রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মাদক পরীক্ষায় কোনো মাদকের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সোমবার পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আট দিন পর নেওয়া হয় নমুনা
গত ৩০ আগস্ট রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে দুই অভিযুক্তের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সোমবার দুপুরে পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পায় রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর পরীক্ষা হওয়ায় মূত্রে মাদকের চিহ্ন না পাওয়াকে একেবারে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। সাধারণত ঘটনার কাছাকাছি সময়ে পরীক্ষা করা হলে মাদক গ্রহণের বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
পুলিশের আগের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশ এর আগে দাবি করেছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করেছিলেন। আদালতে দেওয়া তাদের জবানবন্দি সম্পর্কেও পুলিশ জানিয়েছিল, তারা হত্যার আগে কয়েকটি ইয়াবা বড়ি সেবনের কথা বলেছেন।
এখন মাদক পরীক্ষায় কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় পুলিশের আগের বক্তব্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষার এই ফলের ভিত্তিতে তদন্তের অন্য দিকগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
নিরাপত্তার কারণে কারাগারেই নমুনা
অভিযুক্তদের কারাগারের বাইরে আনা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় তাদের বাইরে নিয়ে এলে হামলা বা গণজমায়েতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এ কারণে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা রংপুর মেডিকেল কলেজের পরীক্ষাগারের কর্মীদের নিয়ে কারাগারে যান এবং সেখানেই নমুনা সংগ্রহ করেন।
২২ আগস্ট উদ্ধার চারজনের মরদেহ
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে একই এলাকার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই অভিযুক্ত পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বর্তমানে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।
হত্যার কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরেই চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে মাদক পরীক্ষায় কোনো চিহ্ন না পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, মাদক পরীক্ষার ফলসহ মামলার সব তথ্য ও আলামত পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















