০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঢাকার চিড়িয়াখানায়, বিশ্বজুড়ে ভাইরাল বাংলাদেশের অ্যালবিনো মহিষ বিটিএস-মাডোনা-শাকিরা একসঙ্গে, বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শো দৃশ্যম ৩ আগামীকাল অ্যামাজন প্রাইমে, ৩৩০ কোটি রুপির ব্লকবাস্টার এবার ঘরে বসেই দেখুন রাইজের নতুন অ্যালবাম ‘II’ প্রথম দিনেই ৯ লাখ কপি বিক্রি, ‘Do Your Dance’ এখন বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিং চার বছর পর মাঠে বিটিএস, পুসানে দুই রাতে ১,১০,০০০ দর্শক ঝড় তুলল বিশ্বকাপ অভিষেকেই হ্যালান্ডের জোড়া গোল, নরওয়ে ইরাককে ৪-১ উড়িয়ে দিল আজ রাতে ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া, মডরিচের শেষ বিশ্বকাপে ২০১৮-এর প্রতিশোধের সুযোগ এমবাপে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা, সেনেগালের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জোড়া গোলে রেকর্ড মেসির হ্যাট্রিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু, কিলোজের ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁলেন বৃষ্টির ৯০% আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ম্যাচ, ডিএলএস নিয়মে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৫০)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
  • 131

রাঙাছুটুর বাপের বাড়ি

নানার এক বৃদ্ধা বোন ছিলেন ফজার মা বুড়ি। তাঁকে লইয়া নানা আবার নতুন করিয়া সংসার পাতিলেন। সেই বড় বড় ঘরগুলির মতো ঘর আর উঠিল না। কার জন্যই বা নানা আর বড় ঘর করিবেন। বেটা নাই, পুত্র নাই। একমাত্র মেয়ে। সে তো আর বনগাঁয়ের দেশে কোনোদিন ঘর করিতে আসিবে না।

ফজার মাকে লইয়া নানার প্রায় পাঁচ-ছয় বৎসর কাটিয়া গেল। বুড়োবুড়ির দিন কোনোরকমে কাটে। হঠাৎ নানার পেটে পাথর হইয়া প্রস্রাব বন্ধ হইয়া গেল। বাজান খবর পাইয়া আট বেহারার পালকিতে করিয়া নানাকে চিকিৎসা করাইবার জন্য আমাদের বাড়ি লইয়া আসিলেন। নানা পালকি হইতে নামিয়া পাঁচশত টাকার একটি খুতি মায়ের হাতে দিলেন। তখনকার দিনে ফরিদপুরে তেমন বড় ডাক্তার ছিল না। মেডিকেল স্কুলের পাশ শ্রীধর ডাক্তার ফরিদপুর হাসপাতালের সাবঅ্যাসিসটেন্ট সার্জন। তিনিই ছিলেন আমাদের অঞ্চলের সব-চাইতে বড় ডাক্তার। আমাদের বাড়ি হইতে ফরিদপুর দুই মাইল পথ। তখনকার দিনে কোনো গাড়িঘোড়া চলিবার তেমন রাস্তা তৈরি হয় নাই। ডাক্তার আসিতেন-যাইতেন পালকিতে করিয়া। তাহাতে চার টাকা করিয়া লাগিত। ডাক্তার ফি লইতেন আরও চার টাকা। প্রতিদিন ডাক্তার আসিয়া সলি দিয়া নানাকে প্রস্রাব করাইয়া যাইতেন। সেটা হয়তো ১৯০৮ সাল কিংবা তারও আগে। পেটে পাথর হইলে অপারেশন করিয়া সারাইতে পারেন সেরূপ ডাক্তার বোধহয় আমাদের অঞ্চলে তখন ছিল না। ডাক্তার আসিলে নানা বড়ই সুস্থ বোধ করিতেন। ডাক্তার যাইতে চাহিলে নানা ডাক্তারকে বলিতেন, “ডাক্তারবাবু। আপনি আর একটু বসিয়া যান। আপনাকে দেখিলে আমার সমস্ত যন্ত্রণা কমিয়া যায়।” ডাক্তার আরও একটু অপেক্ষা করিয়া চলিয়া যাইতেন।

সংসারের কাজ করিয়া মা নানার কাছে বসিবার সুযোগ করিতেন। নানার পায়খানা, প্রস্রাব পরিষ্কার করিতেন। বাজান নানার চিকিৎসার জন্য নিজের সাধ্যেরও অতীত করিয়াছেন। বেদানা, ডালিম, মিছরি যা যা ডাক্তার নানাকে খাইতে বলিয়াছেন, বাজান তাহা সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছেন। প্রায় ১৫/১৬ দিন চিকিৎসার পর নানার অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাইতে লাগিল।

শেষ দিনে নানা মাকে ডাকিয়া বলিলেন, “রাঙাছুটু। দেখ তো আমার নাকটা যেন হেলিয়া পড়িয়াছে। আমি চোখে যেন কি দেখিতেছি।” সকল বুঝিয়াও মা বলিলেন, “না বাজান। আপনার নাক তো ভালোই আছে। কে বলে যে হেলিয়া পড়িয়াছে?”

 

চলবে…

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঢাকার চিড়িয়াখানায়, বিশ্বজুড়ে ভাইরাল বাংলাদেশের অ্যালবিনো মহিষ

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৫০)

১১:০০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪

রাঙাছুটুর বাপের বাড়ি

নানার এক বৃদ্ধা বোন ছিলেন ফজার মা বুড়ি। তাঁকে লইয়া নানা আবার নতুন করিয়া সংসার পাতিলেন। সেই বড় বড় ঘরগুলির মতো ঘর আর উঠিল না। কার জন্যই বা নানা আর বড় ঘর করিবেন। বেটা নাই, পুত্র নাই। একমাত্র মেয়ে। সে তো আর বনগাঁয়ের দেশে কোনোদিন ঘর করিতে আসিবে না।

ফজার মাকে লইয়া নানার প্রায় পাঁচ-ছয় বৎসর কাটিয়া গেল। বুড়োবুড়ির দিন কোনোরকমে কাটে। হঠাৎ নানার পেটে পাথর হইয়া প্রস্রাব বন্ধ হইয়া গেল। বাজান খবর পাইয়া আট বেহারার পালকিতে করিয়া নানাকে চিকিৎসা করাইবার জন্য আমাদের বাড়ি লইয়া আসিলেন। নানা পালকি হইতে নামিয়া পাঁচশত টাকার একটি খুতি মায়ের হাতে দিলেন। তখনকার দিনে ফরিদপুরে তেমন বড় ডাক্তার ছিল না। মেডিকেল স্কুলের পাশ শ্রীধর ডাক্তার ফরিদপুর হাসপাতালের সাবঅ্যাসিসটেন্ট সার্জন। তিনিই ছিলেন আমাদের অঞ্চলের সব-চাইতে বড় ডাক্তার। আমাদের বাড়ি হইতে ফরিদপুর দুই মাইল পথ। তখনকার দিনে কোনো গাড়িঘোড়া চলিবার তেমন রাস্তা তৈরি হয় নাই। ডাক্তার আসিতেন-যাইতেন পালকিতে করিয়া। তাহাতে চার টাকা করিয়া লাগিত। ডাক্তার ফি লইতেন আরও চার টাকা। প্রতিদিন ডাক্তার আসিয়া সলি দিয়া নানাকে প্রস্রাব করাইয়া যাইতেন। সেটা হয়তো ১৯০৮ সাল কিংবা তারও আগে। পেটে পাথর হইলে অপারেশন করিয়া সারাইতে পারেন সেরূপ ডাক্তার বোধহয় আমাদের অঞ্চলে তখন ছিল না। ডাক্তার আসিলে নানা বড়ই সুস্থ বোধ করিতেন। ডাক্তার যাইতে চাহিলে নানা ডাক্তারকে বলিতেন, “ডাক্তারবাবু। আপনি আর একটু বসিয়া যান। আপনাকে দেখিলে আমার সমস্ত যন্ত্রণা কমিয়া যায়।” ডাক্তার আরও একটু অপেক্ষা করিয়া চলিয়া যাইতেন।

সংসারের কাজ করিয়া মা নানার কাছে বসিবার সুযোগ করিতেন। নানার পায়খানা, প্রস্রাব পরিষ্কার করিতেন। বাজান নানার চিকিৎসার জন্য নিজের সাধ্যেরও অতীত করিয়াছেন। বেদানা, ডালিম, মিছরি যা যা ডাক্তার নানাকে খাইতে বলিয়াছেন, বাজান তাহা সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছেন। প্রায় ১৫/১৬ দিন চিকিৎসার পর নানার অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাইতে লাগিল।

শেষ দিনে নানা মাকে ডাকিয়া বলিলেন, “রাঙাছুটু। দেখ তো আমার নাকটা যেন হেলিয়া পড়িয়াছে। আমি চোখে যেন কি দেখিতেছি।” সকল বুঝিয়াও মা বলিলেন, “না বাজান। আপনার নাক তো ভালোই আছে। কে বলে যে হেলিয়া পড়িয়াছে?”

 

চলবে…