খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) চার শিক্ষার্থীসহ ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
শনিবার রাতে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খান জাহান আলী হলের বিপরীতে ইসলামীপুর রোডের মসজিদ গলির একটি মেসে আজমুলকে মারধর করা হয়। তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরে তাকে ওই ভবনের ছাদে নিয়ে আরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
পরে কয়েকজন যুবক আহত আজমুলকে উদ্ধার করে রাত দেড়টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ওই মেসে খাবার খাওয়ার পর আজমুল টাকা না দেওয়ায় সেখানে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হন। পরে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। এ নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তি তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরপর আজমুলকে ভবনের ছাদে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তার চুল কেটে দেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত আজমুল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। পড়াশোনার কারণে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ইসলামীপুর এলাকায় একটি ভাড়া মেসে থাকতেন।
এদিকে আজমুলের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তাদের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল, সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের এই অভিযোগও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা চার আসামিই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি আজমুলকে কেন মারধর করা হয়েছিল, তাকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার পর কী ঘটেছিল এবং তার চতুর্থ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে—এসব প্রশ্নও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















