০১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সস্তায় চোখের পাতার অস্ত্রোপচার, বিপদে বহু নারী—চোখ বন্ধ করতে না পেরে আতঙ্ক শি জিনপিংয়ের জন্য ওয়াশিংটনে নজিরবিহীন আয়োজন, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য-এআই-তাইওয়ান দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে যে অভ্যাস করেন ডেমি মুর ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের নতুন সমঝোতা বছরের শেষেই চান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ট্রাম্প-শির বৈঠকে এআই, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো চুক্তি কতটা সম্ভব? অনলাইন প্রতারণার ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হবে না কম্বোডিয়া, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে হুন মানেত পশ্চিম তীর নিয়ে ম্যাক্রোঁর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, বলল ‘চরম অযৌক্তিক’ ছয় দিন ধরে কমছে তেলের দাম, বাড়ছে সরবরাহের আশা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা মেটার ‘মিউজ’ এআইয়ের আড়ালে মানুষ, গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তেলের দামে আটকে রুপি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির দিকে তাকিয়ে বাজার

মেটার ‘মিউজ’ এআইয়ের আড়ালে মানুষ, গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের দৈনন্দিন কাজের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার দৌড় এখন আরও দ্রুত হচ্ছে। ই-মেইল লেখা, অনলাইনে কেনাকাটা, ভ্রমণ বুকিং কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফোন করে তথ্য নেওয়ার মতো কাজও এআইয়ের মাধ্যমে করানোর চেষ্টা করছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এই স্বয়ংক্রিয়তার আড়ালে শেষ পর্যন্ত মানুষ কতটা জড়িয়ে থাকছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে মেটার একটি পরীক্ষাকে ঘিরে।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা তাদের নতুন ব্যক্তিগত এআই সহকারী ‘মিউজ’-এর কিছু ফোনকল গোপনে মানব কর্মীদের দিয়ে করানোর একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল। ব্যবহারকারীর হয়ে এআই যে ফোন করার কথা, কিছু ক্ষেত্রে সেই ফোনের দায়িত্ব নিচ্ছিলেন প্রশিক্ষিত মানব কর্মীরা। মেটার অভ্যন্তরীণ নথি ও কর্মীদের পোস্ট থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

তবে কর্মীদের একাংশ এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য মানুষের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে একজন কর্মী মিউজের মাধ্যমে করা একটি ফোনকলে মানব কর্মীর কাছ থেকে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য শোনার অভিযোগও করেন। এসব উদ্বেগের পর মেটা আপাতত পরীক্ষাটি বন্ধ করে দিয়েছে।

মিউজ আসলে কী করতে পারে

মেটার মিউজকে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া একটি চ্যাটবট হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত কাজ করে দিতে পারে এমন এআই সহকারী হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর নির্দেশ বুঝে তার হয়ে বাস্তব জগতের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা।

Meta's New Muse AI Agent Read My Private Messages. I Never Asked It To

একজন ব্যবহারকারী মিউজকে ই-মেইল পাঠাতে, অনলাইনে কেনাকাটা করতে কিংবা ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে বলতে পারেন। ফোনকলের সুবিধা যুক্ত হওয়ার পর মিউজকে মার্কিন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফোন করার দায়িত্বও দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

যেমন কেউ চুল কাটার জন্য সময় নিতে চাইলে মিউজকে ফোন করে সময় বুক করতে বলা যায়। কোনো দোকানে নির্দিষ্ট পণ্য আছে কি না, তা জানতে ফোন করা যায়। আবার কোনো ঠিকাদারের কাছ থেকে একটি কাজের সম্ভাব্য খরচ জানতেও মিউজকে ব্যবহার করা যায়।

এই ধারণার মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর সময় ও শ্রম বাঁচানো। মানুষ নিজে ফোন করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করবেন না; বরং এআই তার হয়ে কথা বলে কাজটি সম্পন্ন করবে।

কিন্তু বাস্তব ব্যবহারে দেখা যায়, সব প্রতিষ্ঠান এআইয়ের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নয়।

এআই বললেই ফোন কেটে দিচ্ছিল কিছু প্রতিষ্ঠান

মেটার কর্মীদের অভ্যন্তরীণ পোস্টে এমন অভিজ্ঞতার কথাও উঠে এসেছে। একজন কর্মী জানান, তিনি নিজের বিমা প্রতিষ্ঠানে মিউজকে ফোন করিয়েছিলেন। কিন্তু অপর প্রান্তের কর্মীরা বুঝতে পারার পর যে ফোনটি এআই করছে, তারা বারবার কল কেটে দিচ্ছিলেন।

এই সমস্যা মিউজের মতো এআই এজেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এআই যতই দক্ষ হোক, অপর প্রান্তের মানুষ যদি তার সঙ্গে কথা বলতে না চান, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটিই ব্যর্থ হয়ে যায়।

এই বাধা কাটাতে মেটা পরীক্ষামূলকভাবে একটি ‘হিউম্যান কনসিয়ার্জ’ বা মানব সহকারী ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে মিউজ কোনো কাজের জন্য ফোন করার প্রয়োজন হলে, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেই অনুরোধ একজন প্রশিক্ষিত মানব কর্মীর কাছে পাঠাতে পারত।

এরপর ওই কর্মী ব্যবহারকারীর হয়ে ফোন করে প্রয়োজনীয় কাজটি সম্পন্ন করতেন।

অর্থাৎ বাইরে থেকে ব্যবহারকারীর কাছে মনে হতে পারে, মিউজই তার হয়ে ফোন করেছে। কিন্তু বাস্তবে ফোনের অপর প্রান্তে কথা বলছেন একজন মানুষ।

Facebook's Muse AI: How the new AI agent works, its features and what it  can do - K24 Digital

মানুষের মাধ্যমে সাফল্যের হার ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ

মেটার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট অভ্যন্তরীণ আলোচনায় জানিয়েছেন, কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষের মাধ্যমে ফোন করালে কাজ সফল হওয়ার হার ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে। শুধু এআই দিয়ে ফোন করার ক্ষেত্রে সফলতার হার ছিল এর চেয়ে কম।

এই তথ্য থেকেই বোঝা যায়, বাস্তব জগতে মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ক্ষেত্রে এআই এখনও কিছু সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে।

মানুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। অপর পক্ষ অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন করতে পারে, কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ব্যাখ্যা করতে পারে কিংবা এআইয়ের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কিন্তু এআইকে একই দক্ষতায় কাজ করাতে হলে আরও উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন।

মেটার জন্য তাই মানব সহকারী ব্যবস্থা ছিল এক ধরনের বাস্তব পরীক্ষা—এআই পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে না পারলে মানুষকে কতটা যুক্ত করা যায় এবং সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন গোপনীয়তা নিয়ে

মানব কর্মীদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তের পর মেটার ভেতরেই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয় ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে।

মিউজকে একজন ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ব্যবহার করার সময় একজন মানুষ নানা ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য দিতে পারেন। তার ই-মেইল, ভ্রমণ পরিকল্পনা, কেনাকাটার তথ্য, বিমা, বিল, অর্থনৈতিক বিষয় কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন নিয়ে এআইকে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

এই তথ্যের কোনো অংশ যদি মানুষের হাতে চলে যায়, তাহলে ব্যবহারকারী সেটি জানেন কি না—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

মেটার এক কর্মী অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, একটি ছোট প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তথ্য মানব কর্মীর কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তার প্রশ্ন ছিল, এমন ঝুঁকি নেওয়া আদৌ কতটা যুক্তিযুক্ত।

আরেক কর্মী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, তিনি মিউজকে ইন্টারনেট ও কেবল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে ফোন করে নিজের বিল কমানোর বিষয়ে আলোচনা করতে বলেছিলেন। পরে পাওয়া ফোনকলের প্রতিলিপিতে তিনি মানব কর্মীর কাছ থেকে বর্ণসম্পর্কিত একটি আপত্তিকর মন্তব্য দেখতে পান।

ঘটনাটি মেটার অভ্যন্তরে আরও উদ্বেগ তৈরি করে।

Meta Tests Human Support for Muse AI Agent as Privacy Concerns Raise  Investor Questions - TipRanks.com

ভুল স্বীকার করে পরীক্ষা বন্ধ করল মেটা

মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস ইউনিটের একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন, যথাযথভাবে ব্যবহারকারীদের জানানো ছাড়াই মানব কর্মীদের দিয়ে ফোন করানোর পরীক্ষা শুরু করা ঠিক হয়নি।

তিনি এটিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেন এবং জানান, আপাতত এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বর্ণসম্পর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ করা কর্মীর কাছেও তিনি ক্ষমা চান। একই সঙ্গে জানান, সংশ্লিষ্ট মানব কর্মীকে ভবিষ্যতে মেটার কোনো প্রকল্পে কাজ করতে দেওয়া হবে না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মেটা এআই ফোনকলের ধারণা থেকে সরে যাচ্ছে। বরং প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মিউজের ফোনকলের সক্ষমতা আরও উন্নত করার কাজ চলবে।

মেটার নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তৈরি হয়েছে বৈপরীত্য

মিউজ চালুর সময় মেটা তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, প্রতিটি এআই এজেন্টের জন্য আলাদা নিরাপদ ‘ভার্চুয়াল মেশিন’ থাকবে।

সহজ ভাষায়, একজন ব্যবহারকারী যখন মিউজ ব্যবহার করবেন, তার কাজের জন্য ক্লাউডে একটি আলাদা কম্পিউটিং পরিবেশ তৈরি হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর সেশনকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা।

মেটা আরও জানিয়েছিল, পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্য আলাদা নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থায় রাখা হবে।

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা মিউজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

কিন্তু ফোনকলের ক্ষেত্রে যদি মানব কর্মীকে যুক্ত করা হয়, তাহলে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বাইরে নতুন একটি ঝুঁকি তৈরি হয়। এআইয়ের সুরক্ষিত পরিবেশের মধ্যে তথ্য থাকলেও, সেই তথ্য ফোনের মাধ্যমে কোনো মানুষের কাছে পৌঁছে গেলে বিষয়টি আর শুধু সফটওয়্যারের নিরাপত্তার মধ্যে থাকে না।

মেটার কর্মীরা তাই মনে করছেন, মানব সহকারী ব্যবস্থাটি মিউজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয়-যুক্তি—গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা—দুর্বল করে দিতে পারে।

এআইয়ের আড়ালে মানুষের শ্রম নতুন বিষয় নয়

মিউজের ঘটনা প্রযুক্তি শিল্পের আরও একটি পুরোনো বাস্তবতা সামনে এনেছে। এআইকে যতটা স্বয়ংক্রিয় হিসেবে দেখানো হয়, বাস্তবে অনেক এআই ব্যবস্থার পেছনে মানুষের শ্রম থাকে।

কখনো মানুষ এআইকে প্রশিক্ষণ দেয়, কখনো ভুল তথ্য ঠিক করে, আবার কখনো এআই যে কাজটি নিজে করতে পারেনি, সেটি মানুষ সম্পন্ন করে দেয়।

Amazon Blocks Meta's Muse AI Agent From Shopping Its Store | PCMag

মেটার বর্তমান পরীক্ষার সঙ্গে প্রায় এক দশক আগের একটি প্রকল্পেরও মিল রয়েছে।

ফেসবুক মেসেঞ্জারে মেটা তখন ‘এম’ নামে একটি ডিজিটাল সহকারী পরীক্ষা করেছিল। সেই প্রকল্প নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এজেন্টটির প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ বাস্তবে মানুষ করে দিতেন।

অর্থাৎ এআই সহকারীকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় দেখানোর ধারণার পেছনে মানুষের শ্রম ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরোনো।

মিউজের ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতা আবার সামনে এসেছে।

মিউজের জনপ্রিয়তা অবশ্য দ্রুত বাড়ছে

গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মিউজের জনপ্রিয়তা কমেনি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, চালুর পর দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মিউজের ডাউনলোড ২৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপ ডাউনলোডের তালিকায়ও মিউজ শীর্ষে উঠেছে।

মিউজের বাজার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেড়েছে। মিউজ চালুর পর মেটার শেয়ারের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়ে যায়। গত সাত মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে মেটার শেয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়েও পৌঁছেছিল। তবে মঙ্গলবার শেয়ারের দাম ০.৬ শতাংশ কমে যায়।

এ থেকে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এআই এজেন্টকে মেটার ভবিষ্যৎ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে।

মেটার সামনে এখন দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ

মিউজের সামনে এখন মূলত দুটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রথমটি প্রযুক্তিগত। এআইকে এমনভাবে উন্নত করতে হবে, যাতে সে মানুষের সঙ্গে ফোনে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Meta's AI agent can now do the work for you | THE DAILY TRIBUNE | KINGDOM  OF BAHRAIN

 

দ্বিতীয়টি হলো আস্থা ও গোপনীয়তা। ব্যবহারকারীকে স্পষ্টভাবে জানতে হবে, তার হয়ে ফোনটি আসলে কে করছে—এআই, নাকি একজন মানুষ।

এখানে স্বচ্ছতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন ব্যবহারকারী যদি মনে করেন তিনি একটি এআইয়ের সঙ্গে কাজ করছেন, কিন্তু পরে জানতে পারেন যে তার ব্যক্তিগত কাজ একজন মানব কর্মী করেছেন, তাহলে তার আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে বিল, বিমা, ভ্রমণ, চিকিৎসা, আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মতো সংবেদনশীল কাজে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ভবিষ্যতের এআই কি সত্যিই মানুষের বদলি হবে?

মিউজের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত একটি বড় প্রশ্নের সামনে নিয়ে এসেছে—এআই কি সত্যিই মানুষের জায়গা নিতে পারবে, নাকি মানুষের সহায়তা নিয়েই দীর্ঘ সময় এগোতে হবে?

এআই মানুষের অনেক কাজ দ্রুত ও সহজ করে দিতে পারছে। কিন্তু বাস্তব জগতের জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের বিচারবোধ, সামাজিক আচরণ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

মেটার পরীক্ষায় মানুষের সাহায্যে ফোনকলের সাফল্যের হার ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছানো এটাই দেখায় যে, প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠেনি।

তবে এআই শিল্পের লক্ষ্যও থেমে নেই। মেটা বলছে, তারা ফোনকলের প্রযুক্তি আরও উন্নত করবে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই ভবিষ্যতে এই সুবিধা আরও বড় পরিসরে চালু করা হবে।

মিউজের ক্ষেত্রে তাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু এআই কত ভালোভাবে ফোন করতে পারে, সেটি নয়। বরং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রেখে, মানুষকে প্রয়োজনের সময় কতটা স্বচ্ছভাবে যুক্ত করা যায়—সেটিই হয়ে উঠছে আসল চ্যালেঞ্জ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সস্তায় চোখের পাতার অস্ত্রোপচার, বিপদে বহু নারী—চোখ বন্ধ করতে না পেরে আতঙ্ক

মেটার ‘মিউজ’ এআইয়ের আড়ালে মানুষ, গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

১১:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের দৈনন্দিন কাজের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার দৌড় এখন আরও দ্রুত হচ্ছে। ই-মেইল লেখা, অনলাইনে কেনাকাটা, ভ্রমণ বুকিং কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফোন করে তথ্য নেওয়ার মতো কাজও এআইয়ের মাধ্যমে করানোর চেষ্টা করছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এই স্বয়ংক্রিয়তার আড়ালে শেষ পর্যন্ত মানুষ কতটা জড়িয়ে থাকছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে মেটার একটি পরীক্ষাকে ঘিরে।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা তাদের নতুন ব্যক্তিগত এআই সহকারী ‘মিউজ’-এর কিছু ফোনকল গোপনে মানব কর্মীদের দিয়ে করানোর একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল। ব্যবহারকারীর হয়ে এআই যে ফোন করার কথা, কিছু ক্ষেত্রে সেই ফোনের দায়িত্ব নিচ্ছিলেন প্রশিক্ষিত মানব কর্মীরা। মেটার অভ্যন্তরীণ নথি ও কর্মীদের পোস্ট থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

তবে কর্মীদের একাংশ এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য মানুষের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে একজন কর্মী মিউজের মাধ্যমে করা একটি ফোনকলে মানব কর্মীর কাছ থেকে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য শোনার অভিযোগও করেন। এসব উদ্বেগের পর মেটা আপাতত পরীক্ষাটি বন্ধ করে দিয়েছে।

মিউজ আসলে কী করতে পারে

মেটার মিউজকে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া একটি চ্যাটবট হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত কাজ করে দিতে পারে এমন এআই সহকারী হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর নির্দেশ বুঝে তার হয়ে বাস্তব জগতের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা।

Meta's New Muse AI Agent Read My Private Messages. I Never Asked It To

একজন ব্যবহারকারী মিউজকে ই-মেইল পাঠাতে, অনলাইনে কেনাকাটা করতে কিংবা ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে বলতে পারেন। ফোনকলের সুবিধা যুক্ত হওয়ার পর মিউজকে মার্কিন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফোন করার দায়িত্বও দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

যেমন কেউ চুল কাটার জন্য সময় নিতে চাইলে মিউজকে ফোন করে সময় বুক করতে বলা যায়। কোনো দোকানে নির্দিষ্ট পণ্য আছে কি না, তা জানতে ফোন করা যায়। আবার কোনো ঠিকাদারের কাছ থেকে একটি কাজের সম্ভাব্য খরচ জানতেও মিউজকে ব্যবহার করা যায়।

এই ধারণার মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর সময় ও শ্রম বাঁচানো। মানুষ নিজে ফোন করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করবেন না; বরং এআই তার হয়ে কথা বলে কাজটি সম্পন্ন করবে।

কিন্তু বাস্তব ব্যবহারে দেখা যায়, সব প্রতিষ্ঠান এআইয়ের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নয়।

এআই বললেই ফোন কেটে দিচ্ছিল কিছু প্রতিষ্ঠান

মেটার কর্মীদের অভ্যন্তরীণ পোস্টে এমন অভিজ্ঞতার কথাও উঠে এসেছে। একজন কর্মী জানান, তিনি নিজের বিমা প্রতিষ্ঠানে মিউজকে ফোন করিয়েছিলেন। কিন্তু অপর প্রান্তের কর্মীরা বুঝতে পারার পর যে ফোনটি এআই করছে, তারা বারবার কল কেটে দিচ্ছিলেন।

এই সমস্যা মিউজের মতো এআই এজেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এআই যতই দক্ষ হোক, অপর প্রান্তের মানুষ যদি তার সঙ্গে কথা বলতে না চান, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটিই ব্যর্থ হয়ে যায়।

এই বাধা কাটাতে মেটা পরীক্ষামূলকভাবে একটি ‘হিউম্যান কনসিয়ার্জ’ বা মানব সহকারী ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে মিউজ কোনো কাজের জন্য ফোন করার প্রয়োজন হলে, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেই অনুরোধ একজন প্রশিক্ষিত মানব কর্মীর কাছে পাঠাতে পারত।

এরপর ওই কর্মী ব্যবহারকারীর হয়ে ফোন করে প্রয়োজনীয় কাজটি সম্পন্ন করতেন।

অর্থাৎ বাইরে থেকে ব্যবহারকারীর কাছে মনে হতে পারে, মিউজই তার হয়ে ফোন করেছে। কিন্তু বাস্তবে ফোনের অপর প্রান্তে কথা বলছেন একজন মানুষ।

Facebook's Muse AI: How the new AI agent works, its features and what it  can do - K24 Digital

মানুষের মাধ্যমে সাফল্যের হার ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ

মেটার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট অভ্যন্তরীণ আলোচনায় জানিয়েছেন, কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষের মাধ্যমে ফোন করালে কাজ সফল হওয়ার হার ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে। শুধু এআই দিয়ে ফোন করার ক্ষেত্রে সফলতার হার ছিল এর চেয়ে কম।

এই তথ্য থেকেই বোঝা যায়, বাস্তব জগতে মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ক্ষেত্রে এআই এখনও কিছু সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে।

মানুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। অপর পক্ষ অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন করতে পারে, কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ব্যাখ্যা করতে পারে কিংবা এআইয়ের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কিন্তু এআইকে একই দক্ষতায় কাজ করাতে হলে আরও উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন।

মেটার জন্য তাই মানব সহকারী ব্যবস্থা ছিল এক ধরনের বাস্তব পরীক্ষা—এআই পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে না পারলে মানুষকে কতটা যুক্ত করা যায় এবং সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন গোপনীয়তা নিয়ে

মানব কর্মীদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তের পর মেটার ভেতরেই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয় ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে।

মিউজকে একজন ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ব্যবহার করার সময় একজন মানুষ নানা ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য দিতে পারেন। তার ই-মেইল, ভ্রমণ পরিকল্পনা, কেনাকাটার তথ্য, বিমা, বিল, অর্থনৈতিক বিষয় কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন নিয়ে এআইকে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

এই তথ্যের কোনো অংশ যদি মানুষের হাতে চলে যায়, তাহলে ব্যবহারকারী সেটি জানেন কি না—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

মেটার এক কর্মী অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, একটি ছোট প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তথ্য মানব কর্মীর কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তার প্রশ্ন ছিল, এমন ঝুঁকি নেওয়া আদৌ কতটা যুক্তিযুক্ত।

আরেক কর্মী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, তিনি মিউজকে ইন্টারনেট ও কেবল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে ফোন করে নিজের বিল কমানোর বিষয়ে আলোচনা করতে বলেছিলেন। পরে পাওয়া ফোনকলের প্রতিলিপিতে তিনি মানব কর্মীর কাছ থেকে বর্ণসম্পর্কিত একটি আপত্তিকর মন্তব্য দেখতে পান।

ঘটনাটি মেটার অভ্যন্তরে আরও উদ্বেগ তৈরি করে।

Meta Tests Human Support for Muse AI Agent as Privacy Concerns Raise  Investor Questions - TipRanks.com

ভুল স্বীকার করে পরীক্ষা বন্ধ করল মেটা

মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস ইউনিটের একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন, যথাযথভাবে ব্যবহারকারীদের জানানো ছাড়াই মানব কর্মীদের দিয়ে ফোন করানোর পরীক্ষা শুরু করা ঠিক হয়নি।

তিনি এটিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেন এবং জানান, আপাতত এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বর্ণসম্পর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ করা কর্মীর কাছেও তিনি ক্ষমা চান। একই সঙ্গে জানান, সংশ্লিষ্ট মানব কর্মীকে ভবিষ্যতে মেটার কোনো প্রকল্পে কাজ করতে দেওয়া হবে না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মেটা এআই ফোনকলের ধারণা থেকে সরে যাচ্ছে। বরং প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মিউজের ফোনকলের সক্ষমতা আরও উন্নত করার কাজ চলবে।

মেটার নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তৈরি হয়েছে বৈপরীত্য

মিউজ চালুর সময় মেটা তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, প্রতিটি এআই এজেন্টের জন্য আলাদা নিরাপদ ‘ভার্চুয়াল মেশিন’ থাকবে।

সহজ ভাষায়, একজন ব্যবহারকারী যখন মিউজ ব্যবহার করবেন, তার কাজের জন্য ক্লাউডে একটি আলাদা কম্পিউটিং পরিবেশ তৈরি হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর সেশনকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা।

মেটা আরও জানিয়েছিল, পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্য আলাদা নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থায় রাখা হবে।

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা মিউজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

কিন্তু ফোনকলের ক্ষেত্রে যদি মানব কর্মীকে যুক্ত করা হয়, তাহলে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বাইরে নতুন একটি ঝুঁকি তৈরি হয়। এআইয়ের সুরক্ষিত পরিবেশের মধ্যে তথ্য থাকলেও, সেই তথ্য ফোনের মাধ্যমে কোনো মানুষের কাছে পৌঁছে গেলে বিষয়টি আর শুধু সফটওয়্যারের নিরাপত্তার মধ্যে থাকে না।

মেটার কর্মীরা তাই মনে করছেন, মানব সহকারী ব্যবস্থাটি মিউজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয়-যুক্তি—গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা—দুর্বল করে দিতে পারে।

এআইয়ের আড়ালে মানুষের শ্রম নতুন বিষয় নয়

মিউজের ঘটনা প্রযুক্তি শিল্পের আরও একটি পুরোনো বাস্তবতা সামনে এনেছে। এআইকে যতটা স্বয়ংক্রিয় হিসেবে দেখানো হয়, বাস্তবে অনেক এআই ব্যবস্থার পেছনে মানুষের শ্রম থাকে।

কখনো মানুষ এআইকে প্রশিক্ষণ দেয়, কখনো ভুল তথ্য ঠিক করে, আবার কখনো এআই যে কাজটি নিজে করতে পারেনি, সেটি মানুষ সম্পন্ন করে দেয়।

Amazon Blocks Meta's Muse AI Agent From Shopping Its Store | PCMag

মেটার বর্তমান পরীক্ষার সঙ্গে প্রায় এক দশক আগের একটি প্রকল্পেরও মিল রয়েছে।

ফেসবুক মেসেঞ্জারে মেটা তখন ‘এম’ নামে একটি ডিজিটাল সহকারী পরীক্ষা করেছিল। সেই প্রকল্প নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এজেন্টটির প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ বাস্তবে মানুষ করে দিতেন।

অর্থাৎ এআই সহকারীকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় দেখানোর ধারণার পেছনে মানুষের শ্রম ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরোনো।

মিউজের ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতা আবার সামনে এসেছে।

মিউজের জনপ্রিয়তা অবশ্য দ্রুত বাড়ছে

গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মিউজের জনপ্রিয়তা কমেনি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, চালুর পর দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মিউজের ডাউনলোড ২৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপ ডাউনলোডের তালিকায়ও মিউজ শীর্ষে উঠেছে।

মিউজের বাজার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেড়েছে। মিউজ চালুর পর মেটার শেয়ারের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়ে যায়। গত সাত মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে মেটার শেয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়েও পৌঁছেছিল। তবে মঙ্গলবার শেয়ারের দাম ০.৬ শতাংশ কমে যায়।

এ থেকে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এআই এজেন্টকে মেটার ভবিষ্যৎ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে।

মেটার সামনে এখন দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ

মিউজের সামনে এখন মূলত দুটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রথমটি প্রযুক্তিগত। এআইকে এমনভাবে উন্নত করতে হবে, যাতে সে মানুষের সঙ্গে ফোনে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Meta's AI agent can now do the work for you | THE DAILY TRIBUNE | KINGDOM  OF BAHRAIN

 

দ্বিতীয়টি হলো আস্থা ও গোপনীয়তা। ব্যবহারকারীকে স্পষ্টভাবে জানতে হবে, তার হয়ে ফোনটি আসলে কে করছে—এআই, নাকি একজন মানুষ।

এখানে স্বচ্ছতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন ব্যবহারকারী যদি মনে করেন তিনি একটি এআইয়ের সঙ্গে কাজ করছেন, কিন্তু পরে জানতে পারেন যে তার ব্যক্তিগত কাজ একজন মানব কর্মী করেছেন, তাহলে তার আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে বিল, বিমা, ভ্রমণ, চিকিৎসা, আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মতো সংবেদনশীল কাজে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ভবিষ্যতের এআই কি সত্যিই মানুষের বদলি হবে?

মিউজের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত একটি বড় প্রশ্নের সামনে নিয়ে এসেছে—এআই কি সত্যিই মানুষের জায়গা নিতে পারবে, নাকি মানুষের সহায়তা নিয়েই দীর্ঘ সময় এগোতে হবে?

এআই মানুষের অনেক কাজ দ্রুত ও সহজ করে দিতে পারছে। কিন্তু বাস্তব জগতের জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের বিচারবোধ, সামাজিক আচরণ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

মেটার পরীক্ষায় মানুষের সাহায্যে ফোনকলের সাফল্যের হার ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছানো এটাই দেখায় যে, প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠেনি।

তবে এআই শিল্পের লক্ষ্যও থেমে নেই। মেটা বলছে, তারা ফোনকলের প্রযুক্তি আরও উন্নত করবে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই ভবিষ্যতে এই সুবিধা আরও বড় পরিসরে চালু করা হবে।

মিউজের ক্ষেত্রে তাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু এআই কত ভালোভাবে ফোন করতে পারে, সেটি নয়। বরং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রেখে, মানুষকে প্রয়োজনের সময় কতটা স্বচ্ছভাবে যুক্ত করা যায়—সেটিই হয়ে উঠছে আসল চ্যালেঞ্জ।