১১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি ইউরোপের ‘গানস বনাম বাটার’ সংকট তীব্রতর, ইরান যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার: ভরিতে বাড়ল ৩,২৬৬ টাকা, ২২ ক্যারেট এখন ২,৪৪,৭১১ টাকা জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী আজ মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ঈদযাত্রায় ১৫ দিনে ৩৯৪ জনের মৃত্যু: মোটরসাইকেল সবচেয়ে মরণঘাতী বাহন

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪৩)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪
  • 93

রাঙাছুটুর বাপের বাড়ি

মনে হইল এই আঘাত যেন মায়ের বুকে আসিয়াই লাগিল। বেচারা মা’র জন্য আমার মনে বড়ই কষ্ট হইল। আরও কয়টা দিন এখানে থাকিলে বাড়িতে এমন কি মহাভারত অশুদ্ধ হইত। এখানে আসিয়া মা আমার কত ভালো হইয়াছেন। বাড়িতে থাকিতে নানা কাজে এতই ব্যস্ত থাকিতেন যে আমাদের কাছে ডাকিয়া আদর করিতে পারেন নাই। এখানে আসিয়া সব সময় মা’র আঁচল আঁচল ঘুরি, এটা ওটা ভালো জিনিস নানি মাকে দিলে মা আমাকে আগে খাওয়াইয়া তবে নিজে খান। এখানে আসিলে মা যেন সত্যিকার মা হইয়া উঠেন।
বাজান চলিয়া গেলে কে যেন মায়ের সমস্ত মুখে কালি লেপিয়া দিয়া গেল। মায়ের মুখে সেই ছোট্ট মেয়েটির মতো হাসিখুশি আর দেখিতে পাই না। নানিও এ-কাজ ও-কাজ ফেলিয়া মা’র কাছে আসিয়া বসেন। মায়ের সদ্য-বাঁধা মাথার খোঁপাটি খুলিয়া আবার নতুন করিয়া বাঁধিয়া দেন। পরদিন মায়ের যত জামা, কাপড়, কাঁথা, বালিশের ওয়ার, সমস্ত সোডা দিয়া সিদ্ধ করিয়া নানি ধুইয়া দিলেন। নানা মায়ের জন্য হাট হইতে একখানা নূতন কাপড় কিনিয়া আনিলেন। আমার জন্য নূতন ছিটের জামা। সেই নূতন শাড়ি পরিয়া মা আবার পাড়া বেড়াইতে বাহির হইলেন।
মায়ের পরনে সেই নূতন শাড়ির গন্ধ আমার কাছে কেমন করুণ লাগে। আজ আর কোনো বাড়িতেই হাসিখুশি জমিল না। সবাই মাকে যেন চির-জনমের মতো বিদায় দিতেছে। বুঝিতে পারিতেছি মা বহু কষ্টে চোখের পানি বন্ধ করিতেছেন। সেই ফেলিদের বাড়ি, মিঞাজানের বাড়ি, বরোইদের বাড়ি তারপর মা চলিলেন গরীবুল্লা মাতবরের বাড়ি। মাতবরের বউ যেন হিন্দুপাড়ার একখানা প্রতিমা, এমন সুন্দর দেখিতে। মাকে তিনি কত আদর করিয়া বসাইলেন। মায়ের মাথার চুল খসাইয়া তেল মাথাইয়া দিয়া আবার পরিপাটি করিয়া বাঁধিতে বাঁধিতে বলিলেন, “এত তাড়াতাড়িই যদি যাইবি তবে আসিলি কেন?
তোকে ভালোমতো করিয়া সামনে বসাইয়া দেখিলামও না। ও রাঙাছুটু। কাল তুই আমার এখানে খাইবি। বল্ কোন পিঠা তোর খাইতে ইচ্ছা করে?” মা বলিলেন, “আমি তো পরশুই যাইব। ওর নানি কি আমাকে এখানে খাইতে দিবে? আজই তো পিঠা তৈরির জন্য মা চাল কুটিতেছেন।”
মাতবরের মেয়েটি মায়ের সমবয়সী। এমন সুন্দর দেখিতে যেন হলদে পাখিটি। মার গলা জড়াইয়া ধরিয়া বলে, “না রাঙা-বুবু। তুমি না করিও না। আমি যেমন করিয়াই হোক চাচির কাছে বলিয়া তোমাকে আমাদের বাড়িতে কাল খাওয়াইব।”

 

চলবে…

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪৩)

১১:০০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪

রাঙাছুটুর বাপের বাড়ি

মনে হইল এই আঘাত যেন মায়ের বুকে আসিয়াই লাগিল। বেচারা মা’র জন্য আমার মনে বড়ই কষ্ট হইল। আরও কয়টা দিন এখানে থাকিলে বাড়িতে এমন কি মহাভারত অশুদ্ধ হইত। এখানে আসিয়া মা আমার কত ভালো হইয়াছেন। বাড়িতে থাকিতে নানা কাজে এতই ব্যস্ত থাকিতেন যে আমাদের কাছে ডাকিয়া আদর করিতে পারেন নাই। এখানে আসিয়া সব সময় মা’র আঁচল আঁচল ঘুরি, এটা ওটা ভালো জিনিস নানি মাকে দিলে মা আমাকে আগে খাওয়াইয়া তবে নিজে খান। এখানে আসিলে মা যেন সত্যিকার মা হইয়া উঠেন।
বাজান চলিয়া গেলে কে যেন মায়ের সমস্ত মুখে কালি লেপিয়া দিয়া গেল। মায়ের মুখে সেই ছোট্ট মেয়েটির মতো হাসিখুশি আর দেখিতে পাই না। নানিও এ-কাজ ও-কাজ ফেলিয়া মা’র কাছে আসিয়া বসেন। মায়ের সদ্য-বাঁধা মাথার খোঁপাটি খুলিয়া আবার নতুন করিয়া বাঁধিয়া দেন। পরদিন মায়ের যত জামা, কাপড়, কাঁথা, বালিশের ওয়ার, সমস্ত সোডা দিয়া সিদ্ধ করিয়া নানি ধুইয়া দিলেন। নানা মায়ের জন্য হাট হইতে একখানা নূতন কাপড় কিনিয়া আনিলেন। আমার জন্য নূতন ছিটের জামা। সেই নূতন শাড়ি পরিয়া মা আবার পাড়া বেড়াইতে বাহির হইলেন।
মায়ের পরনে সেই নূতন শাড়ির গন্ধ আমার কাছে কেমন করুণ লাগে। আজ আর কোনো বাড়িতেই হাসিখুশি জমিল না। সবাই মাকে যেন চির-জনমের মতো বিদায় দিতেছে। বুঝিতে পারিতেছি মা বহু কষ্টে চোখের পানি বন্ধ করিতেছেন। সেই ফেলিদের বাড়ি, মিঞাজানের বাড়ি, বরোইদের বাড়ি তারপর মা চলিলেন গরীবুল্লা মাতবরের বাড়ি। মাতবরের বউ যেন হিন্দুপাড়ার একখানা প্রতিমা, এমন সুন্দর দেখিতে। মাকে তিনি কত আদর করিয়া বসাইলেন। মায়ের মাথার চুল খসাইয়া তেল মাথাইয়া দিয়া আবার পরিপাটি করিয়া বাঁধিতে বাঁধিতে বলিলেন, “এত তাড়াতাড়িই যদি যাইবি তবে আসিলি কেন?
তোকে ভালোমতো করিয়া সামনে বসাইয়া দেখিলামও না। ও রাঙাছুটু। কাল তুই আমার এখানে খাইবি। বল্ কোন পিঠা তোর খাইতে ইচ্ছা করে?” মা বলিলেন, “আমি তো পরশুই যাইব। ওর নানি কি আমাকে এখানে খাইতে দিবে? আজই তো পিঠা তৈরির জন্য মা চাল কুটিতেছেন।”
মাতবরের মেয়েটি মায়ের সমবয়সী। এমন সুন্দর দেখিতে যেন হলদে পাখিটি। মার গলা জড়াইয়া ধরিয়া বলে, “না রাঙা-বুবু। তুমি না করিও না। আমি যেমন করিয়াই হোক চাচির কাছে বলিয়া তোমাকে আমাদের বাড়িতে কাল খাওয়াইব।”

 

চলবে…