০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ডিপসিক, এআই ঝুঁকি নিয়ে বৈঠক আজ জাভা সাগরে ফেরিডুবিতে মৃত বেড়ে ২৬, এখনো নিখোঁজ ১০৯ যাত্রী শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে হামলার সাত বছর পর ১৫ জনের দীর্ঘ কারাদণ্ড ইমরান খানের মুক্তির মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদের সব পথ বন্ধ ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় চুক্তির চেয়ে স্থিতাবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ অ্যালকোহলের বোতলে স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্যই নেই, ‘দায়িত্বশীলভাবে পান’ বার্তাই বেশি চীনা রাষ্ট্রীয় টিভিতে শির প্রশংসায় ইলন মাস্ক, ওয়াশিংটনে অস্বস্তি হোয়াইট হাউসে শি জিনপিং, বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ ফুরানোর আগে বৈঠক বিশ্বে তেল-গ্যাসের নতুন খনি আবিষ্কার ৪০ বছরে সর্বনিম্নে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, একই দিনে ট্রাম্পের ধ্বংসের হুমকি

এআই জোয়ারে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে, এল নিনো ও জ্বালানি বড় ঝুঁকি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ শতাংশ। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে এটি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। চ্যানেল নিউজএশিয়া জানিয়েছে, দেশীয় চাহিদা আর এআই চিপের চাহিদা মিলে জ্বালানির উচ্চ দাম ও এল নিনোর ধাক্কা কিছুটা সামলে দিচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি প্রণোদনাও সহায়তা করছে। তবে ২০২৫ সালের সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এটি ধীরগতি। ২০২৭ সালের পূর্বাভাস ৫ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত আছে। এডিবি বলছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের দীর্ঘ সংঘাত জ্বালানি বাজারকে অস্থির রেখেছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে খুব শক্তিশালী এল নিনো, যা বছরের শেষ দিকে আরও তীব্র হতে পারে। কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যের দাম দুটোই তাতে ঝুঁকিতে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ভিয়েতনামের। এডিবি এখন দেশটির চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ধরছে। জুলাইয়ে এটি ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। মালয়েশিয়ার পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৬ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। থাইল্যান্ডেরটা সামান্য বেড়ে ২ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়া ৫ দশমিক ২ শতাংশে স্থির। উল্টো পথে হেঁটেছে ফিলিপাইন। দেশটির চলতি বছরের পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৮ থেকে নেমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। চীনের পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৬ শতাংশে অপরিবর্তিত। অঞ্চলের গড় মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সামান্য কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। ব্যাপক ভর্তুকি জ্বালানির দামের চাপ কিছুটা শুষে নিয়েছে। তবে ২০২৭ সালের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ ভর্তুকির স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

এআই চিপের চাহিদা এখন এশিয়ার অর্থনীতির বড় ভিত্তি। এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টরের বড় অংশ এই অঞ্চলেই তৈরি হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান উচ্চমানের চিপের বড় উৎপাদক। মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ড চিপ সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত এবং নতুন বিনিয়োগ পাচ্ছে। এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক স্বীকার করেছেন, এই জোয়ার কতদিন টিকবে তা নিয়ে ঝুঁকি আছে। শেয়ারের অতিমূল্যায়ন নিয়েও শঙ্কা আছে। তবে তাঁর মতে, সংশোধন এলেও তা হবে স্বল্পমেয়াদি। তিনি বলেন, “পথ হবে এবড়োখেবড়ো, কিন্তু দিক পরিষ্কার। এআই থাকবে এবং ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

এর বিপরীত ছবি বাংলাদেশে। একই প্রতিবেদনে এডিবি বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ৪ শতাংশ ধরেছে। চিপ সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তাই এআই চিপের চাহিদা থেকে আসা সুফল ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে না। অথচ ইউক্রেন, ইরান ও ইয়েমেনের যুদ্ধে জ্বালানির উচ্চ দামের ধাক্কা ঠিকই লাগছে। এসব যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত করেছে। এল নিনো কৃষি উৎপাদনে আঘাত হানলে খাদ্যের দামও বাড়বে। অঞ্চলের যে দেশগুলো এই জোয়ারে ভাসছে আর যারা তীরে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের ফারাক আরও বাড়তে পারে।

ভিয়েতনাম আর বাংলাদেশ একসময় পোশাক রপ্তানিতে একই দৌড়ে ছিল। এডিবির হিসাবে এ বছর দুই দেশের প্রবৃদ্ধির ব্যবধান প্রায় চার শতাংশ পয়েন্ট। সেই ব্যবধানের বড় অংশ এখন চিপ কারখানার দেয়ালের ভেতরে লেখা।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রথমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ডিপসিক, এআই ঝুঁকি নিয়ে বৈঠক আজ

এআই জোয়ারে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে, এল নিনো ও জ্বালানি বড় ঝুঁকি

০৬:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ শতাংশ। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে এটি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। চ্যানেল নিউজএশিয়া জানিয়েছে, দেশীয় চাহিদা আর এআই চিপের চাহিদা মিলে জ্বালানির উচ্চ দাম ও এল নিনোর ধাক্কা কিছুটা সামলে দিচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি প্রণোদনাও সহায়তা করছে। তবে ২০২৫ সালের সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এটি ধীরগতি। ২০২৭ সালের পূর্বাভাস ৫ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত আছে। এডিবি বলছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের দীর্ঘ সংঘাত জ্বালানি বাজারকে অস্থির রেখেছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে খুব শক্তিশালী এল নিনো, যা বছরের শেষ দিকে আরও তীব্র হতে পারে। কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যের দাম দুটোই তাতে ঝুঁকিতে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ভিয়েতনামের। এডিবি এখন দেশটির চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ধরছে। জুলাইয়ে এটি ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। মালয়েশিয়ার পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৬ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। থাইল্যান্ডেরটা সামান্য বেড়ে ২ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়া ৫ দশমিক ২ শতাংশে স্থির। উল্টো পথে হেঁটেছে ফিলিপাইন। দেশটির চলতি বছরের পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৮ থেকে নেমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। চীনের পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৬ শতাংশে অপরিবর্তিত। অঞ্চলের গড় মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সামান্য কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। ব্যাপক ভর্তুকি জ্বালানির দামের চাপ কিছুটা শুষে নিয়েছে। তবে ২০২৭ সালের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ ভর্তুকির স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

এআই চিপের চাহিদা এখন এশিয়ার অর্থনীতির বড় ভিত্তি। এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টরের বড় অংশ এই অঞ্চলেই তৈরি হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান উচ্চমানের চিপের বড় উৎপাদক। মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ড চিপ সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত এবং নতুন বিনিয়োগ পাচ্ছে। এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক স্বীকার করেছেন, এই জোয়ার কতদিন টিকবে তা নিয়ে ঝুঁকি আছে। শেয়ারের অতিমূল্যায়ন নিয়েও শঙ্কা আছে। তবে তাঁর মতে, সংশোধন এলেও তা হবে স্বল্পমেয়াদি। তিনি বলেন, “পথ হবে এবড়োখেবড়ো, কিন্তু দিক পরিষ্কার। এআই থাকবে এবং ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

এর বিপরীত ছবি বাংলাদেশে। একই প্রতিবেদনে এডিবি বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ৪ শতাংশ ধরেছে। চিপ সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তাই এআই চিপের চাহিদা থেকে আসা সুফল ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে না। অথচ ইউক্রেন, ইরান ও ইয়েমেনের যুদ্ধে জ্বালানির উচ্চ দামের ধাক্কা ঠিকই লাগছে। এসব যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত করেছে। এল নিনো কৃষি উৎপাদনে আঘাত হানলে খাদ্যের দামও বাড়বে। অঞ্চলের যে দেশগুলো এই জোয়ারে ভাসছে আর যারা তীরে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের ফারাক আরও বাড়তে পারে।

ভিয়েতনাম আর বাংলাদেশ একসময় পোশাক রপ্তানিতে একই দৌড়ে ছিল। এডিবির হিসাবে এ বছর দুই দেশের প্রবৃদ্ধির ব্যবধান প্রায় চার শতাংশ পয়েন্ট। সেই ব্যবধানের বড় অংশ এখন চিপ কারখানার দেয়ালের ভেতরে লেখা।