এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করেছে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। বুধবার প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের সেপ্টেম্বর সংস্করণে এ তথ্য আছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম খবরটি প্রকাশ করেছে। জুলাইয়ে এডিবি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলেছিল। এপ্রিলে বলেছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় মাসে দুবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমল। সংস্থাটির হিসাবে গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল আনুমানিক ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তার আগের বছরের চূড়ান্ত হিসাব ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এডিবি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতির গতি কমে যায়। তবে বছরের শুরুতে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমছে। এতে ভোগ ও বিনিয়োগ কিছুটা বাড়বে বলে সংস্থাটির ধারণা। বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেছেন, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু এই পুনরুদ্ধার বাইরের ধাক্কা ও দেশের ভেতরের সীমাবদ্ধতার কাছে এখনো নাজুক। জ্বালানি সংকট, উচ্চ উৎপাদন ও পরিবহন খরচ এবং জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি মূল্যস্ফীতিকে উঁচুতে রাখতে পারে। এল নিনোর বিলম্বিত প্রভাবে খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও আছে। মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল হওয়াও দামের ওপর চাপ তৈরি করবে। ফলে বাজারে চালের দাম থেকে বাসভাড়া পর্যন্ত সবখানে এর আঁচ লাগতে পারে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ তাই সহজে কমছে না।
প্রবাসী আয় শক্তিশালী থাকবে বলে এডিবি আশা করছে। এর সঙ্গে বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাইরের খাতে স্থিতিশীলতা দেবে। তবে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। কারণ রপ্তানির চেয়ে আমদানি দ্রুত বাড়ছে। সেবা ও কৃষি খাত প্রবৃদ্ধি টানবে। অন্যদিকে উচ্চ সুদহার, ঋণপ্রাপ্তির সংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও দুর্বল বৈদেশিক চাহিদার কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ চাপে থাকবে। প্রবাসী আয়নির্ভর ভোগই হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বাজারে চাহিদা বাড়লেও সাধারণ পরিবারের স্বস্তি ফিরছে না।
সরকারের চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তার চেয়ে আড়াই শতাংশ পয়েন্ট কম। এই ফারাক বাজেট পরিকল্পনা ও রাজস্ব লক্ষ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। সংস্থাটি দীর্ঘ পশ্চিম এশিয়া সংঘাত, তেলের উচ্চ দাম, বাণিজ্য বিধিনিষেধ, বিনিময় হারের চাপ ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। উন্নয়ন ব্যয় কমে যাওয়া ও জলবায়ুর ধাক্কাও সেই তালিকায় আছে। চিংফেং ঝাং সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবসার পরিবেশে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এতেই বেসরকারি বিনিয়োগ ও মানসম্মত কর্মসংস্থান বাড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















