চীনা এআই কোম্পানি ডিপসিক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে বক্তব্য দেবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুটি সূত্রের বরাতে এ খবর দিয়েছে। সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইটস টাইমস খবরটি প্রকাশ করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য ২৩ সেপ্টেম্বর এআই ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে বসবে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে এআই শিল্পের কয়েকজন শীর্ষ নেতা সমন্বিতভাবে উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তাঁদের সতর্কতা ছিল, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা শিগগিরই নিজেরাই নিজেদের উন্নত করতে শুরু করতে পারে এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিষদে এআই বৈঠক বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ছে।
বৈঠকে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বক্তব্য দেবেন। অ্যানথ্রপিকের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদেরও উপস্থিত থাকার কথা। সূত্র জানিয়েছে, ডিপসিকের পাশাপাশি চীনা কোম্পানি মুনশটকেও বিবৃতি দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ডিপসিকের প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং নিজে উপস্থিত থাকবেন না। পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বদলাতে পারে বলেও সূত্রটি সতর্ক করেছে। ডিপসিক ও মুনশট তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। নিরাপত্তা পরিষদ প্রথম এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে বৈঠক করেছিল ২০২৩ সালে। তখন চীন সতর্ক করেছিল, এআই যেন “লাগামছাড়া ঘোড়া” না হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র তখন বলেছিল, এআই দিয়ে যেন মানুষকে দমন বা মতপ্রকাশে বাধা দেওয়া না হয়।
এআই ঝুঁকি নিয়ে দুই পরাশক্তির অবস্থান ভিন্ন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত সপ্তাহে বলেছেন, দ্রুত অগ্রসরমাণ এআইয়ের ঝুঁকি উপেক্ষা করা যায় না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্টো বলছেন, বিদ্যমান সুরক্ষাই যথেষ্ট। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতি কমানোর আহ্বানকে “স্নায়ুযুদ্ধের কৌশল” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন এআই কোম্পানির নেতারা যেভাবে প্রকাশ্যে বিপর্যয়ের ঝুঁকির কথা বলেন, চীনা কোম্পানির প্রধানেরা সাধারণত তা বলেন না। তাই নিরাপত্তা পরিষদে এআই বৈঠক এ ক্ষেত্রে একটি পরীক্ষা। চীনা কোম্পানিগুলো সেখানে ঝুঁকি নিয়ে কতটা খোলামেলা কথা বলে, সেদিকে নজর থাকবে বিশ্লেষকদের। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের আগে দুই দেশের কর্মকর্তারা এআই নিরাপত্তা নিয়ে আরও আলোচনায় রাজি হয়েছেন।
বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য বিষয়টি দূরের মনে হলেও বাস্তবে তা মোটেই দূরের নয়। এআই কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, সেই নিয়ম লেখা হচ্ছে বড় শক্তিগুলোর টেবিলে। অথচ ভুয়া তথ্য, সাইবার হামলা ও কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও ও ছবি ছড়ানোর অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যে হয়েছে। জাতিসংঘের মঞ্চে বৈশ্বিক নিয়ম তৈরি হলে ছোট দেশগুলোর কথা বলার সুযোগ থাকে। তাই নিরাপত্তা পরিষদে এআই বৈঠক ঢাকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া ছোট দেশগুলোর একার পক্ষে লড়াই কঠিন। বাংলাদেশের ভাষা ও প্রেক্ষাপটে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট ধরার প্রযুক্তিও এখনো দুর্বল।
২০২৩ সালে চীন এআইকে লাগামছাড়া ঘোড়ার সঙ্গে তুলনা করেছিল। তিন বছর পর সেই ঘোড়ার অন্যতম সওয়ার ডিপসিক নিজেই নিরাপত্তা পরিষদে এসে বলবে, লাগাম কতটা শক্ত হওয়া দরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















