মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিন বৃহৎ উড়োজাহাজ সংস্থা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের সম্মিলিত নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮১৭ কোটি ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ।
চীনের তিন বৃহৎ উড়োজাহাজ সংস্থা হলো এয়ার চায়না, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস এবং চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস। প্রথমার্ধে আয় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে টিকিটের দাম কমে যাওয়া এবং জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের লোকসান আরও গভীর হয়েছে।
জ্বালানি ব্যয়েই বড় চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচল খাতেও। উড়োজাহাজ পরিচালনার অন্যতম বড় ব্যয় জ্বালানি হওয়ায় তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর পাশাপাশি চীনের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন বাজারে ভাড়ার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। যাত্রী আকর্ষণ ও প্রতিযোগিতার কারণে টিকিটের দাম কম থাকায় বাড়তি জ্বালানি ব্যয় যাত্রীদের ওপর পুরোপুরি চাপিয়ে দিতে পারেনি সংস্থাগুলো।
লোকসান ৮১৭ কোটি ইউয়ানের বেশি
প্রথম ছয় মাসে তিন সংস্থার সম্মিলিত নিট লোকসান হয়েছে প্রায় ৮১৭ কোটি ইউয়ান। মার্কিন মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২১ কোটি ডলার।
এর আগে জুলাইয়ে সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, প্রথমার্ধে সম্মিলিত লোকসান প্রায় ৯০০ কোটি ইউয়ান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রকৃত লোকসান সেই আশঙ্কার চেয়ে কিছুটা কম হলেও তা আগের সময়ের তুলনায় আরও গভীর হয়েছে।
আয় বাড়লেও কাটেনি সংকট
চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থাগুলো প্রথমার্ধে আয় ধরে রাখতে সক্ষম হলেও লাভজনক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। মূলত যাত্রী পরিবহন থেকে আয় বাড়লেও জ্বালানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দুর্বল ভাড়া সেই আয়কে চাপের মধ্যে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু অবস্থানে থাকলে চীনের বিমান পরিবহন খাতের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে টিকিটের দাম কম থাকলে সংস্থাগুলোর পক্ষে ব্যয় সামাল দিয়ে দ্রুত মুনাফায় ফেরা কঠিন হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















