১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
চীনের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমছে, চাপে জেডটিই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি ইউরোপের ‘গানস বনাম বাটার’ সংকট তীব্রতর, ইরান যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার: ভরিতে বাড়ল ৩,২৬৬ টাকা, ২২ ক্যারেট এখন ২,৪৪,৭১১ টাকা জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী আজ মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

ইশকুল (পর্ব-২৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪
  • 110

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

ফেঙ্কাকে বললুম, ‘দ্যাখ, ওই মোড়টা ঘুরলেই এক্ষুনি আমরা সৈন্যদের কবরগুলোর কাছে পৌছব। গেল-সপ্তায় হাসপাতাল থেকে এনে এখানে সেমিওন কোঝেনিকভকে কবর দেয়া হয়েছে। কোঝেনিকভকে আমার খুব মনে পড়ে, জানিস ফেক্কা। যুদ্ধ বাধবার অনেক আগে, আমি তখন একেবারে বাচ্চা, কোঝেনিকভ আমাদের বাড়ি প্রায়ই আসতেন।

একদিন গুলূতি তৈরির জন্যে আমায় এক টুকরো রবারও দিয়েছিলেন। রবারের টুকরোটা ভারি ভালো ছিল রে। পরে বাসিউগিনদের বাড়ির একটা জানলার কাচ পাথর লেগে ভেঙে যাওয়ায় মা আমার রবারের টুকরোটা আগুনে ফেলে দিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, আমিই নাকি কাচ ভেঙেছিলুম।’

‘কেন, তুই ভাঙিস নি?’

‘আরে, ভেঙেছি তো হয়েছে কী? সেটা প্রমাণ করতে হবে তো। কেউ আমায় ভাঙতে তো দ্যাখে নি। সবটাই ছিল নিছক সন্দেহ। তুই কি একে ন্যায়বিচার বলিস? আচ্ছা ধর্, আমি যদি জানলাটা না-ভাঙতুম তা হলেও সেই আমারই ঘাড়ে দোষ পড়ত নাকি?’

‘তা তো পড়তই,’ আমার সঙ্গে একমত হল ফেক্কা। ‘মা-রা সবাই একরকম, বুঝলি! মেয়েদের জিনিসে ওরা হাত দেবে না, কিন্তু ছেলেরা কোনো কিছু নিয়ে খেলছে দেখলেই আর কথা নেই, সঙ্গে সঙ্গে তা কেড়ে নেবে। জানিস, পেরেকসুদ্ধ আমার দু-দুটো তাঁর মা ভেঙে দিয়েছে, ফাঁদে-পড়া ইদুরটাকেও বের করে নিয়েছে।

আর একবার মা যে আমার কী ক্ষতি করেছিল! আমি একটা খালি ডিবে খাট থেকে খুলে নিয়েছিলুম- ওই-যে, খাটের বাজুতে সব গোল গোল ডিবে থাকে জানিস তো? মা গিয়েছিলেন গির্জেয়। খানিকটা শোরা আর কাঠকয়লা বের করে ঘরে বসে মেশাচ্ছিলুম আমি। ভাবছিলুম, ডিবেটার ভেতর বারুদ ঠেসে ভতি করব। তারপর জঙ্গলে গিয়ে বোমা ফাটাব। মশলা তৈরিতে এত ব্যস্ত ছিলুম যে লক্ষ্য করি নি মা কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।

হঠাৎ শুনি মা-র গলা, ‘ডিবেটা খুলেছ কী জন্যে শুনি? অ্যাঁ, শয়তান কোথাকার! আর আমি ভাবছি ডিবেটা আবার কোথায় উবে গেল।’ সঙ্গে সঙ্গে গালে এক থাপ্পড়। ভাগ্যি ভালো, বাবা আমার পক্ষ নিল। জিজ্ঞেস করল, ‘ডিবেটা খুললে কেন?’ আমি বললুম, ‘দেখছ না? বোমা বানাচ্ছি যে।’ বাবা ভুরু কোঁচকাল। বলল, ‘থাক এসব। এসব জিনিস নিয়ে খেলা করো না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমছে, চাপে জেডটিই

ইশকুল (পর্ব-২৫)

০৮:০০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

ফেঙ্কাকে বললুম, ‘দ্যাখ, ওই মোড়টা ঘুরলেই এক্ষুনি আমরা সৈন্যদের কবরগুলোর কাছে পৌছব। গেল-সপ্তায় হাসপাতাল থেকে এনে এখানে সেমিওন কোঝেনিকভকে কবর দেয়া হয়েছে। কোঝেনিকভকে আমার খুব মনে পড়ে, জানিস ফেক্কা। যুদ্ধ বাধবার অনেক আগে, আমি তখন একেবারে বাচ্চা, কোঝেনিকভ আমাদের বাড়ি প্রায়ই আসতেন।

একদিন গুলূতি তৈরির জন্যে আমায় এক টুকরো রবারও দিয়েছিলেন। রবারের টুকরোটা ভারি ভালো ছিল রে। পরে বাসিউগিনদের বাড়ির একটা জানলার কাচ পাথর লেগে ভেঙে যাওয়ায় মা আমার রবারের টুকরোটা আগুনে ফেলে দিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, আমিই নাকি কাচ ভেঙেছিলুম।’

‘কেন, তুই ভাঙিস নি?’

‘আরে, ভেঙেছি তো হয়েছে কী? সেটা প্রমাণ করতে হবে তো। কেউ আমায় ভাঙতে তো দ্যাখে নি। সবটাই ছিল নিছক সন্দেহ। তুই কি একে ন্যায়বিচার বলিস? আচ্ছা ধর্, আমি যদি জানলাটা না-ভাঙতুম তা হলেও সেই আমারই ঘাড়ে দোষ পড়ত নাকি?’

‘তা তো পড়তই,’ আমার সঙ্গে একমত হল ফেক্কা। ‘মা-রা সবাই একরকম, বুঝলি! মেয়েদের জিনিসে ওরা হাত দেবে না, কিন্তু ছেলেরা কোনো কিছু নিয়ে খেলছে দেখলেই আর কথা নেই, সঙ্গে সঙ্গে তা কেড়ে নেবে। জানিস, পেরেকসুদ্ধ আমার দু-দুটো তাঁর মা ভেঙে দিয়েছে, ফাঁদে-পড়া ইদুরটাকেও বের করে নিয়েছে।

আর একবার মা যে আমার কী ক্ষতি করেছিল! আমি একটা খালি ডিবে খাট থেকে খুলে নিয়েছিলুম- ওই-যে, খাটের বাজুতে সব গোল গোল ডিবে থাকে জানিস তো? মা গিয়েছিলেন গির্জেয়। খানিকটা শোরা আর কাঠকয়লা বের করে ঘরে বসে মেশাচ্ছিলুম আমি। ভাবছিলুম, ডিবেটার ভেতর বারুদ ঠেসে ভতি করব। তারপর জঙ্গলে গিয়ে বোমা ফাটাব। মশলা তৈরিতে এত ব্যস্ত ছিলুম যে লক্ষ্য করি নি মা কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।

হঠাৎ শুনি মা-র গলা, ‘ডিবেটা খুলেছ কী জন্যে শুনি? অ্যাঁ, শয়তান কোথাকার! আর আমি ভাবছি ডিবেটা আবার কোথায় উবে গেল।’ সঙ্গে সঙ্গে গালে এক থাপ্পড়। ভাগ্যি ভালো, বাবা আমার পক্ষ নিল। জিজ্ঞেস করল, ‘ডিবেটা খুললে কেন?’ আমি বললুম, ‘দেখছ না? বোমা বানাচ্ছি যে।’ বাবা ভুরু কোঁচকাল। বলল, ‘থাক এসব। এসব জিনিস নিয়ে খেলা করো না।