নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন। জুনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর এটিই দুই দেশের প্রথম আলোচনা। বিবিসি জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় এই যুক্তরাষ্ট্র ইরান আলোচনা হয়। এতে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ। মধ্যস্থতাকারীরা সারা দিন দুই পক্ষের মধ্যে আসা-যাওয়া করেন। কোনো বড় অগ্রগতির খবর আসেনি। উইটকফ বলেছেন, আলোচনার একটি দফা শেষ হয়েছে। তাঁর আশা, এটি গঠনমূলক ও সম্ভাবনাময় প্রমাণিত হবে। বিবিসির প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ ভবন থেকে বেরোনোর সময় তিনি শুধু বুড়ো আঙুল তুলে দেখান।
অথচ একই দিনে সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে “নিশ্চিহ্ন” করার হুমকি দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন চুক্তি কি হবে যাতে ইরান আবার গড়ে উঠবে? নাকি তিনি দ্রুত ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করবেন? ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া থেকে ঠেকিয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক খুব ফলপ্রসূ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান, তেহরান সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ ও মার্কিন আগ্রাসন থামানোর শর্ত দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা একে হুমকি আর আলোচনা একসঙ্গে চালানোর কৌশল বলছেন।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট মনে রাখা দরকার, কারণ এর সঙ্গে গোটা অঞ্চলের ভবিষ্যৎ জড়িত। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে যেত। প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধও বজায় রেখেছে। এতে ইরানের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ভাঙার পর থেকে দুই পক্ষ থেমে থেমে গোলাবিনিময় করছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটন চায় হরমুজে অবাধ চলাচল ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান। তেহরান চায় নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।
বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরান আলোচনা সরাসরি পকেটের প্রশ্ন। দেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ উপসাগর থেকে আসে। হরমুজ খুললে তেল ও এলএনজির দাম কমতে পারে। তাতে লোডশেডিং ও ভর্তুকির চাপ কমবে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করা লাখো বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তাও এর সঙ্গে জড়িত। প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসও এই অঞ্চল। তাই এই আলোচনায় সামান্য অগ্রগতিও ঢাকার জন্য স্বস্তির খবর। আবার আলোচনা ভেস্তে গেলে জাহাজভাড়া ও বিমা খরচ আরও বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়বে আমদানি পণ্যের দামে। ঢাকার নীতিনির্ধারকদের কাছে তাই নিউইয়র্কের এই যুক্তরাষ্ট্র ইরান আলোচনা এখন ঘনিষ্ঠ নজরের বিষয়। ট্রাম্প বলেছেন, খুব শিগগির আরেকটি বৈঠক হবে।
ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইরানি প্রতিনিধিরা হল ছেড়ে বেরিয়ে যান, একজন ছাড়া। ঘণ্টা কয়েক পরই তাঁদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই ভবনে বসে মধ্যস্থতাকারীর মুখে মার্কিন দূতের বার্তা শুনছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















