ভারতীয় রুপির দর বুধবার বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে মুদ্রাটির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি বাজারও সেই আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে।
বুধবার রুপি প্রতি ডলারে প্রায় ৯৫ টাকা ৬০ থেকে ৯৫ টাকা ৬৫ পয়সার মধ্যে লেনদেন শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। আগের অধিবেশনে রুপির দর ছিল প্রতি ডলারে ৯৫ টাকা ৫৯ পয়সা।
তেলের দামে স্বস্তি, তবে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে
ভারতীয় সম্পদবাজারের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর একটি হয়ে উঠেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম প্রায় দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি, ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২২ ডলারে অবস্থান করছে।
![]()
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে—এমন প্রত্যাশায় তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো সমঝোতা না হলে ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, একটি চুক্তি শিগগিরই হতে পারে। ফলে সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং তেলের বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এশিয়ার বাজারে মিশ্র চিত্র
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এমইউএফজি এক বিশ্লেষণী নোটে জানিয়েছে, এশিয়ার জন্য স্বস্তির বিষয় হলো তেলের দাম সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমেছে। তবে সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে স্পষ্টতা না থাকায় সামনে কী ঘটবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রাবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপের প্রতি ভোক্তাদের শক্তিশালী চাহিদার ইঙ্গিত পাওয়ায় এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
ভারতীয় শেয়ারবাজার অবশ্য আঞ্চলিক বাজারগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলনামূলক কম থাকায় ভারতের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহও দুর্বল হয়েছে।
বিদেশি অর্থপ্রবাহে চাপ
স্টক ডিপোজিটরি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে এ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার থেকে ১৮১ কোটি ডলার তুলে নিয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে ভারতের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের নিট বহির্প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮৭ কোটি ডলার।
দুর্বল মূলধনপ্রবাহের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয়ও রুপির ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত বাজার হস্তক্ষেপের কারণে রুপির দরপতনের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।
রিজার্ভে রেকর্ড, রুপিতে নজর
ব্যবসায়ীদের ধারণা, স্বল্পমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ কিছু নীতিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা আকর্ষণের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। ফলে তেলের দাম, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি এবং বিদেশি মূলধনপ্রবাহ—এই তিনটি বিষয়ই এখন রুপির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তেল, রুপি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি—এই তিনটি বিষয়ের গতিপথই এখন ভারতের মুদ্রাবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















