০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
রাহুল গান্ধীর দেশজুড়ে ‘টাউন হল’ কর্মসূচি, কেন্দ্রবিন্দুতে নিট প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্ব চীন সফরে মিন অং হ্লাইং, বৈধতা ও ক্ষমতা সুসংহত করাই মূল লক্ষ্য দুর্নীতি শুধু ঘুষ নয়: নীরবতা, গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তৃত বাস্তবতা ইরানের শর্তে ৬০ দিনের আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সম্পন্নের ঘোষণা নতুন ইতিহাসের সাক্ষী কুরাসাও: ৭-১ গোলে হারলেও বিশ্বকাপ অভিষেকে গর্বে ভাসছে ছোট্ট দ্বীপদেশ আমাদ দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের গোলে জয়, বিশ্বকাপ শুরুতেই দারুণ সূচনা আইভরি কোস্টের ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক বিশ্ব: বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা ও টেকসই লড়াইয়ের আহ্বান সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধের দাবিতে ঢাকায় ১১ দলের সমাবেশ আজ ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বিলুপ্ত, প্রশাসকের হাতে সব ক্ষমতা জিসানকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪৩)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪
  • 107

রাঙাছুটুর বাপের বাড়ি

মনে হইল এই আঘাত যেন মায়ের বুকে আসিয়াই লাগিল। বেচারা মা’র জন্য আমার মনে বড়ই কষ্ট হইল। আরও কয়টা দিন এখানে থাকিলে বাড়িতে এমন কি মহাভারত অশুদ্ধ হইত। এখানে আসিয়া মা আমার কত ভালো হইয়াছেন। বাড়িতে থাকিতে নানা কাজে এতই ব্যস্ত থাকিতেন যে আমাদের কাছে ডাকিয়া আদর করিতে পারেন নাই। এখানে আসিয়া সব সময় মা’র আঁচল আঁচল ঘুরি, এটা ওটা ভালো জিনিস নানি মাকে দিলে মা আমাকে আগে খাওয়াইয়া তবে নিজে খান। এখানে আসিলে মা যেন সত্যিকার মা হইয়া উঠেন।
বাজান চলিয়া গেলে কে যেন মায়ের সমস্ত মুখে কালি লেপিয়া দিয়া গেল। মায়ের মুখে সেই ছোট্ট মেয়েটির মতো হাসিখুশি আর দেখিতে পাই না। নানিও এ-কাজ ও-কাজ ফেলিয়া মা’র কাছে আসিয়া বসেন। মায়ের সদ্য-বাঁধা মাথার খোঁপাটি খুলিয়া আবার নতুন করিয়া বাঁধিয়া দেন। পরদিন মায়ের যত জামা, কাপড়, কাঁথা, বালিশের ওয়ার, সমস্ত সোডা দিয়া সিদ্ধ করিয়া নানি ধুইয়া দিলেন। নানা মায়ের জন্য হাট হইতে একখানা নূতন কাপড় কিনিয়া আনিলেন। আমার জন্য নূতন ছিটের জামা। সেই নূতন শাড়ি পরিয়া মা আবার পাড়া বেড়াইতে বাহির হইলেন।
মায়ের পরনে সেই নূতন শাড়ির গন্ধ আমার কাছে কেমন করুণ লাগে। আজ আর কোনো বাড়িতেই হাসিখুশি জমিল না। সবাই মাকে যেন চির-জনমের মতো বিদায় দিতেছে। বুঝিতে পারিতেছি মা বহু কষ্টে চোখের পানি বন্ধ করিতেছেন। সেই ফেলিদের বাড়ি, মিঞাজানের বাড়ি, বরোইদের বাড়ি তারপর মা চলিলেন গরীবুল্লা মাতবরের বাড়ি। মাতবরের বউ যেন হিন্দুপাড়ার একখানা প্রতিমা, এমন সুন্দর দেখিতে। মাকে তিনি কত আদর করিয়া বসাইলেন। মায়ের মাথার চুল খসাইয়া তেল মাথাইয়া দিয়া আবার পরিপাটি করিয়া বাঁধিতে বাঁধিতে বলিলেন, “এত তাড়াতাড়িই যদি যাইবি তবে আসিলি কেন?
তোকে ভালোমতো করিয়া সামনে বসাইয়া দেখিলামও না। ও রাঙাছুটু। কাল তুই আমার এখানে খাইবি। বল্ কোন পিঠা তোর খাইতে ইচ্ছা করে?” মা বলিলেন, “আমি তো পরশুই যাইব। ওর নানি কি আমাকে এখানে খাইতে দিবে? আজই তো পিঠা তৈরির জন্য মা চাল কুটিতেছেন।”
মাতবরের মেয়েটি মায়ের সমবয়সী। এমন সুন্দর দেখিতে যেন হলদে পাখিটি। মার গলা জড়াইয়া ধরিয়া বলে, “না রাঙা-বুবু। তুমি না করিও না। আমি যেমন করিয়াই হোক চাচির কাছে বলিয়া তোমাকে আমাদের বাড়িতে কাল খাওয়াইব।”

 

চলবে…

জনপ্রিয় সংবাদ

রাহুল গান্ধীর দেশজুড়ে ‘টাউন হল’ কর্মসূচি, কেন্দ্রবিন্দুতে নিট প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্ব

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪৩)

১১:০০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪

রাঙাছুটুর বাপের বাড়ি

মনে হইল এই আঘাত যেন মায়ের বুকে আসিয়াই লাগিল। বেচারা মা’র জন্য আমার মনে বড়ই কষ্ট হইল। আরও কয়টা দিন এখানে থাকিলে বাড়িতে এমন কি মহাভারত অশুদ্ধ হইত। এখানে আসিয়া মা আমার কত ভালো হইয়াছেন। বাড়িতে থাকিতে নানা কাজে এতই ব্যস্ত থাকিতেন যে আমাদের কাছে ডাকিয়া আদর করিতে পারেন নাই। এখানে আসিয়া সব সময় মা’র আঁচল আঁচল ঘুরি, এটা ওটা ভালো জিনিস নানি মাকে দিলে মা আমাকে আগে খাওয়াইয়া তবে নিজে খান। এখানে আসিলে মা যেন সত্যিকার মা হইয়া উঠেন।
বাজান চলিয়া গেলে কে যেন মায়ের সমস্ত মুখে কালি লেপিয়া দিয়া গেল। মায়ের মুখে সেই ছোট্ট মেয়েটির মতো হাসিখুশি আর দেখিতে পাই না। নানিও এ-কাজ ও-কাজ ফেলিয়া মা’র কাছে আসিয়া বসেন। মায়ের সদ্য-বাঁধা মাথার খোঁপাটি খুলিয়া আবার নতুন করিয়া বাঁধিয়া দেন। পরদিন মায়ের যত জামা, কাপড়, কাঁথা, বালিশের ওয়ার, সমস্ত সোডা দিয়া সিদ্ধ করিয়া নানি ধুইয়া দিলেন। নানা মায়ের জন্য হাট হইতে একখানা নূতন কাপড় কিনিয়া আনিলেন। আমার জন্য নূতন ছিটের জামা। সেই নূতন শাড়ি পরিয়া মা আবার পাড়া বেড়াইতে বাহির হইলেন।
মায়ের পরনে সেই নূতন শাড়ির গন্ধ আমার কাছে কেমন করুণ লাগে। আজ আর কোনো বাড়িতেই হাসিখুশি জমিল না। সবাই মাকে যেন চির-জনমের মতো বিদায় দিতেছে। বুঝিতে পারিতেছি মা বহু কষ্টে চোখের পানি বন্ধ করিতেছেন। সেই ফেলিদের বাড়ি, মিঞাজানের বাড়ি, বরোইদের বাড়ি তারপর মা চলিলেন গরীবুল্লা মাতবরের বাড়ি। মাতবরের বউ যেন হিন্দুপাড়ার একখানা প্রতিমা, এমন সুন্দর দেখিতে। মাকে তিনি কত আদর করিয়া বসাইলেন। মায়ের মাথার চুল খসাইয়া তেল মাথাইয়া দিয়া আবার পরিপাটি করিয়া বাঁধিতে বাঁধিতে বলিলেন, “এত তাড়াতাড়িই যদি যাইবি তবে আসিলি কেন?
তোকে ভালোমতো করিয়া সামনে বসাইয়া দেখিলামও না। ও রাঙাছুটু। কাল তুই আমার এখানে খাইবি। বল্ কোন পিঠা তোর খাইতে ইচ্ছা করে?” মা বলিলেন, “আমি তো পরশুই যাইব। ওর নানি কি আমাকে এখানে খাইতে দিবে? আজই তো পিঠা তৈরির জন্য মা চাল কুটিতেছেন।”
মাতবরের মেয়েটি মায়ের সমবয়সী। এমন সুন্দর দেখিতে যেন হলদে পাখিটি। মার গলা জড়াইয়া ধরিয়া বলে, “না রাঙা-বুবু। তুমি না করিও না। আমি যেমন করিয়াই হোক চাচির কাছে বলিয়া তোমাকে আমাদের বাড়িতে কাল খাওয়াইব।”

 

চলবে…