০৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
এক দশকের মোড় ঘুরে গেল: টিভি-সংবাদপত্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের প্রধান সংবাদমাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা? বিশ্বকাপের উন্মাদনায় এক হচ্ছে বিশ্ব, ফুটবলের ভাষায় গড়ে উঠছে সম্মান ও সহমর্মিতা সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে থমকে যাচ্ছে একের পর এক পরিকল্পনা এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল ‘আংটি আছে তো আসুন, না থাকলে একাই আসুন’—টেলর-ট্রাভিসের বিয়ের নিয়মে চাঞ্চল্য

প্রকৃতিবিদের কাহিনী (কাহিনী-৩৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 134

পিওতর মান্তেইফেল

গ্লাইডার-ঈগল
তখন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। সাভেলভ রেলপথের ইশা স্টেশন থেকে কিছু দূরে উডককজাতীয় স্নাইপ শিকার করছিলাম। সেখানে পালকওয়ালা ‘গ্লাইডারদের’ ওড়া লক্ষ্য করার সুযোগ হয় আমার।
সীমাহীন বনাঞ্চলের ওপরে দক্ষিণ দিকে উড়ে যাচ্ছিল একজোড়া ঈগল। ডানা নাড়াচ্ছিল তারা কেমন ভারাক্রান্ত ভঙ্গিতে, মাটি থেকে শতখানেক মিটার উচুতে। বোঝা যাচ্ছিল, অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আসায় হাঁপিয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত একটা ফাঁকায় এসে নিশ্চলভাবে ডানা ছড়িয়ে শোঁ শোঁ করে ওপরে উঠতে লাগল। মাঠটার ওপর পাক খেতে খেতে তারা এমনভাবে উ’চুতে উঠছিল, যেন প্রবল কোনো চুম্বক তাদের টেনে নিচ্ছে মেঘের কোলে। মিনিট দশেকের মধ্যেই বড়ো বড়ো এই পাখি-দুটোকে দেখাল বিন্দুর মতো। তখন ফের তারা পাড়ি দিতে লাগল দক্ষিণ দিকে, তবে পেশীর জোর না খাটিয়ে: বাতাসে ভেসে চলল তারা, হুবহু যেন সত্যিকারের গ্লাইডার, একেবারে ডানা নাড়াচ্ছিল না তারা। ধীরে ধীরে যেন পাহাড়ের ঢালু বেয়ে নামতে নামতে তারা শিগগিরই অদৃশ্য হয়ে গেল দিগন্তে।
সত্যি বলতে কি, এ ওড়ায় অসাধারণ কিছু নেই: বাতাসে নিশ্চল ডানায় পাক খেয়ে ঈগল ওপরে উঠে যাচ্ছে এ দেখতে তো আমরা অভ্যন্ত। কিন্তু বনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ঈগল-দুটো অত প্রাণপণে ডানা নাড়ছিল কেন তাহলে? তার কারণ বনে ঢাকা মাটির চেয়ে খোলা মাঠ রোদে গরম হয় বেশি, সেখান থেকে জোরালো বায়ুস্রোত উঠতে থাকে ওপরে। উচুতে ওঠার জন্যে এই স্রোতটাকেই কাজে লাগায় ঈগলেরা, তারপর সেখান থেকে অনেকখন ধরে শক্তিক্ষয় না করে ভেসে যেতে পারে। গ্লাইডার, যে উড্ডয়নযন্ত্রে ইঞ্জিন নেই, সঞ্চলনশীল ডানা নেই, তাও কি ঠিক এই-ই করে না?
আকাশবিহারের বড়ো একটা অংশ ঈগল সাধারণত পাড়ি দেয় বাতাসে ভেসে। সেইজন্যেই থেকে থেকে মাঠের ওপর পাক খেতে খেতে প্রচণ্ড উচুতে উঠে যায় তারা।
যে ঈগল-দুটোকে আমি দেখি, বোঝা যায়, তারা বনের ওপর উড়েছিল অনেকখন। উ’চুতে ওঠার সব ক্ষমতা ফুরিয়ে গিয়েছিল তাদের, পথে এমন কোনো ফাঁকা মাঠ পড়ে নি, যেখানে হাওয়ার স্রোতের জোরে ওপরে উঠতে পারে তারা। জেরবার হয়ে তারা উড়ছিল নিচুতে, প্রায় গাছগুলোর মাথা ছায়ে, ঘন ঘন নাড়ছিল তাদের বিপুল ডানা।
যে গ্লাইডার বা বিমানে উড়েছে, তাদেরও অবস্থা হয় ঐ ঈগল-দুটোর মতো। বনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় বিমান প্রায়ই যেন নিচে ‘পড়ে যায়’, কেননা যেখানে বাতাসের ঊর্ধ্ব-স্রোত নেই, সেখানে মাটি সাধারণত বিমানকে ‘টেনে ধরে’।
পাখির ওড়া থেকে বৈমানিকদের শেখার আছে অনেককিছু। বিমান ও গ্লাইডারের ডিজাইনাররা যে বাতাসে পাখিদের ওড়ার পরিস্থিতি ও পদ্ধতি খুঁটিয়ে অনুধাবন করেন, সেটা অকারণে নয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

এক দশকের মোড় ঘুরে গেল: টিভি-সংবাদপত্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের প্রধান সংবাদমাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

প্রকৃতিবিদের কাহিনী (কাহিনী-৩৬)

০৮:০০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

পিওতর মান্তেইফেল

গ্লাইডার-ঈগল
তখন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। সাভেলভ রেলপথের ইশা স্টেশন থেকে কিছু দূরে উডককজাতীয় স্নাইপ শিকার করছিলাম। সেখানে পালকওয়ালা ‘গ্লাইডারদের’ ওড়া লক্ষ্য করার সুযোগ হয় আমার।
সীমাহীন বনাঞ্চলের ওপরে দক্ষিণ দিকে উড়ে যাচ্ছিল একজোড়া ঈগল। ডানা নাড়াচ্ছিল তারা কেমন ভারাক্রান্ত ভঙ্গিতে, মাটি থেকে শতখানেক মিটার উচুতে। বোঝা যাচ্ছিল, অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আসায় হাঁপিয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত একটা ফাঁকায় এসে নিশ্চলভাবে ডানা ছড়িয়ে শোঁ শোঁ করে ওপরে উঠতে লাগল। মাঠটার ওপর পাক খেতে খেতে তারা এমনভাবে উ’চুতে উঠছিল, যেন প্রবল কোনো চুম্বক তাদের টেনে নিচ্ছে মেঘের কোলে। মিনিট দশেকের মধ্যেই বড়ো বড়ো এই পাখি-দুটোকে দেখাল বিন্দুর মতো। তখন ফের তারা পাড়ি দিতে লাগল দক্ষিণ দিকে, তবে পেশীর জোর না খাটিয়ে: বাতাসে ভেসে চলল তারা, হুবহু যেন সত্যিকারের গ্লাইডার, একেবারে ডানা নাড়াচ্ছিল না তারা। ধীরে ধীরে যেন পাহাড়ের ঢালু বেয়ে নামতে নামতে তারা শিগগিরই অদৃশ্য হয়ে গেল দিগন্তে।
সত্যি বলতে কি, এ ওড়ায় অসাধারণ কিছু নেই: বাতাসে নিশ্চল ডানায় পাক খেয়ে ঈগল ওপরে উঠে যাচ্ছে এ দেখতে তো আমরা অভ্যন্ত। কিন্তু বনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ঈগল-দুটো অত প্রাণপণে ডানা নাড়ছিল কেন তাহলে? তার কারণ বনে ঢাকা মাটির চেয়ে খোলা মাঠ রোদে গরম হয় বেশি, সেখান থেকে জোরালো বায়ুস্রোত উঠতে থাকে ওপরে। উচুতে ওঠার জন্যে এই স্রোতটাকেই কাজে লাগায় ঈগলেরা, তারপর সেখান থেকে অনেকখন ধরে শক্তিক্ষয় না করে ভেসে যেতে পারে। গ্লাইডার, যে উড্ডয়নযন্ত্রে ইঞ্জিন নেই, সঞ্চলনশীল ডানা নেই, তাও কি ঠিক এই-ই করে না?
আকাশবিহারের বড়ো একটা অংশ ঈগল সাধারণত পাড়ি দেয় বাতাসে ভেসে। সেইজন্যেই থেকে থেকে মাঠের ওপর পাক খেতে খেতে প্রচণ্ড উচুতে উঠে যায় তারা।
যে ঈগল-দুটোকে আমি দেখি, বোঝা যায়, তারা বনের ওপর উড়েছিল অনেকখন। উ’চুতে ওঠার সব ক্ষমতা ফুরিয়ে গিয়েছিল তাদের, পথে এমন কোনো ফাঁকা মাঠ পড়ে নি, যেখানে হাওয়ার স্রোতের জোরে ওপরে উঠতে পারে তারা। জেরবার হয়ে তারা উড়ছিল নিচুতে, প্রায় গাছগুলোর মাথা ছায়ে, ঘন ঘন নাড়ছিল তাদের বিপুল ডানা।
যে গ্লাইডার বা বিমানে উড়েছে, তাদেরও অবস্থা হয় ঐ ঈগল-দুটোর মতো। বনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় বিমান প্রায়ই যেন নিচে ‘পড়ে যায়’, কেননা যেখানে বাতাসের ঊর্ধ্ব-স্রোত নেই, সেখানে মাটি সাধারণত বিমানকে ‘টেনে ধরে’।
পাখির ওড়া থেকে বৈমানিকদের শেখার আছে অনেককিছু। বিমান ও গ্লাইডারের ডিজাইনাররা যে বাতাসে পাখিদের ওড়ার পরিস্থিতি ও পদ্ধতি খুঁটিয়ে অনুধাবন করেন, সেটা অকারণে নয়।