০৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এআই নিয়ে বিপর্যয়ের সতর্কতা, তবু গতি কমাতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রথমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ডিপসিক, এআই ঝুঁকি নিয়ে বৈঠক আজ জাভা সাগরে ফেরিডুবিতে মৃত বেড়ে ২৬, এখনো নিখোঁজ ১০৯ যাত্রী শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে হামলার সাত বছর পর ১৫ জনের দীর্ঘ কারাদণ্ড ইমরান খানের মুক্তির মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদের সব পথ বন্ধ ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় চুক্তির চেয়ে স্থিতাবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ অ্যালকোহলের বোতলে স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্যই নেই, ‘দায়িত্বশীলভাবে পান’ বার্তাই বেশি চীনা রাষ্ট্রীয় টিভিতে শির প্রশংসায় ইলন মাস্ক, ওয়াশিংটনে অস্বস্তি হোয়াইট হাউসে শি জিনপিং, বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ ফুরানোর আগে বৈঠক বিশ্বে তেল-গ্যাসের নতুন খনি আবিষ্কার ৪০ বছরে সর্বনিম্নে

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনুমতিপত্র

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। জনপ্রিয় এই মাছ আমদানির জন্য আগে দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বা এনওসি বাতিল করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর ফলে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আনার প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এসব অনাপত্তিপত্র বাতিল করা হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশ আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে এরই মধ্যে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে। বেনাপোল বন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের কাছে একটি চিঠি এসেছে। সেখানে কয়েকটি অনাপত্তিপত্র বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। এর পর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

আমিনুল হক বলেন, আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে আমদানিকারকেরা সমস্যায় পড়েছেন। যারা ইতোমধ্যে আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও এতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ইলিশ আমদানিকারক সৈয়দ মাহিদুল হক রুবাই জানান, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানিকারকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আনার জন্য ইতোমধ্যে ভারতে ইলিশ কেনা হয়েছিল। কিন্তু এখন আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই মাছ কম দামে ফেরত দিতে হতে পারে। এতে মাছের দামের পাশাপাশি আমদানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

ব্যবসায়ীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইলিশের মতো দ্রুত পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। ইতোমধ্যে কেনা মাছ সীমান্ত পার হতে না পারলে তা সংরক্ষণ, ফেরত পাঠানো কিংবা কম দামে বিক্রির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে ইলিশকে ঘিরে দেশীয় উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য—তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ভারত থেকে আমদানি বন্ধের এই সিদ্ধান্তে সীমান্তভিত্তিক ইলিশ ব্যবসার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের ওপরও তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে মৎস্য অধিদপ্তর কেন ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বাতিল করেছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। ফলে আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্তটি কতদিন বহাল থাকবে এবং বাতিল হওয়া অনাপত্তিপত্রের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই নিয়ে বিপর্যয়ের সতর্কতা, তবু গতি কমাতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনুমতিপত্র

০৬:২৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। জনপ্রিয় এই মাছ আমদানির জন্য আগে দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বা এনওসি বাতিল করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর ফলে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আনার প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এসব অনাপত্তিপত্র বাতিল করা হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশ আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে এরই মধ্যে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে। বেনাপোল বন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের কাছে একটি চিঠি এসেছে। সেখানে কয়েকটি অনাপত্তিপত্র বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। এর পর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

আমিনুল হক বলেন, আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে আমদানিকারকেরা সমস্যায় পড়েছেন। যারা ইতোমধ্যে আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও এতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ইলিশ আমদানিকারক সৈয়দ মাহিদুল হক রুবাই জানান, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানিকারকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আনার জন্য ইতোমধ্যে ভারতে ইলিশ কেনা হয়েছিল। কিন্তু এখন আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই মাছ কম দামে ফেরত দিতে হতে পারে। এতে মাছের দামের পাশাপাশি আমদানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

ব্যবসায়ীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইলিশের মতো দ্রুত পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। ইতোমধ্যে কেনা মাছ সীমান্ত পার হতে না পারলে তা সংরক্ষণ, ফেরত পাঠানো কিংবা কম দামে বিক্রির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে ইলিশকে ঘিরে দেশীয় উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য—তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ভারত থেকে আমদানি বন্ধের এই সিদ্ধান্তে সীমান্তভিত্তিক ইলিশ ব্যবসার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের ওপরও তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে মৎস্য অধিদপ্তর কেন ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বাতিল করেছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। ফলে আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্তটি কতদিন বহাল থাকবে এবং বাতিল হওয়া অনাপত্তিপত্রের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।