০৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভোটের শেষ দিনে মস্কোয় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন মাদকপাচার ঠেকাতে পক প্রণালি হতে পারে ভারত-শ্রীলঙ্কা সহযোগিতার নতুন সেতু ইয়ামিনের ৫ বছরের কারাদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে মালদ্বীপের বিরোধীদের গুরুতর অভিযোগ সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৫ যোদ্ধা নিহত, ২৩ জিম্মি উদ্ধার ১৪ নবজাতকের মৃত্যু: পাকিস্তানের উন্নয়ন ভাবনায় যে কঠিন প্রশ্ন সামনে এলো মানবিক সংকট কি এখন বিশ্বের নতুন স্বাভাবিকতা? যুদ্ধ থামছে না, বদলে যাচ্ছে শুধু বিশ্বের মনোযোগ আইফোন ছিনিয়ে নিতে গিয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ওপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ কাশ্মীরের সংঘাত: ভারত-পাকিস্তানের বয়ানের আড়ালে কাশ্মীরিদের অবস্থান কোথায়? আজিমপুরে পার্ক করা বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, যুবক আটক

দুই দিল্লি, এক সপ্তাহান্ত—বিশ্ব যখন নৈশভোজে এলো

ভারতের রাজধানী দিল্লিকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এটি যেন একই সঙ্গে দুই রকমের শহর। একদিকে প্রতিদিনের পরিচিত, ধুলোময়, যানজটে আটকে থাকা, অপরিকল্পিত নগরজীবনের দিল্লি; অন্যদিকে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে মুহূর্তে সাজিয়ে তোলা ঝকঝকে, পরিপাটি ও আড়ম্বরপূর্ণ দিল্লি। সম্প্রতি ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে এই দুই দিল্লির পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। (

দিল্লিতে বড় হয়ে ওঠা মানুষের কাছে এই বৈপরীত্য নতুন কিছু নয়। শহরের একটি অংশ লুটিয়েন্স দিল্লি—গাছঘেরা প্রশস্ত সড়ক, ঔপনিবেশিক আমলের বিশাল বাংলো এবং ভিআইপিদের বসবাসের জন্য পরিচিত তুলনামূলক শান্ত এলাকা। আরেকটি দিল্লি তার ঠিক বিপরীত। সেখানে রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনা, হাঁটার মতো ফুটপাতের অভাব, সরু সড়ক, বিশৃঙ্খল যান চলাচল আর দিনের পর দিন চলতে থাকা যানজট যেন নগরজীবনের স্বাভাবিক অংশ।

এই দিল্লির আরেকটি বড় বাস্তবতা ধুলো। সেটি শুধু জানালার কার্নিশে জমে থাকা ধুলোর আস্তরণ নয়; অনেক সময় সেটিই হয়ে ওঠে মানুষের নিঃশ্বাসের অংশ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাতাসে ভেসে থাকা ধুলো গলা ও চোখে অস্বস্তি তৈরি করে, বাড়িয়ে দেয় হাঁচি-কাশির সমস্যা। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও শহরের এই ধুলোময় বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় থাকে না।

কিন্তু যখন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা দিল্লিতে আসেন, তখন যেন শহরটি রাতারাতি নিজের আরেকটি চেহারা সামনে নিয়ে আসে।

ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় রাজধানীকে সাজানো হয়েছিল বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনের উপযোগী করে। রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্মেলনস্থলকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শহরটি যেন বহুদিনের অগোছালো পোশাক খুলে বিশেষ অতিথিদের সামনে নতুন পোশাক পরে দাঁড়িয়েছিল। দক্ষিণ চীন সাগরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে এমন একটি শহরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যে শহরটি অতিথি আসার আগে নিজের ঘর গুছিয়ে নেয়। Opinion | Reporter's note: two Delhis, one weekend – when the world came to  dinner | South China Morning Post

তবে এই সাজসজ্জার গল্পের অন্য দিকও আছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনের জন্য শহরকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে তোলা গেলেও, দিল্লির প্রতিদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো তো এক সপ্তাহান্তে বদলে যায় না। ফুটপাতের সংকট, যানজট, আবর্জনা, ধুলো কিংবা অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো থেকে যায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

এই কারণেই ‘দুই দিল্লি’র গল্পটি কেবল একটি শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের গল্প নয়। এটি একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজধানীর দুই বাস্তবতার গল্প। একটি দিল্লি বিশ্বকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়, অন্যটি প্রতিদিন তার কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ভার বহন করে।

বিশ্বনেতাদের জন্য সাজানো দিল্লি হয়তো কয়েক দিনের জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। কিন্তু সাধারণ মানুষের দিল্লি টিকে থাকে বছরের পর বছর—ধুলোর মধ্যে, যানজটে, সরু রাস্তায়, আবর্জনার পাশে এবং প্রতিদিনের ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে।

ব্রিকস সম্মেলনের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন তাই দিল্লির শুধু নতুন মুখই দেখায়নি; বরং পুরোনো প্রশ্নটিও সামনে এনেছে—একটি রাজধানী যখন বিশ্বের সামনে নিজের সেরা চেহারা তুলে ধরে, তখন সেই সৌন্দর্য কি তার সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও সমানভাবে পৌঁছায়?

দিল্লির এই দুই চেহারার ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত শহরটির সবচেয়ে বড় গল্প হয়ে ওঠে। একদিকে বিশ্বকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত করা ঝকঝকে রাজধানী, অন্যদিকে প্রতিদিনের ধুলো, যানজট ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে লড়াই করা মানুষের শহর। একই নাম—দিল্লি; কিন্তু বাস্তবতা যেন দুই রকম।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটের শেষ দিনে মস্কোয় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন

দুই দিল্লি, এক সপ্তাহান্ত—বিশ্ব যখন নৈশভোজে এলো

০৫:১৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এটি যেন একই সঙ্গে দুই রকমের শহর। একদিকে প্রতিদিনের পরিচিত, ধুলোময়, যানজটে আটকে থাকা, অপরিকল্পিত নগরজীবনের দিল্লি; অন্যদিকে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে মুহূর্তে সাজিয়ে তোলা ঝকঝকে, পরিপাটি ও আড়ম্বরপূর্ণ দিল্লি। সম্প্রতি ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে এই দুই দিল্লির পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। (

দিল্লিতে বড় হয়ে ওঠা মানুষের কাছে এই বৈপরীত্য নতুন কিছু নয়। শহরের একটি অংশ লুটিয়েন্স দিল্লি—গাছঘেরা প্রশস্ত সড়ক, ঔপনিবেশিক আমলের বিশাল বাংলো এবং ভিআইপিদের বসবাসের জন্য পরিচিত তুলনামূলক শান্ত এলাকা। আরেকটি দিল্লি তার ঠিক বিপরীত। সেখানে রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনা, হাঁটার মতো ফুটপাতের অভাব, সরু সড়ক, বিশৃঙ্খল যান চলাচল আর দিনের পর দিন চলতে থাকা যানজট যেন নগরজীবনের স্বাভাবিক অংশ।

এই দিল্লির আরেকটি বড় বাস্তবতা ধুলো। সেটি শুধু জানালার কার্নিশে জমে থাকা ধুলোর আস্তরণ নয়; অনেক সময় সেটিই হয়ে ওঠে মানুষের নিঃশ্বাসের অংশ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাতাসে ভেসে থাকা ধুলো গলা ও চোখে অস্বস্তি তৈরি করে, বাড়িয়ে দেয় হাঁচি-কাশির সমস্যা। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও শহরের এই ধুলোময় বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় থাকে না।

কিন্তু যখন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা দিল্লিতে আসেন, তখন যেন শহরটি রাতারাতি নিজের আরেকটি চেহারা সামনে নিয়ে আসে।

ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় রাজধানীকে সাজানো হয়েছিল বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনের উপযোগী করে। রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্মেলনস্থলকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শহরটি যেন বহুদিনের অগোছালো পোশাক খুলে বিশেষ অতিথিদের সামনে নতুন পোশাক পরে দাঁড়িয়েছিল। দক্ষিণ চীন সাগরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে এমন একটি শহরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যে শহরটি অতিথি আসার আগে নিজের ঘর গুছিয়ে নেয়। Opinion | Reporter's note: two Delhis, one weekend – when the world came to  dinner | South China Morning Post

তবে এই সাজসজ্জার গল্পের অন্য দিকও আছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনের জন্য শহরকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে তোলা গেলেও, দিল্লির প্রতিদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো তো এক সপ্তাহান্তে বদলে যায় না। ফুটপাতের সংকট, যানজট, আবর্জনা, ধুলো কিংবা অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো থেকে যায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

এই কারণেই ‘দুই দিল্লি’র গল্পটি কেবল একটি শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের গল্প নয়। এটি একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজধানীর দুই বাস্তবতার গল্প। একটি দিল্লি বিশ্বকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়, অন্যটি প্রতিদিন তার কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ভার বহন করে।

বিশ্বনেতাদের জন্য সাজানো দিল্লি হয়তো কয়েক দিনের জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। কিন্তু সাধারণ মানুষের দিল্লি টিকে থাকে বছরের পর বছর—ধুলোর মধ্যে, যানজটে, সরু রাস্তায়, আবর্জনার পাশে এবং প্রতিদিনের ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে।

ব্রিকস সম্মেলনের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন তাই দিল্লির শুধু নতুন মুখই দেখায়নি; বরং পুরোনো প্রশ্নটিও সামনে এনেছে—একটি রাজধানী যখন বিশ্বের সামনে নিজের সেরা চেহারা তুলে ধরে, তখন সেই সৌন্দর্য কি তার সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও সমানভাবে পৌঁছায়?

দিল্লির এই দুই চেহারার ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত শহরটির সবচেয়ে বড় গল্প হয়ে ওঠে। একদিকে বিশ্বকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত করা ঝকঝকে রাজধানী, অন্যদিকে প্রতিদিনের ধুলো, যানজট ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে লড়াই করা মানুষের শহর। একই নাম—দিল্লি; কিন্তু বাস্তবতা যেন দুই রকম।