০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, চূড়ায় ওঠার আগেই ভাঙল রেকর্ড চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে স্কুলে গুলি, ওপেনএআইকে নতুন স্কুল গড়ে দিতে মামলা ১৮৯৭ থেকে পথিকের আশ্রয়, আধুনিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে নতুন করে জেগে উঠছে আর্কটিকের ছোট্ট দ্বীপ টয়োটার কারখানায় চার লাখ রোবটের পরিকল্পনা, শ্রমিকেরাই শেখাচ্ছেন কাজ ভারতে স্মার্ট চশমায় গোপন ভিডিও, এক ভিডিওতে উল্টে গেল জীবন আলুর রাজধানীতে চীনের এআই ডেটা সেন্টার, গড়ে উঠছে চীনা গতিতে এআই নিয়ে বিপর্যয়ের সতর্কতা, তবু গতি কমাতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রথমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ডিপসিক, এআই ঝুঁকি নিয়ে বৈঠক আজ জাভা সাগরে ফেরিডুবিতে মৃত বেড়ে ২৬, এখনো নিখোঁজ ১০৯ যাত্রী

জাভা সাগরে ফেরিডুবিতে মৃত বেড়ে ২৬, এখনো নিখোঁজ ১০৯ যাত্রী

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী ফেরিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ২০। এখনো ১০৯ জন নিখোঁজ। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ১০৮ জন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক চ্যানেল নিউজএশিয়া এ খবর দিয়েছে। ভার্গো ট্রান্সপোর্ট এইট নামের ফেরিটিতে ৩০ জন ক্রুসহ ২৪৩ জন ছিলেন। সঙ্গে ছিল অজানাসংখ্যক যানবাহন। ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের বানজারমাসিন যাওয়ার পথে খারাপ আবহাওয়ায় ফেরিটি উল্টে যায়। দশ দিন পরও জাভা সাগরে ফেরিডুবির ঘটনা ঘিরে উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধারকারীরা আরও মরদেহ পাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

জাতীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ সাফিই জানান, গত তিন দিনে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী জাহাজের ভেতর থেকে আটটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুটি মরদেহ ভেসে গিয়েছিল প্রায় ২৫৩ কিলোমিটার দূরে মধ্য কালিমান্তানের উপকূলে। সোমবার পাঁচটি, মঙ্গলবার চারটি ও বুধবার সাতটি মরদেহ পাওয়া যায়। বানজারমাসিন উদ্ধার সংস্থার প্রধান ই পুতু সুদায়ানা বলেন, অনুসন্ধান এখন জাহাজের কেবিনে কেন্দ্রীভূত। অনেক যাত্রীকে কেবিনে আটকে থাকা অবস্থায় দেখা গেছে। মঙ্গলবার ডুবুরিরা কেবিনের জানালা ভাঙতে পেরেছিলেন। কিন্তু ঘোলা পানি ও তীব্র স্রোতের কারণে ভেতরে ঢুকতে পারেননি। ফলে দেখা যাওয়া মরদেহও উদ্ধার করা যায়নি।Indonesia Ferry Disaster Death Toll Rises To 26

এরপর সম্ভব হলে ফেরিতে থাকা যানবাহনগুলোর মধ্যে খোঁজা হবে। কিন্তু সেগুলো একটার ওপর আরেকটা স্তূপ হয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। পুতু বলেন, “এটি ডুবুরিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ হলে তবেই আমরা অনুসন্ধান চালাব।” উদ্ধার অভিযান আগামী সপ্তাহের রোববার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জাহাজটি সোজা করার চেষ্টাও চলছে, তবে বুধবার পর্যন্ত এটি উল্টেই ছিল। তীরে অপেক্ষমাণ স্বজনেরা প্রতিদিন নতুন তালিকার দিকে তাকিয়ে থাকছেন। হাজারো দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। দেশটিতে অতিরিক্ত যাত্রী, দুর্বল নিরাপত্তা তদারকি ও খারাপ আবহাওয়ায় যাত্রার কারণে প্রায়ই নৌদুর্ঘটনা ঘটে। জাভা সাগরে ফেরিডুবির ঘটনা তাই নৌ নিরাপত্তা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছে। ফেরিটি কেন খারাপ আবহাওয়ায় যাত্রা করেছিল এবং কতগুলো যানবাহন বহন করছিল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠছে।

বাংলাদেশের পাঠকের কাছে এই ছবি অপরিচিত নয়। নদীমাতৃক দেশে লঞ্চ ও ফেরি লাখো মানুষের প্রতিদিনের বাহন। মেঘনা, পদ্মা ও বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি এবং লঞ্চে আগুনে শত শত মানুষের মৃত্যুর স্মৃতি এখনো তাজা। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীসংখ্যার সঠিক তালিকাও থাকে না, ফলে নিখোঁজের হিসাব মেলে না। জাভা সাগরে ফেরিডুবির ঘটনাতেও যানবাহনের সংখ্যা অজানা। স্বজনেরা তাই এখনো নিশ্চিত নন, তাঁদের প্রিয়জন আদৌ ফেরিতে ছিলেন কি না। দুই দেশের অভিজ্ঞতা একই কথা বলে। যাত্রী তালিকা, আবহাওয়া সতর্কতা মেনে চলা, লাইফ জ্যাকেট ও নৌযানের ফিটনেস নিশ্চিত না হলে দুর্ঘটনা থামবে না। বর্ষা শেষে নদীতে স্রোত থাকতেই এই সতর্কতা আরও জরুরি। উদ্ধার সক্ষমতা, বিশেষ করে ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজ বাড়ানোর প্রশ্নও আছে।

দশ দিন ধরে ডুবুরিরা জাহাজের খোলের পাশে নামছেন। কেবিনের ভাঙা জানালা দিয়ে তাঁরা যাত্রীদের দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু স্রোত তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

জাভা সাগরে ফেরিডুবিতে মৃত বেড়ে ২৬, এখনো নিখোঁজ ১০৯ যাত্রী

০৭:০৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী ফেরিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ২০। এখনো ১০৯ জন নিখোঁজ। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ১০৮ জন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক চ্যানেল নিউজএশিয়া এ খবর দিয়েছে। ভার্গো ট্রান্সপোর্ট এইট নামের ফেরিটিতে ৩০ জন ক্রুসহ ২৪৩ জন ছিলেন। সঙ্গে ছিল অজানাসংখ্যক যানবাহন। ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের বানজারমাসিন যাওয়ার পথে খারাপ আবহাওয়ায় ফেরিটি উল্টে যায়। দশ দিন পরও জাভা সাগরে ফেরিডুবির ঘটনা ঘিরে উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধারকারীরা আরও মরদেহ পাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

জাতীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ সাফিই জানান, গত তিন দিনে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী জাহাজের ভেতর থেকে আটটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুটি মরদেহ ভেসে গিয়েছিল প্রায় ২৫৩ কিলোমিটার দূরে মধ্য কালিমান্তানের উপকূলে। সোমবার পাঁচটি, মঙ্গলবার চারটি ও বুধবার সাতটি মরদেহ পাওয়া যায়। বানজারমাসিন উদ্ধার সংস্থার প্রধান ই পুতু সুদায়ানা বলেন, অনুসন্ধান এখন জাহাজের কেবিনে কেন্দ্রীভূত। অনেক যাত্রীকে কেবিনে আটকে থাকা অবস্থায় দেখা গেছে। মঙ্গলবার ডুবুরিরা কেবিনের জানালা ভাঙতে পেরেছিলেন। কিন্তু ঘোলা পানি ও তীব্র স্রোতের কারণে ভেতরে ঢুকতে পারেননি। ফলে দেখা যাওয়া মরদেহও উদ্ধার করা যায়নি।Indonesia Ferry Disaster Death Toll Rises To 26

এরপর সম্ভব হলে ফেরিতে থাকা যানবাহনগুলোর মধ্যে খোঁজা হবে। কিন্তু সেগুলো একটার ওপর আরেকটা স্তূপ হয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। পুতু বলেন, “এটি ডুবুরিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ হলে তবেই আমরা অনুসন্ধান চালাব।” উদ্ধার অভিযান আগামী সপ্তাহের রোববার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জাহাজটি সোজা করার চেষ্টাও চলছে, তবে বুধবার পর্যন্ত এটি উল্টেই ছিল। তীরে অপেক্ষমাণ স্বজনেরা প্রতিদিন নতুন তালিকার দিকে তাকিয়ে থাকছেন। হাজারো দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। দেশটিতে অতিরিক্ত যাত্রী, দুর্বল নিরাপত্তা তদারকি ও খারাপ আবহাওয়ায় যাত্রার কারণে প্রায়ই নৌদুর্ঘটনা ঘটে। জাভা সাগরে ফেরিডুবির ঘটনা তাই নৌ নিরাপত্তা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছে। ফেরিটি কেন খারাপ আবহাওয়ায় যাত্রা করেছিল এবং কতগুলো যানবাহন বহন করছিল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠছে।

বাংলাদেশের পাঠকের কাছে এই ছবি অপরিচিত নয়। নদীমাতৃক দেশে লঞ্চ ও ফেরি লাখো মানুষের প্রতিদিনের বাহন। মেঘনা, পদ্মা ও বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি এবং লঞ্চে আগুনে শত শত মানুষের মৃত্যুর স্মৃতি এখনো তাজা। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীসংখ্যার সঠিক তালিকাও থাকে না, ফলে নিখোঁজের হিসাব মেলে না। জাভা সাগরে ফেরিডুবির ঘটনাতেও যানবাহনের সংখ্যা অজানা। স্বজনেরা তাই এখনো নিশ্চিত নন, তাঁদের প্রিয়জন আদৌ ফেরিতে ছিলেন কি না। দুই দেশের অভিজ্ঞতা একই কথা বলে। যাত্রী তালিকা, আবহাওয়া সতর্কতা মেনে চলা, লাইফ জ্যাকেট ও নৌযানের ফিটনেস নিশ্চিত না হলে দুর্ঘটনা থামবে না। বর্ষা শেষে নদীতে স্রোত থাকতেই এই সতর্কতা আরও জরুরি। উদ্ধার সক্ষমতা, বিশেষ করে ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজ বাড়ানোর প্রশ্নও আছে।

দশ দিন ধরে ডুবুরিরা জাহাজের খোলের পাশে নামছেন। কেবিনের ভাঙা জানালা দিয়ে তাঁরা যাত্রীদের দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু স্রোত তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না।