০৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, চূড়ায় ওঠার আগেই ভাঙল রেকর্ড চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে স্কুলে গুলি, ওপেনএআইকে নতুন স্কুল গড়ে দিতে মামলা ১৮৯৭ থেকে পথিকের আশ্রয়, আধুনিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে নতুন করে জেগে উঠছে আর্কটিকের ছোট্ট দ্বীপ টয়োটার কারখানায় চার লাখ রোবটের পরিকল্পনা, শ্রমিকেরাই শেখাচ্ছেন কাজ ভারতে স্মার্ট চশমায় গোপন ভিডিও, এক ভিডিওতে উল্টে গেল জীবন

আলুর রাজধানীতে চীনের এআই ডেটা সেন্টার, গড়ে উঠছে চীনা গতিতে

চীনের অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ার বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে কৃষকেরা আলু তুলছেন। তাঁদের নতুন প্রতিবেশী বিশাল আয়তাকার সব ভবন। এগুলো চীনের এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর শক্তি জোগাবে। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি উলানচাব শহর থেকে এই প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। বহু বছর ধরে শহরটি চীনের সরকারি “আলুর রাজধানী” নামে পরিচিত। এখন এর মাঠগুলো একের পর এক ডেটা সেন্টারের নির্মাণস্থল। হলুদ হেলমেট পরা শত শত শ্রমিক ভারী যন্ত্রপাতি বহন করছেন, মাথার ওপর দিয়ে বিশাল ক্রেন ঘুরছে। এক শ্রমিক হেসে বললেন, “এটাই চীনা গতি।” নিজের দেশকে তিনি বললেন “অবকাঠামোর পাগল”। এক বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী জানালেন, প্রতি বছর একটি করে ধাপ শেষ হয়। এটি দ্বিতীয় ধাপ, সামনে আরও অনেক ধাপ আসবে। চীনের এআই ডেটা সেন্টার এভাবেই তৃণভূমি বদলে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে এআই। আর সেই প্রতিযোগিতার চাবি এসব ভবনের ভেতরের কম্পিউটিং শক্তি। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কাছে এগুলো অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ শিল্প ও সমাজে এআই ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য আছে বেইজিংয়ের। চীন শুধু অবকাঠামো গড়ছে না, মেধাও গড়ছে। ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নার গবেষক জ্যাক ঝাং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া শিক্ষার্থী ও গবেষকের সংখ্যা কমছে। উল্টো সেখান থেকে ফেরার সংখ্যা বাড়ছে। তিনি নিজে ইয়েল ও কেমব্রিজে পড়ার পর একটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। মার্কিন অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি ও উত্তেজনা এতে ভূমিকা রাখছে।China AI: Data centres rise from the rolling plains of Inner Mongolia

চীনের এই অগ্রগতিই যুক্তরাষ্ট্রের গতি না কমানোর বড় যুক্তি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছেন, “যে এআইতে জিতবে, সে-ই জিতবে।” অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই চীনে উন্নত চিপ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে। তাঁর মতে, চীন এগিয়ে গেলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য গুরুতর বিপদ। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস এসব উদ্বেগকে চীনকে আটকানোর “স্নায়ুযুদ্ধের কৌশল” বলছে। শি জিনপিং চীনা কোম্পানিগুলোকে সাশ্রয়ী ও উন্মুক্ত উৎসের মডেল তৈরিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। এসব মডেল যে কেউ নিজের মতো বদলে নিতে পারে। প্রযুক্তি ভাগাভাগির এই পথে চীন উন্নত চিপের ঘাটতিও কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছে। আর সেই মডেলগুলো চালানোর ভার বইছে চীনের এআই ডেটা সেন্টার।

বাংলাদেশের জন্য এখানে দুটি শিক্ষা আছে। প্রথমত, চীনের উন্মুক্ত উৎসের এআই মডেল ছোট দেশগুলোর জন্য সস্তা বিকল্প হয়ে উঠছে। বাংলা ভাষার এআই সেবা তৈরিতে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এসব মডেল ব্যবহার করতে পারে। দ্বিতীয়ত, চীনের এআই ডেটা সেন্টার দেখাচ্ছে, এআই মানেই বিপুল বিদ্যুৎ ও জমির চাহিদা। বাংলাদেশে যখন বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়মিত সমস্যা, তখন দেশীয় ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন দেখতে হলে আগে জ্বালানি পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। মেধা ধরে রাখার প্রশ্নও আছে। বিদেশে পড়া তরুণ গবেষকদের দেশে ফেরাতে চীনের মতো সুযোগ ও সুবিধা তৈরি না হলে প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে থাকার ঝুঁকি থেকে যায়।

উলানচাবের কৃষকেরা এখনো আলু তোলেন আগের মতোই, হাতে আর ঝুড়িতে। তাঁদের মাঠের পাশেই উঠছে এমন ভবন, যার ভেতরের যন্ত্র একদিন হয়তো ঠিক করে দেবে কোন জমিতে কতটা আলু ফলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক

আলুর রাজধানীতে চীনের এআই ডেটা সেন্টার, গড়ে উঠছে চীনা গতিতে

০৭:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ার বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে কৃষকেরা আলু তুলছেন। তাঁদের নতুন প্রতিবেশী বিশাল আয়তাকার সব ভবন। এগুলো চীনের এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর শক্তি জোগাবে। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি উলানচাব শহর থেকে এই প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। বহু বছর ধরে শহরটি চীনের সরকারি “আলুর রাজধানী” নামে পরিচিত। এখন এর মাঠগুলো একের পর এক ডেটা সেন্টারের নির্মাণস্থল। হলুদ হেলমেট পরা শত শত শ্রমিক ভারী যন্ত্রপাতি বহন করছেন, মাথার ওপর দিয়ে বিশাল ক্রেন ঘুরছে। এক শ্রমিক হেসে বললেন, “এটাই চীনা গতি।” নিজের দেশকে তিনি বললেন “অবকাঠামোর পাগল”। এক বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী জানালেন, প্রতি বছর একটি করে ধাপ শেষ হয়। এটি দ্বিতীয় ধাপ, সামনে আরও অনেক ধাপ আসবে। চীনের এআই ডেটা সেন্টার এভাবেই তৃণভূমি বদলে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে এআই। আর সেই প্রতিযোগিতার চাবি এসব ভবনের ভেতরের কম্পিউটিং শক্তি। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কাছে এগুলো অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ শিল্প ও সমাজে এআই ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য আছে বেইজিংয়ের। চীন শুধু অবকাঠামো গড়ছে না, মেধাও গড়ছে। ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নার গবেষক জ্যাক ঝাং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া শিক্ষার্থী ও গবেষকের সংখ্যা কমছে। উল্টো সেখান থেকে ফেরার সংখ্যা বাড়ছে। তিনি নিজে ইয়েল ও কেমব্রিজে পড়ার পর একটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। মার্কিন অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি ও উত্তেজনা এতে ভূমিকা রাখছে।China AI: Data centres rise from the rolling plains of Inner Mongolia

চীনের এই অগ্রগতিই যুক্তরাষ্ট্রের গতি না কমানোর বড় যুক্তি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছেন, “যে এআইতে জিতবে, সে-ই জিতবে।” অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই চীনে উন্নত চিপ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে। তাঁর মতে, চীন এগিয়ে গেলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য গুরুতর বিপদ। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস এসব উদ্বেগকে চীনকে আটকানোর “স্নায়ুযুদ্ধের কৌশল” বলছে। শি জিনপিং চীনা কোম্পানিগুলোকে সাশ্রয়ী ও উন্মুক্ত উৎসের মডেল তৈরিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। এসব মডেল যে কেউ নিজের মতো বদলে নিতে পারে। প্রযুক্তি ভাগাভাগির এই পথে চীন উন্নত চিপের ঘাটতিও কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছে। আর সেই মডেলগুলো চালানোর ভার বইছে চীনের এআই ডেটা সেন্টার।

বাংলাদেশের জন্য এখানে দুটি শিক্ষা আছে। প্রথমত, চীনের উন্মুক্ত উৎসের এআই মডেল ছোট দেশগুলোর জন্য সস্তা বিকল্প হয়ে উঠছে। বাংলা ভাষার এআই সেবা তৈরিতে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এসব মডেল ব্যবহার করতে পারে। দ্বিতীয়ত, চীনের এআই ডেটা সেন্টার দেখাচ্ছে, এআই মানেই বিপুল বিদ্যুৎ ও জমির চাহিদা। বাংলাদেশে যখন বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়মিত সমস্যা, তখন দেশীয় ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন দেখতে হলে আগে জ্বালানি পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। মেধা ধরে রাখার প্রশ্নও আছে। বিদেশে পড়া তরুণ গবেষকদের দেশে ফেরাতে চীনের মতো সুযোগ ও সুবিধা তৈরি না হলে প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে থাকার ঝুঁকি থেকে যায়।

উলানচাবের কৃষকেরা এখনো আলু তোলেন আগের মতোই, হাতে আর ঝুড়িতে। তাঁদের মাঠের পাশেই উঠছে এমন ভবন, যার ভেতরের যন্ত্র একদিন হয়তো ঠিক করে দেবে কোন জমিতে কতটা আলু ফলবে।