ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক পুনর্গঠনের আলোচনা বছরের শেষ নাগাদ একটি বাস্তব চুক্তিতে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বাণিজ্য, তরুণদের চলাচল এবং ইউরোপীয় পণ্যের জন্য নতুন নিয়ম নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে চান তিনি।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে গিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনের সঙ্গে বৈঠক করেন বার্নহ্যাম। সেখানে ব্রিটেন-ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা নতুন সমঝোতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
ব্রিটিশ শিল্পে ‘মেড ইন ইউরোপ’ নিয়ে উদ্বেগ
ব্রিটেন ও ইইউর মধ্যে আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত ‘মেড ইন ইউরোপ’ বিধিমালা। ব্রাসেলস এখনো ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়নি। ব্রিটিশ মন্ত্রীরা আশঙ্কা করছেন, নতুন বিধি কার্যকর হলে দেশটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরবরাহব্যবস্থা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।

বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা ব্রাসেলসকে জানিয়েছেন, এই বিষয়ে অগ্রগতি ছাড়া ব্রিটেন কোনো শীর্ষ সম্মেলনে এগোতে চায় না। খাদ্য ও পানীয় বাণিজ্য এবং তরুণদের চলাচল নিয়ে যে সম্মেলন জুলাইয়ে হওয়ার কথা ছিল, সেটিও ইতোমধ্যে দুই দফা পিছিয়েছে।
তরুণদের চলাচল নিয়েও মতপার্থক্য
ব্রিটেনের সঙ্গে ইইউর সম্ভাব্য নতুন যুব চলাচল কর্মসূচি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা। ৩০ বছরের কম বয়সী ইউরোপীয় তরুণদের ব্রিটেনে এসে বসবাস ও কাজের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একটি খসড়া সমঝোতা হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময়ে।
তবে এই কর্মসূচিতে কতজন অংশ নিতে পারবেন, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ব্রিটেনের গ্রহণযোগ্য সীমা ছিল বছরে ৫০ হাজার। বিপরীতে ইইউ ১ লাখ তরুণের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে। ব্রিটিশ সরকারের ভেতরে আশঙ্কা রয়েছে, বড় পরিসরের এই কর্মসূচিকে রিফর্ম পার্টি অবাধ চলাচলের সুযোগ পুনঃপ্রবর্তনের পথ হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ফিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ফি নিয়ে বার্নহ্যাম আগের সরকারের তুলনায় নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইইউভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মতো বেশি ফি না নিয়ে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের সমপর্যায়ের ফি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
আগামী শিক্ষাবর্ষে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ফি ৯ হাজার ৭৯০ পাউন্ড। বিপরীতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তা ৩৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। এই বিষয়ে ছাড় দেওয়া হলে খাদ্য ও পানীয় বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজার নিয়ে ইইউর সঙ্গে সমঝোতার পথও সহজ হতে পারে।
বার্নহ্যাম বলেছেন, কিয়ার স্টারমারের সময়ে পুনর্গঠিত সম্পর্ককে আরও বাস্তবভিত্তিক পর্যায়ে নিতে চান তিনি। তাঁর ভাষায়, ব্রিটেন ও ইউরোপের সামনে নিরাপত্তা হুমকি থেকে শুরু করে ইস্পাতের অতিরিক্ত উৎপাদন—একাধিক অভিন্ন চাপ রয়েছে। এসব মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপই কার্যকর হতে পারে।
ইইউতে আবার যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বার্নহ্যাম বলেন, বিষয়টি ‘অন্য এক দিনের’ জন্য রেখে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইইউ বর্তমানে কানাডার সঙ্গে যে ধরনের ‘সহযোগী সদস্যপদ’ নিয়ে আলোচনা করছে, সে ধরনের ব্যবস্থা ব্রিটেনের জন্য এখন উন্মুক্ত নয়।
বার্নহ্যামের লক্ষ্য, চলমান মতপার্থক্য সত্ত্বেও বছরের শেষ নাগাদ একটি সফল ব্রিটেন-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে বাস্তব সমঝোতায় পৌঁছানো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















