মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই কাঠামো এখনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট নয়। তবে ইরানকে এর সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হলে চুক্তিটির চরিত্র আমূল বদলে যেতে পারে। তখন এটি কয়েকটি দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ঘোষণার সীমা পেরিয়ে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
ইরানকে চুক্তিতে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, সেটি এখনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়নি। ইরানের পার্লামেন্টের সংবাদ সংস্থার প্রধান মেহদি রহিমি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি দেশটির নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে। তাঁর মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি যৌথ কাঠামো গড়ে ওঠা ইরানের জন্যও সাফল্যের বিষয় হতে পারে। কিন্তু পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, তেহরান কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি। তবে চুক্তির সদস্যদের সঙ্গে সম্মিলিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তাই আপাতত ইরানের সদস্যপদকে নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং এটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান যাচাইয়ের একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ বলেই মনে হচ্ছে। তারপরও এর তাৎপর্য রয়েছে। কারণ এতে ইঙ্গিত মিলছে, মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো জোট হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে ভবিষ্যতে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তির শক্তি ও সীমাবদ্ধতা
৭ আগস্ট সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতি হলো—এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
এই সমীকরণ কাগজে যথেষ্ট শক্তিশালী। সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক সামর্থ্য ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব, তুরস্কের বড় সামরিক বাহিনী ও উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প এবং পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা ও পারমাণবিক সক্ষমতা—সব মিলিয়ে তিন দেশ একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতার সম্ভাবনা তৈরি করে।
কিন্তু একটি রাজনৈতিক ঘোষণা আর কার্যকর সামরিক জোট এক নয়। কোনো সংকটে সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে, আক্রান্ত সদস্যকে অন্যরা কী ধরনের সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে এবং সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাঠামো কী হবে—এসব প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর এখনো নেই। ফলে বর্তমান অবস্থায় মক্কা চুক্তিকে পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোটের বদলে সম্মিলিত প্রতিরোধের একটি রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে দেখা উচিত।
তবে এর মধ্য দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার বাইরে নতুন হিসাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নীতির সামঞ্জস্য রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিজেদের প্রতিরক্ষায় আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে এবং ওয়াশিংটনের ওপর নিরাপত্তার পুরো ব্যয় ও দায়ভার চাপিয়ে রাখা উচিত নয়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে মক্কা চুক্তিকে আমেরিকান নীতির সাফল্য মনে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তিন অংশীদার নিজেদের মধ্যে একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করছে, অথচ এতে ওয়াশিংটনের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
কিন্তু বিষয়টির আরেকটি দিক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্র, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী। তবু আঞ্চলিক নিরাপত্তা কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই নিয়ম নির্ধারণে তার একচ্ছত্র ভূমিকা ধীরে ধীরে কমছে।
মক্কা চুক্তি এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষণ। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না। তারা মার্কিন অস্ত্র ও রাজনৈতিক অংশীদারিত্বও পরিত্যাগ করছে না। বরং তারা এমন একটি ব্যবস্থা চাইছে, যা কোনো সংকটে ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার তাদের নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গে না মিললেও কার্যকর থাকতে পারে।
ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। মার্কিন নিরাপত্তা উপস্থিতি একদিকে আঞ্চলিক প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করতে পারে, অন্যদিকে আমেরিকার অংশীদারদের এমন সংঘাতে টেনে আনতে পারে, যার সময় ও লক্ষ্য নির্ধারণে তাদের ভূমিকা সীমিত। ইরানের হামলা, সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হুমকি দেখিয়েছে—ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সংঘাতের ঝুঁকি থেকে নিজেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুরক্ষিত রাখার নিশ্চয়তা নয়।
এই বাস্তবতাই আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইরান যুক্ত হলে বদলে যেতে পারে চুক্তির চরিত্র
মক্কা চুক্তির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইরানকে বাদ দিয়ে এটি শেষ পর্যন্ত কী ধরনের কাঠামোয় পরিণত হবে।
তেহরান বাইরে থাকলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই সমন্বয়কে ইরান নিজের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা একটি সুন্নি সামরিক জোট হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে। সেই ধারণা নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে। বিপরীতে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার উদ্যোগ এই প্রশ্নের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
তখন আলোচনার কেন্দ্র হবে না ‘জোটটি কার বিরুদ্ধে’, বরং ‘অঞ্চলের প্রধান শক্তিগুলো কোন নিয়মে একসঙ্গে থাকবে’।
ইরান শেষ পর্যন্ত সদস্য না হলেও সংলাপের নিজস্ব মূল্য রয়েছে। সৌদি আরব সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক উত্তেজনা কমানোর পথ খোলা রাখতে পারবে। তুরস্ক আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে। আর পাকিস্তানকে সৌদি আরবের সঙ্গে তার কৌশলগত সম্পর্ক এবং প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না।
আর ইরান যদি সত্যিই এই কাঠামোর অংশ হয়, তাহলে চুক্তির উদ্দেশ্যই পাল্টে যেতে পারে। এটি তখন অভিন্ন ভয় বা শত্রুতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা জোট না হয়ে পারস্পরিক সংযমের একটি ব্যবস্থা হতে পারে। অর্থাৎ কোনো দেশের নিরাপত্তা যেন অন্য দেশের দুর্বলতার ওপর নির্ভর না করে, সেই নীতিই সেখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে এ জন্য শুধু সম্মিলিত প্রতিরক্ষার ঘোষণা যথেষ্ট নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি যোগাযোগ, সামরিক সংঘর্ষ এড়ানোর নিয়ম, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সম্পর্কে তথ্য বিনিময়, নৌ চলাচলের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং এক সদস্যের বিরুদ্ধে অন্য সদস্যের ভূখণ্ড বা সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার না করার মতো সুস্পষ্ট বিধান প্রয়োজন।
সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন হবে ইরান-সমর্থিত অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে। ইরান যদি চুক্তিতে যোগ দেয়, তাহলে তার অস্ত্র ও সহায়তা পাওয়া গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক দায় তেহরানের ওপর বর্তাবে। একই সঙ্গে অন্য সদস্যদেরও ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে তার নেতৃত্বের ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
শুধু পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতেই এই কাঠামো কার্যকর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে।
নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক
ইরানের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি শুধু রাজনৈতিক ও সামরিক হিসাব বদলাবে না; অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক বিকাশ দীর্ঘদিন ধরে সম্পদের অভাবে নয়, বরং অনিশ্চয়তার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের আশঙ্কা পরিবহন ও জাহাজ চলাচলের খরচ বাড়ায়, সরকারগুলোকে অস্ত্র সংগ্রহে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে এবং যোগাযোগপথকে অর্থনৈতিক অবকাঠামোর বদলে ভূরাজনৈতিক চাপের হাতিয়ারে পরিণত করে।
এই ঝুঁকি কিছুটা কমানো গেলেও বিপুল অর্থনৈতিক সম্পদ নতুনভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
সৌদি আরবের পুঁজি, তুরস্কের শিল্প সক্ষমতা, পাকিস্তানের বাজার এবং ইরানের জ্বালানি ও ট্রানজিট সম্ভাবনা পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে। এর ফলে মধ্য এশিয়া, পারস্য উপসাগর, ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করা নতুন যোগাযোগপথ গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাও তখন পারস্পরিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার না হয়ে অভিন্ন স্বার্থে পরিণত হতে পারে। যুদ্ধ ও বিদেশি হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্য তখন ক্রমবর্ধমান বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থায় নিজস্ব অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পেতে পারে।
তবে এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবায়িত হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, পরিবহনপথ নিয়ে প্রতিযোগিতা, সৌদি আরব ও তুরস্কের ভিন্ন কৌশলগত আকাঙ্ক্ষা এবং পাকিস্তান-ভারত বিরোধ—সবই নতুন ব্যবস্থার ভেতরে পুরোনো সংঘাতকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
চুক্তির সাফল্য নির্ভর করবে সদস্যরা কতটা সফলভাবে নিজেদের যৌথ নিরাপত্তাকে সাময়িক রাজনৈতিক সমঝোতা থেকে আলাদা রাখতে পারে তার ওপর। একটি দেশের দ্বিপক্ষীয় বিরোধ যেন পুরো জোটের সংঘাতে পরিণত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
ইসরায়েলকে ঘিরে বড় প্রশ্ন
মক্কা চুক্তির সামনে সবচেয়ে কঠিন বাহ্যিক প্রশ্ন হলো ইসরায়েলের সঙ্গে এর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক। ইরানকে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ইসরায়েল এটিকে কৌশলগত ঘেরাওয়ের সূচনা হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করলেই মক্কা চুক্তি ইসরায়েলবিরোধী সামরিক জোটে পরিণত হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সদস্যরা যদি এর প্রতিরক্ষামূলক চরিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং সংঘাত এড়ানোর জন্য ইসরায়েলের সঙ্গেও যোগাযোগের ব্যবস্থা তৈরি করে, তাহলে এই কাঠামো উত্তেজনা বাড়ানোর বদলে তা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হতে পারে।
এখানেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা-দৃষ্টিভঙ্গি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান ইসরায়েলি নেতৃত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একতরফা সামরিক শক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু একটি কার্যকর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক নিয়ম মেনে চলা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগকেও বৈধ হিসেবে স্বীকার করা।
২৭ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারিত নেসেট নির্বাচন এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ডানপন্থী জোট ক্ষমতায় থাকলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে—বিশেষ করে ইরান ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে এবং তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হলে।
সে পরিস্থিতিতে মক্কা চুক্তি দুর্বল হয়ে পড়া মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিকল্পের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে উঠতে পারে। এটি ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপ প্রতিহত করার একটি আঞ্চলিক কাঠামো হিসেবেও বিকশিত হতে পারে।
অন্যদিকে বিরোধীদের জয় মানেই শান্তি নিশ্চিত হবে না। ইরান ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান ইসরায়েলি রাজনীতির একটি বিস্তৃত বাস্তবতা। তারপরও নতুন কোনো রাজনৈতিক জোট সংঘাতের অবিরাম বিস্তারের বদলে স্বাভাবিকীকরণ ও আঞ্চলিক ভারসাম্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাবনা
মক্কা চুক্তি এখনো কোনো নতুন মধ্যপ্রাচ্য ব্যবস্থা নয়। এটি কেবল সেই সম্ভাবনার একটি ঘোষণা। কিন্তু ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা, পারস্পরিক সংযমের সুস্পষ্ট নিয়ম তৈরি করা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের বদলে নিয়ন্ত্রিত সহাবস্থানের পথ বের করা গেলে এর চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।
তখন মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যার প্রধান চালিকাশক্তি হবে অঞ্চলটির নিজেদের রাষ্ট্রগুলো।
এমন ব্যবস্থা তাদের মতপার্থক্য দূর করবে না। সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরানের স্বার্থের সংঘাতও শেষ হয়ে যাবে না। কিন্তু পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা যদি একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে পারে, তাহলে প্রতিটি সংকটকে যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ তৈরি হবে।
এখানে মূল পরিবর্তনটি সামরিক শক্তির ভারসাম্যে নয়, বরং নিরাপত্তা সম্পর্কে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর ধারণায়। নিজেদের নিরাপত্তাকে কোনো বাইরের শক্তির নিশ্চয়তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে সংলাপ, পারস্পরিক নিয়ম এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে তোলার সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নতুন পথে যেতে পারে।
মক্কা চুক্তির আসল পরীক্ষা তাই এর সামরিক সক্ষমতা কতটা, শুধু সেটি নয়। বরং সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরান—অঞ্চলের প্রধান শক্তিগুলো—পরস্পরকে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার পুরোনো কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে একই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
মিশেল বাইচকোভা 



















