান।
সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে
ভারতের সামনে এখন একটি বিরল সুযোগ রয়েছে। অর্থনীতি আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। করপোরেট খাত ও ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থানও দৃঢ়। দেশের উদ্যোক্তা শ্রেণির সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহের কারণ নেই।
কিন্তু এসব শক্তি তখনই কাজে আসবে, যখন ভারতীয় শিল্প পুরোনো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসবে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগে শিল্পের হাতে প্রস্তুতির জন্য প্রায় তিন বছর রয়েছে। এই সময়কে সুরক্ষা বাড়ানোর জন্য নয়, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, গবেষণা শক্তিশালী করা এবং বৈশ্বিক মান অর্জনের জন্য ব্যবহার করতে হবে।
পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে—এ বাস্তবতা মেনে নেওয়া এখন জরুরি। সামনে এমন একটি পৃথিবী, যেখানে অর্থনৈতিক শক্তি নিজেই কৌশলগত শক্তি। ভারতীয় শিল্প যদি এই পরিবর্তনকে বুঝে দ্রুত নিজেদের রূপান্তর করতে পারে, তাহলে বর্তমান অস্থিরতা তাদের জন্য বড় সুযোগে পরিণত হতে পারে।
কিন্তু যদি পুরোনো সুরক্ষা, সীমিত প্রতিযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করেই চলতে থাকে, তাহলে নতুন বিশ্বব্যবস্থায় সেই আত্মতুষ্টির মূল্যও দিতে হবে।
জনমেজয়া সিনহা, চেয়ারম্যান, বিসিজি ইন্ডিয়া।
জনমেজয়া সিনহা 


















