০১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কেন শোনা হচ্ছে না নারীর কথা, স্বাস্থ্য সমস্যার প্রভাব কর্মজীবন থেকে পরিবারে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন কি একসঙ্গে কাজ করতে পারে? ডায়ানার মৃত্যুর পর চার্লসের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক দাবি, ভাইয়ের বই ঘিরে রাজপরিবারে তোলপাড় ডলি পার্টনের সঙ্গে শেষ কথোপকথন, আবেগে ভেঙে পড়লেন মাইলি সাইরাস ভোট দিতে দেশে ফিরছেন হাজারো ইসরায়েলি, তাদের ঠেকাতে নেতানিয়াহুর দলের চেষ্টা চীনা জাহাজ নিয়ে এআইয়ের ভুল তথ্য, যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র বন্যার স্রোতে মুছে গেছে ঘর, জমি, ব্যবসা—নেপালে বেঁচে থাকা মানুষের নতুন জীবন শুরু ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা বাড়ছে, পুরোনো প্রশিক্ষণ ক্ষেপণাস্ত্রই এখন বড় অস্ত্র ইয়েমেনে আবার যুদ্ধের আগুন, খালি পায়ে ঘর ছাড়ছে হাজারো মানুষ গাজার ধ্বংসস্তূপে ম্যাকলমোরের দেয়ালচিত্র, ‘কণ্ঠস্বর ব্যবহারের জন্য ধন্যবাদ’

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞা, হোয়াইট হাউসে CNN, MS NOW ও Politico নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তিনটি বড় সংবাদমাধ্যম—CNN, MS NOW ও Politico—প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, এসব সংবাদমাধ্যম বছরের পর বছর ধরে তাঁর সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ ও ‘কাল্পনিক’ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। তবে নিষেধাজ্ঞার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা কাজ করেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি মূলত গত কয়েক বছরের ‘সমষ্টিগত’ প্রতিবেদন ও কভারেজের ফল।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমার, অর্থাৎ জনগণের বাড়িতে’ কাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, আরও কিছু সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের নাম উল্লেখ করে সেগুলোকেও ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউসে কাজ করতে দেখা যায়। পরে ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, CNN, MS NOW ও Politico-কে জানানো হয়েছে যে শনিবার থেকে তারা হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না।

নিষেধাজ্ঞাটি ঠিক কোন পর্যায়ের হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আর সেই কারণেই এর আইনি পরিণতিও নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞার পরিধির ওপর।

Trump Bans CNN, MS NOW, Politico From White House

সংবিধান নিয়ে বড় প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়। আইন বিশেষজ্ঞ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, কোনো সংবাদমাধ্যমের সরকারের সমালোচনামূলক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তাকে হোয়াইট হাউস থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আদালতে বড় ধরনের সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

তবে আদালত অতীতে প্রেসিডেন্টের কিছু বিশেষ অনুষ্ঠান বা সীমিত পরিসরের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রবেশের বিষয়ে প্রশাসনকে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের সাধারণ সংবাদমাধ্যম সুবিধা বা সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রবেশাধিকার থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রশ্ন অনেক বেশি জটিল হতে পারে।

ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের প্রধান আইনজীবী সেথ স্টার্ন বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে সংবাদমাধ্যমকে ‘জনগণের বাড়ি’ থেকে নিষিদ্ধ করা প্রথম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন হতে পারে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামিল জাফারও বলেছেন, কোনো সাংবাদিকের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট তাকে শাস্তি দিতে পারেন না। তাঁর মতে, হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল থেকে এসব সংবাদমাধ্যমকে বাদ দেওয়া হলে বিষয়টি আরও গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করবে।

CNN ও Politico-র প্রতিক্রিয়া

CNN এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস কভার করা তাদের সাংবাদিকদের প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অধীনে সরকারের হস্তক্ষেপ বা বাধা ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করার অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সেটি সংবাদমাধ্যমের এই সাংবিধানিক অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত হবে বলেও মন্তব্য করেছে CNN।

Politico সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তারা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ন্যায্যভাবে তুলে ধরার কাজ চালিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা জোরালোভাবে আইনি লড়াই করবে।

MS NOW এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

Trump bans CNN, MS NOW, Politico from White House for 'fake news' | Donald  Trump News | Al Jazeera

ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দীর্ঘ সংঘাত

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ নতুন নয়। রাজনীতিতে আসার অনেক আগে নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার সময় থেকেই তিনি সংবাদমাধ্যমের মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন। পরে টেলিভিশনের রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সফল প্রচারণার পর থেকে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ আরও প্রকাশ্য হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি বিশেষ করে টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর সমালোচনা আরও জোরালো করেছেন।

তাঁর পছন্দ নয় এমন সংবাদ বা ব্যঙ্গাত্মক অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বানও তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন। এমনকি কিছু সম্প্রচারকেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেছেন। এর মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি এবং ডেস মইনস রেজিস্টারের বিরুদ্ধে করা মামলাও রয়েছে। তাঁর করা মানহানির কয়েকটি মামলার মধ্যে এবিসি ও সিবিএসের মামলাও যথাক্রমে ১ কোটি ৫০ লাখ ও ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নিষ্পত্তি হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সে সময় প্লেবয়-এর সংবাদদাতা ব্রায়ান কারেম এবং CNN-এর সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টার প্রেস পাস বাতিল বা স্থগিত করার চেষ্টা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। পরে ফেডারেল আদালত তাদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।

Donald Trump says he's banning CNN, MS NOW and Politico from White House

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। বিশেষ করে মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর সাংবাদিকদের তিনি নিয়মিত আক্রমণ করেছেন।

এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকেও হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস পুল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদ সংস্থাটির বিরোধের অন্যতম কারণ ছিল মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের পছন্দের ‘গালফ অব আমেরিকা’ নাম ব্যবহার না করা।

নির্বাচনের আগে নতুন বিতর্ক

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে। আগামী ৩ নভেম্বরের ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের দুই কক্ষেই খুব কম ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

রয়টার্স-ইপসোসের জরিপগুলোতে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে ট্রাম্পের অনুমোদনযোগ্যতার হারও ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর শুরু করা ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ।

এই পরিস্থিতিতে CNN, MS NOW ও Politico-কে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা এবং সরকারের সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কেন শোনা হচ্ছে না নারীর কথা, স্বাস্থ্য সমস্যার প্রভাব কর্মজীবন থেকে পরিবারে

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞা, হোয়াইট হাউসে CNN, MS NOW ও Politico নিষিদ্ধ

১২:০০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তিনটি বড় সংবাদমাধ্যম—CNN, MS NOW ও Politico—প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, এসব সংবাদমাধ্যম বছরের পর বছর ধরে তাঁর সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ ও ‘কাল্পনিক’ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। তবে নিষেধাজ্ঞার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা কাজ করেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি মূলত গত কয়েক বছরের ‘সমষ্টিগত’ প্রতিবেদন ও কভারেজের ফল।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমার, অর্থাৎ জনগণের বাড়িতে’ কাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, আরও কিছু সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের নাম উল্লেখ করে সেগুলোকেও ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউসে কাজ করতে দেখা যায়। পরে ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, CNN, MS NOW ও Politico-কে জানানো হয়েছে যে শনিবার থেকে তারা হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না।

নিষেধাজ্ঞাটি ঠিক কোন পর্যায়ের হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আর সেই কারণেই এর আইনি পরিণতিও নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞার পরিধির ওপর।

Trump Bans CNN, MS NOW, Politico From White House

সংবিধান নিয়ে বড় প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়। আইন বিশেষজ্ঞ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, কোনো সংবাদমাধ্যমের সরকারের সমালোচনামূলক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তাকে হোয়াইট হাউস থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আদালতে বড় ধরনের সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

তবে আদালত অতীতে প্রেসিডেন্টের কিছু বিশেষ অনুষ্ঠান বা সীমিত পরিসরের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রবেশের বিষয়ে প্রশাসনকে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের সাধারণ সংবাদমাধ্যম সুবিধা বা সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রবেশাধিকার থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রশ্ন অনেক বেশি জটিল হতে পারে।

ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের প্রধান আইনজীবী সেথ স্টার্ন বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে সংবাদমাধ্যমকে ‘জনগণের বাড়ি’ থেকে নিষিদ্ধ করা প্রথম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন হতে পারে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামিল জাফারও বলেছেন, কোনো সাংবাদিকের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট তাকে শাস্তি দিতে পারেন না। তাঁর মতে, হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল থেকে এসব সংবাদমাধ্যমকে বাদ দেওয়া হলে বিষয়টি আরও গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করবে।

CNN ও Politico-র প্রতিক্রিয়া

CNN এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস কভার করা তাদের সাংবাদিকদের প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অধীনে সরকারের হস্তক্ষেপ বা বাধা ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করার অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সেটি সংবাদমাধ্যমের এই সাংবিধানিক অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত হবে বলেও মন্তব্য করেছে CNN।

Politico সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তারা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ন্যায্যভাবে তুলে ধরার কাজ চালিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা জোরালোভাবে আইনি লড়াই করবে।

MS NOW এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

Trump bans CNN, MS NOW, Politico from White House for 'fake news' | Donald  Trump News | Al Jazeera

ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দীর্ঘ সংঘাত

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ নতুন নয়। রাজনীতিতে আসার অনেক আগে নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার সময় থেকেই তিনি সংবাদমাধ্যমের মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন। পরে টেলিভিশনের রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সফল প্রচারণার পর থেকে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ আরও প্রকাশ্য হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি বিশেষ করে টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর সমালোচনা আরও জোরালো করেছেন।

তাঁর পছন্দ নয় এমন সংবাদ বা ব্যঙ্গাত্মক অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বানও তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন। এমনকি কিছু সম্প্রচারকেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেছেন। এর মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি এবং ডেস মইনস রেজিস্টারের বিরুদ্ধে করা মামলাও রয়েছে। তাঁর করা মানহানির কয়েকটি মামলার মধ্যে এবিসি ও সিবিএসের মামলাও যথাক্রমে ১ কোটি ৫০ লাখ ও ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নিষ্পত্তি হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সে সময় প্লেবয়-এর সংবাদদাতা ব্রায়ান কারেম এবং CNN-এর সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টার প্রেস পাস বাতিল বা স্থগিত করার চেষ্টা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। পরে ফেডারেল আদালত তাদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।

Donald Trump says he's banning CNN, MS NOW and Politico from White House

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। বিশেষ করে মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর সাংবাদিকদের তিনি নিয়মিত আক্রমণ করেছেন।

এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকেও হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস পুল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদ সংস্থাটির বিরোধের অন্যতম কারণ ছিল মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের পছন্দের ‘গালফ অব আমেরিকা’ নাম ব্যবহার না করা।

নির্বাচনের আগে নতুন বিতর্ক

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে। আগামী ৩ নভেম্বরের ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের দুই কক্ষেই খুব কম ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

রয়টার্স-ইপসোসের জরিপগুলোতে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে ট্রাম্পের অনুমোদনযোগ্যতার হারও ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর শুরু করা ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ।

এই পরিস্থিতিতে CNN, MS NOW ও Politico-কে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা এবং সরকারের সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে।