০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
রাহুল গান্ধীর দেশজুড়ে ‘টাউন হল’ কর্মসূচি, কেন্দ্রবিন্দুতে নিট প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্ব চীন সফরে মিন অং হ্লাইং, বৈধতা ও ক্ষমতা সুসংহত করাই মূল লক্ষ্য দুর্নীতি শুধু ঘুষ নয়: নীরবতা, গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তৃত বাস্তবতা ইরানের শর্তে ৬০ দিনের আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সম্পন্নের ঘোষণা নতুন ইতিহাসের সাক্ষী কুরাসাও: ৭-১ গোলে হারলেও বিশ্বকাপ অভিষেকে গর্বে ভাসছে ছোট্ট দ্বীপদেশ আমাদ দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের গোলে জয়, বিশ্বকাপ শুরুতেই দারুণ সূচনা আইভরি কোস্টের ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক বিশ্ব: বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা ও টেকসই লড়াইয়ের আহ্বান সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধের দাবিতে ঢাকায় ১১ দলের সমাবেশ আজ ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বিলুপ্ত, প্রশাসকের হাতে সব ক্ষমতা জিসানকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি

ইশকুল (পর্ব-১৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
  • 140
আর্কাদি গাইদার

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

সপ্তায় একদিন, প্রতি বুধবার, পড়াশুনো শুরু করার আগে ইশকুলের হলঘরে যুদ্ধে বিজয়কামনা করে একটি প্রার্থনাসভার অনুষ্ঠান হত।

প্রার্থনা শেষ হলে পর প্রত্যেকেই বাঁদিকে, যেখানে দেয়ালের গায়ে জার ও জারিনার ছবি ঝুলত, সেইদিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়াত। সঙ্গে সঙ্গে ঐকতান-গায়করা জাতীয় সঙ্গীত শুরু করত ‘ঈশ্বর জারকে রক্ষা করুন’, আর সকলে যোগ দিত তাতে।

আমি যতটা চে’চানো সম্ভব চে’চিয়ে গাইতুম। আমার অবিশ্যি ঠিক গানের গলা ছিল না, কিন্তু এমন প্রাণপণে গাইতে চেষ্টা করতুম যে একবার মাস্টারমশাই বলে ফেললেন:

‘আরেকটু সহজভাবে গাও গোরিকভ। একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।’

আমি চটে গেলুম। বাড়াবাড়ি হচ্ছে? তার মানে?

তার মানে, আমার যদি গাইবার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে অন্যদের বিজয়প্রার্থনা করতে দিতে হবে, আর আমি দাঁড়িয়ে থাকব চুপচাপ?

বাড়িতে এসে মায়ের কাছে নালিশ জানালুম।

মা কিন্তু বিশেষ উচ্চবাচ্য করলেন না, শুধু বললেন:

‘তুমি তো এখনও ছোট্টটি আছ। আরেকটু বড় হও আগে… লোকে লড়াই করছে তো কাঁ হয়েছে? তাতে তোমার কী?’

‘কী বলছ মা? আর যদি জার্মানরা আমাদের দেশ জয় করে নেয়? ওদের অত্যাচারের কথা আমিও কিছু কিছু পড়েছি, বুঝেছ তো? আচ্ছা, জার্মানরা এমন হনদের মতো কেন মা যে তারা বুড়ো, বাচ্চা কাউকেই রেহাই দেয় না? অথচ আমাদের জারকে দ্যাখো তো, সকলের জন্যে তাঁর কত দরদ।’

‘ও নিয়ে তোমাকে মাথা ঘামাতে হবে না!’ অসন্তুষ্ট হয়ে মা বললেন। ‘ওরা সবাই সমান, স-ব্বা-ই। সবাই ওরা পাগল হয়ে গেছে, বুঝলে? জার্মানরা আর আমাদের দেশের মানুষ কেউই অন্য দেশের লোকের চেয়ে খারাপ নয়।’

জনপ্রিয় সংবাদ

রাহুল গান্ধীর দেশজুড়ে ‘টাউন হল’ কর্মসূচি, কেন্দ্রবিন্দুতে নিট প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্ব

ইশকুল (পর্ব-১৪)

০৮:০০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
আর্কাদি গাইদার

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

সপ্তায় একদিন, প্রতি বুধবার, পড়াশুনো শুরু করার আগে ইশকুলের হলঘরে যুদ্ধে বিজয়কামনা করে একটি প্রার্থনাসভার অনুষ্ঠান হত।

প্রার্থনা শেষ হলে পর প্রত্যেকেই বাঁদিকে, যেখানে দেয়ালের গায়ে জার ও জারিনার ছবি ঝুলত, সেইদিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়াত। সঙ্গে সঙ্গে ঐকতান-গায়করা জাতীয় সঙ্গীত শুরু করত ‘ঈশ্বর জারকে রক্ষা করুন’, আর সকলে যোগ দিত তাতে।

আমি যতটা চে’চানো সম্ভব চে’চিয়ে গাইতুম। আমার অবিশ্যি ঠিক গানের গলা ছিল না, কিন্তু এমন প্রাণপণে গাইতে চেষ্টা করতুম যে একবার মাস্টারমশাই বলে ফেললেন:

‘আরেকটু সহজভাবে গাও গোরিকভ। একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।’

আমি চটে গেলুম। বাড়াবাড়ি হচ্ছে? তার মানে?

তার মানে, আমার যদি গাইবার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে অন্যদের বিজয়প্রার্থনা করতে দিতে হবে, আর আমি দাঁড়িয়ে থাকব চুপচাপ?

বাড়িতে এসে মায়ের কাছে নালিশ জানালুম।

মা কিন্তু বিশেষ উচ্চবাচ্য করলেন না, শুধু বললেন:

‘তুমি তো এখনও ছোট্টটি আছ। আরেকটু বড় হও আগে… লোকে লড়াই করছে তো কাঁ হয়েছে? তাতে তোমার কী?’

‘কী বলছ মা? আর যদি জার্মানরা আমাদের দেশ জয় করে নেয়? ওদের অত্যাচারের কথা আমিও কিছু কিছু পড়েছি, বুঝেছ তো? আচ্ছা, জার্মানরা এমন হনদের মতো কেন মা যে তারা বুড়ো, বাচ্চা কাউকেই রেহাই দেয় না? অথচ আমাদের জারকে দ্যাখো তো, সকলের জন্যে তাঁর কত দরদ।’

‘ও নিয়ে তোমাকে মাথা ঘামাতে হবে না!’ অসন্তুষ্ট হয়ে মা বললেন। ‘ওরা সবাই সমান, স-ব্বা-ই। সবাই ওরা পাগল হয়ে গেছে, বুঝলে? জার্মানরা আর আমাদের দেশের মানুষ কেউই অন্য দেশের লোকের চেয়ে খারাপ নয়।’