০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, চূড়ায় ওঠার আগেই ভাঙল রেকর্ড চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে স্কুলে গুলি, ওপেনএআইকে নতুন স্কুল গড়ে দিতে মামলা ১৮৯৭ থেকে পথিকের আশ্রয়, আধুনিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে নতুন করে জেগে উঠছে আর্কটিকের ছোট্ট দ্বীপ টয়োটার কারখানায় চার লাখ রোবটের পরিকল্পনা, শ্রমিকেরাই শেখাচ্ছেন কাজ ভারতে স্মার্ট চশমায় গোপন ভিডিও, এক ভিডিওতে উল্টে গেল জীবন আলুর রাজধানীতে চীনের এআই ডেটা সেন্টার, গড়ে উঠছে চীনা গতিতে এআই নিয়ে বিপর্যয়ের সতর্কতা, তবু গতি কমাতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রথমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ডিপসিক, এআই ঝুঁকি নিয়ে বৈঠক আজ জাভা সাগরে ফেরিডুবিতে মৃত বেড়ে ২৬, এখনো নিখোঁজ ১০৯ যাত্রী

ইমরান খানের মুক্তির মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদের সব পথ বন্ধ

পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ রাজধানী ইসলামাবাদে ঢোকার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করতে শুরু করেছে। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকেরা যাতে শহরে পৌঁছাতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে ও গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড কয়েকটি জায়গায় বন্ধ থাকবে। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন লিখেছে, বন্ধ অনির্দিষ্টকালের জন্য। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। ইমরান খানের মুক্তির মিছিল ঠেকাতে সরকার শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে। করাচি ও লাহোর থেকে মিছিল রওনা দেওয়ার কথা।

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে। তাঁর দল বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়গুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব রায় আপিলে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্য, বিশেষ করে ডান চোখের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েক মাস ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা লেগেছে। এই উদ্বেগ থেকেই দলটি মুক্তির আন্দোলন জোরদার করেছে। ইমরান খানের মুক্তির মিছিল তাই দলের কাছে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের প্রকাশও। ডন জানিয়েছে, রাজধানীর চারপাশে ও আটক সেতুতে প্রায় দুই হাজার কনটেইনার বসানো হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাবের সংযোগস্থল হারুন সেতুতেও কনটেইনার ও বালুর বস্তা রাখা হয়েছে। শুধু আটক জেলায় প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।Pakistan seals off its capital ahead of a planned rally by Imran Khan  supporters

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সোমবার তেহরিক-ই-ইনসাফকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন “নাটক” করে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবে না। তিনি বলেন, এখনো সময় আছে। রোববার পুলিশ লাহোরে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। আরও দুই বোন উজমা খান ও নুরিন নিয়াজিসহ কয়েকজন আত্মীয়কেও আটক করা হয়েছে। দলটি বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ তাদের সাংবিধানিক অধিকার। এদিকে আরেক বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে করাচি থেকে ট্রেনে ইসলামাবাদ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে দলটি মুলতানে গিয়ে যাত্রা স্থগিত করেছে। ইমরান খানের মুক্তির মিছিল অবশ্য স্থগিতের কোনো ইঙ্গিত নেই।

বাংলাদেশের পাঠকের কাছে এই দৃশ্য চেনা। রাজধানীমুখী মিছিল ঠেকাতে সড়ক বন্ধ, কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড, নেতাদের আত্মীয়দের গ্রেপ্তার, এসব দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির পরিচিত কৌশল। ঢাকাতেও বিভিন্ন সময়ে বড় সমাবেশের আগে যানবাহন বন্ধ ও পথে পথে বাধার অভিজ্ঞতা আছে। সড়ক বন্ধ হলে সবচেয়ে বেশি ভোগেন সাধারণ যাত্রী, রোগী ও দিনমজুর। পাকিস্তানের অস্থিরতা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলে। ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে উষ্ণ হচ্ছে, সরাসরি বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ছে। তাই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট দুই দেশের নতুন সম্পর্কের গতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আফগান সীমান্তে উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যে রাজপথের অস্থিরতা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৭ শতাংশে রেখেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

ইমরান খানের মুক্তির মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদের সব পথ বন্ধ

০৭:০৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ রাজধানী ইসলামাবাদে ঢোকার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করতে শুরু করেছে। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকেরা যাতে শহরে পৌঁছাতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে ও গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড কয়েকটি জায়গায় বন্ধ থাকবে। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন লিখেছে, বন্ধ অনির্দিষ্টকালের জন্য। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। ইমরান খানের মুক্তির মিছিল ঠেকাতে সরকার শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে। করাচি ও লাহোর থেকে মিছিল রওনা দেওয়ার কথা।

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে। তাঁর দল বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়গুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব রায় আপিলে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্য, বিশেষ করে ডান চোখের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েক মাস ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা লেগেছে। এই উদ্বেগ থেকেই দলটি মুক্তির আন্দোলন জোরদার করেছে। ইমরান খানের মুক্তির মিছিল তাই দলের কাছে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের প্রকাশও। ডন জানিয়েছে, রাজধানীর চারপাশে ও আটক সেতুতে প্রায় দুই হাজার কনটেইনার বসানো হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাবের সংযোগস্থল হারুন সেতুতেও কনটেইনার ও বালুর বস্তা রাখা হয়েছে। শুধু আটক জেলায় প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।Pakistan seals off its capital ahead of a planned rally by Imran Khan  supporters

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সোমবার তেহরিক-ই-ইনসাফকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন “নাটক” করে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবে না। তিনি বলেন, এখনো সময় আছে। রোববার পুলিশ লাহোরে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। আরও দুই বোন উজমা খান ও নুরিন নিয়াজিসহ কয়েকজন আত্মীয়কেও আটক করা হয়েছে। দলটি বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ তাদের সাংবিধানিক অধিকার। এদিকে আরেক বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে করাচি থেকে ট্রেনে ইসলামাবাদ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে দলটি মুলতানে গিয়ে যাত্রা স্থগিত করেছে। ইমরান খানের মুক্তির মিছিল অবশ্য স্থগিতের কোনো ইঙ্গিত নেই।

বাংলাদেশের পাঠকের কাছে এই দৃশ্য চেনা। রাজধানীমুখী মিছিল ঠেকাতে সড়ক বন্ধ, কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড, নেতাদের আত্মীয়দের গ্রেপ্তার, এসব দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির পরিচিত কৌশল। ঢাকাতেও বিভিন্ন সময়ে বড় সমাবেশের আগে যানবাহন বন্ধ ও পথে পথে বাধার অভিজ্ঞতা আছে। সড়ক বন্ধ হলে সবচেয়ে বেশি ভোগেন সাধারণ যাত্রী, রোগী ও দিনমজুর। পাকিস্তানের অস্থিরতা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলে। ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে উষ্ণ হচ্ছে, সরাসরি বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ছে। তাই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট দুই দেশের নতুন সম্পর্কের গতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আফগান সীমান্তে উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যে রাজপথের অস্থিরতা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৭ শতাংশে রেখেছে।