০৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমিরাতের রুটে ধাক্কা, ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, তেলের দামে চাপে ইন্দোনেশিয়া—ঘাটতি বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের তেলের দামে আগুন, বৈদ্যুতিক গাড়িতে চীনের জোয়ার—বিওয়াইডির বৈশ্বিক বিক্রিতে নতুন গতি ফিলিপাইনে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপন: কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আহ্বান জ্বালানি সংকটে কেরোসিন ফিরল পাম্পে, রান্নার জ্বালানি ঘাটতিতে ভারতের জরুরি সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধের মধ্যেও টিকে আছে বিটকয়েন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়ছে ক্রিপ্টো গ্রহণের আশাবাদ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, বিদ্যুৎ বাঁচাতে আলো নিভানোর নির্দেশ; জ্বালানি কর কমাচ্ছে বিশ্ব কান্দির খাবারের ফিরিস্তি: পর্ব -১: পিন্টুদার চায়ের দোকান

প্রকৃতিবিদের কাহিনী (কাহিনী-৩৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 109

পিওতর মান্তেইফেল

গ্লাইডার-ঈগল
তখন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। সাভেলভ রেলপথের ইশা স্টেশন থেকে কিছু দূরে উডককজাতীয় স্নাইপ শিকার করছিলাম। সেখানে পালকওয়ালা ‘গ্লাইডারদের’ ওড়া লক্ষ্য করার সুযোগ হয় আমার।
সীমাহীন বনাঞ্চলের ওপরে দক্ষিণ দিকে উড়ে যাচ্ছিল একজোড়া ঈগল। ডানা নাড়াচ্ছিল তারা কেমন ভারাক্রান্ত ভঙ্গিতে, মাটি থেকে শতখানেক মিটার উচুতে। বোঝা যাচ্ছিল, অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আসায় হাঁপিয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত একটা ফাঁকায় এসে নিশ্চলভাবে ডানা ছড়িয়ে শোঁ শোঁ করে ওপরে উঠতে লাগল। মাঠটার ওপর পাক খেতে খেতে তারা এমনভাবে উ’চুতে উঠছিল, যেন প্রবল কোনো চুম্বক তাদের টেনে নিচ্ছে মেঘের কোলে। মিনিট দশেকের মধ্যেই বড়ো বড়ো এই পাখি-দুটোকে দেখাল বিন্দুর মতো। তখন ফের তারা পাড়ি দিতে লাগল দক্ষিণ দিকে, তবে পেশীর জোর না খাটিয়ে: বাতাসে ভেসে চলল তারা, হুবহু যেন সত্যিকারের গ্লাইডার, একেবারে ডানা নাড়াচ্ছিল না তারা। ধীরে ধীরে যেন পাহাড়ের ঢালু বেয়ে নামতে নামতে তারা শিগগিরই অদৃশ্য হয়ে গেল দিগন্তে।
সত্যি বলতে কি, এ ওড়ায় অসাধারণ কিছু নেই: বাতাসে নিশ্চল ডানায় পাক খেয়ে ঈগল ওপরে উঠে যাচ্ছে এ দেখতে তো আমরা অভ্যন্ত। কিন্তু বনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ঈগল-দুটো অত প্রাণপণে ডানা নাড়ছিল কেন তাহলে? তার কারণ বনে ঢাকা মাটির চেয়ে খোলা মাঠ রোদে গরম হয় বেশি, সেখান থেকে জোরালো বায়ুস্রোত উঠতে থাকে ওপরে। উচুতে ওঠার জন্যে এই স্রোতটাকেই কাজে লাগায় ঈগলেরা, তারপর সেখান থেকে অনেকখন ধরে শক্তিক্ষয় না করে ভেসে যেতে পারে। গ্লাইডার, যে উড্ডয়নযন্ত্রে ইঞ্জিন নেই, সঞ্চলনশীল ডানা নেই, তাও কি ঠিক এই-ই করে না?
আকাশবিহারের বড়ো একটা অংশ ঈগল সাধারণত পাড়ি দেয় বাতাসে ভেসে। সেইজন্যেই থেকে থেকে মাঠের ওপর পাক খেতে খেতে প্রচণ্ড উচুতে উঠে যায় তারা।
যে ঈগল-দুটোকে আমি দেখি, বোঝা যায়, তারা বনের ওপর উড়েছিল অনেকখন। উ’চুতে ওঠার সব ক্ষমতা ফুরিয়ে গিয়েছিল তাদের, পথে এমন কোনো ফাঁকা মাঠ পড়ে নি, যেখানে হাওয়ার স্রোতের জোরে ওপরে উঠতে পারে তারা। জেরবার হয়ে তারা উড়ছিল নিচুতে, প্রায় গাছগুলোর মাথা ছায়ে, ঘন ঘন নাড়ছিল তাদের বিপুল ডানা।
যে গ্লাইডার বা বিমানে উড়েছে, তাদেরও অবস্থা হয় ঐ ঈগল-দুটোর মতো। বনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় বিমান প্রায়ই যেন নিচে ‘পড়ে যায়’, কেননা যেখানে বাতাসের ঊর্ধ্ব-স্রোত নেই, সেখানে মাটি সাধারণত বিমানকে ‘টেনে ধরে’।
পাখির ওড়া থেকে বৈমানিকদের শেখার আছে অনেককিছু। বিমান ও গ্লাইডারের ডিজাইনাররা যে বাতাসে পাখিদের ওড়ার পরিস্থিতি ও পদ্ধতি খুঁটিয়ে অনুধাবন করেন, সেটা অকারণে নয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান

প্রকৃতিবিদের কাহিনী (কাহিনী-৩৬)

০৮:০০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

পিওতর মান্তেইফেল

গ্লাইডার-ঈগল
তখন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। সাভেলভ রেলপথের ইশা স্টেশন থেকে কিছু দূরে উডককজাতীয় স্নাইপ শিকার করছিলাম। সেখানে পালকওয়ালা ‘গ্লাইডারদের’ ওড়া লক্ষ্য করার সুযোগ হয় আমার।
সীমাহীন বনাঞ্চলের ওপরে দক্ষিণ দিকে উড়ে যাচ্ছিল একজোড়া ঈগল। ডানা নাড়াচ্ছিল তারা কেমন ভারাক্রান্ত ভঙ্গিতে, মাটি থেকে শতখানেক মিটার উচুতে। বোঝা যাচ্ছিল, অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আসায় হাঁপিয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত একটা ফাঁকায় এসে নিশ্চলভাবে ডানা ছড়িয়ে শোঁ শোঁ করে ওপরে উঠতে লাগল। মাঠটার ওপর পাক খেতে খেতে তারা এমনভাবে উ’চুতে উঠছিল, যেন প্রবল কোনো চুম্বক তাদের টেনে নিচ্ছে মেঘের কোলে। মিনিট দশেকের মধ্যেই বড়ো বড়ো এই পাখি-দুটোকে দেখাল বিন্দুর মতো। তখন ফের তারা পাড়ি দিতে লাগল দক্ষিণ দিকে, তবে পেশীর জোর না খাটিয়ে: বাতাসে ভেসে চলল তারা, হুবহু যেন সত্যিকারের গ্লাইডার, একেবারে ডানা নাড়াচ্ছিল না তারা। ধীরে ধীরে যেন পাহাড়ের ঢালু বেয়ে নামতে নামতে তারা শিগগিরই অদৃশ্য হয়ে গেল দিগন্তে।
সত্যি বলতে কি, এ ওড়ায় অসাধারণ কিছু নেই: বাতাসে নিশ্চল ডানায় পাক খেয়ে ঈগল ওপরে উঠে যাচ্ছে এ দেখতে তো আমরা অভ্যন্ত। কিন্তু বনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ঈগল-দুটো অত প্রাণপণে ডানা নাড়ছিল কেন তাহলে? তার কারণ বনে ঢাকা মাটির চেয়ে খোলা মাঠ রোদে গরম হয় বেশি, সেখান থেকে জোরালো বায়ুস্রোত উঠতে থাকে ওপরে। উচুতে ওঠার জন্যে এই স্রোতটাকেই কাজে লাগায় ঈগলেরা, তারপর সেখান থেকে অনেকখন ধরে শক্তিক্ষয় না করে ভেসে যেতে পারে। গ্লাইডার, যে উড্ডয়নযন্ত্রে ইঞ্জিন নেই, সঞ্চলনশীল ডানা নেই, তাও কি ঠিক এই-ই করে না?
আকাশবিহারের বড়ো একটা অংশ ঈগল সাধারণত পাড়ি দেয় বাতাসে ভেসে। সেইজন্যেই থেকে থেকে মাঠের ওপর পাক খেতে খেতে প্রচণ্ড উচুতে উঠে যায় তারা।
যে ঈগল-দুটোকে আমি দেখি, বোঝা যায়, তারা বনের ওপর উড়েছিল অনেকখন। উ’চুতে ওঠার সব ক্ষমতা ফুরিয়ে গিয়েছিল তাদের, পথে এমন কোনো ফাঁকা মাঠ পড়ে নি, যেখানে হাওয়ার স্রোতের জোরে ওপরে উঠতে পারে তারা। জেরবার হয়ে তারা উড়ছিল নিচুতে, প্রায় গাছগুলোর মাথা ছায়ে, ঘন ঘন নাড়ছিল তাদের বিপুল ডানা।
যে গ্লাইডার বা বিমানে উড়েছে, তাদেরও অবস্থা হয় ঐ ঈগল-দুটোর মতো। বনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় বিমান প্রায়ই যেন নিচে ‘পড়ে যায়’, কেননা যেখানে বাতাসের ঊর্ধ্ব-স্রোত নেই, সেখানে মাটি সাধারণত বিমানকে ‘টেনে ধরে’।
পাখির ওড়া থেকে বৈমানিকদের শেখার আছে অনেককিছু। বিমান ও গ্লাইডারের ডিজাইনাররা যে বাতাসে পাখিদের ওড়ার পরিস্থিতি ও পদ্ধতি খুঁটিয়ে অনুধাবন করেন, সেটা অকারণে নয়।