পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে পুলিশ লাইন্সের মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদ, হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
কোহাট সিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) অভিযোগ দেওয়ার পর কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) একটি থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো পুলিশ লাইন্স এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করা একটি গোষ্ঠীর সদস্যরা বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ব্যবহার করে হামলা চালায়। পুলিশ লাইন্সের মসজিদের কাছে পৌঁছানোর পর হামলাকারীরা গুলি চালাতে শুরু করে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের দিকে যাওয়ার সড়ক ব্যবহার করে পুলিশ লাইন্স এলাকায় প্রবেশ করে। সেখানে তারা নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি গ্রেনেড ব্যবহার করে। হামলায় পুলিশ সদস্য ও বেসামরিক মানুষ হতাহত হন। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলার সময় পুলিশ সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, হামলায় ২১ জন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে হামলার মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়ায় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা অভিযান ও তল্লাশি চালানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করতে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হামলাকারীদের সহযোগী ও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন এবং হামলার আগে ও পরে হামলাকারীদের গতিবিধি খতিয়ে দেখছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাত হামলাকারী ও তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য ও প্রমাণ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলায় আরও বিস্তারিত তথ্য যুক্ত হতে পারে। হামলার পুরো ঘটনা, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে কর্তৃপক্ষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















