০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার ব্রিটিশ ব্যবসার নীরবতা: রাজনীতিতে কথা না বলার খেসারত দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা মোগাদিশুতে ফিরছে স্বস্তি, তবে শান্তির আড়ালে রয়ে গেছে বড় শঙ্কা জাম্বিয়ার তামার সমৃদ্ধি, কিন্তু মানুষের ঘরে স্বস্তি কোথায়? মক্কা চুক্তি: সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৬৫ মৃত্যু, উদ্ধার তৎপরতায় বৈষম্যের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ইসলামের পতন, তবু শেষ হয়ে যায়নি মুসলিম ব্রাদারহুড ইউরোপকে এক করার অদৃশ্য কারিগর কারা? লেবার ও ব্যবসা: অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সম্পর্ক মেরামতের নতুন সুযোগ শান্তির কথা বলাই এখন রাশিয়ায় অপরাধ, নির্বাচনের দৌড় থেকে বাদ উদারপন্থী ইয়াব্লোকো

ইশকুল (পর্ব-৪৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
  • 125

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

প্রতিটি কবর, প্রতিটি স্মৃতিফলক তিষ্কার চেনা। পাখির মতো লাফিয়ে- লাফিয়ে চলতে-চলতে ও চিনিয়ে দিতে লাগল।

‘এটা সেই দমকলের লোকটার ওই-যে গত বছর আগুনে পুড়ে যে মারা গেল, তার। আর এটা অন্ধ চুরুবাকিনের। এদিকটায় সব ওই ধরনের লোকের কবর। ব্যবসাদার মহাজনদের এখানে গোর দেয়া হয় না। ওদের জন্যে একটা সরেস জমিতে বিশেষ ব্যবস্থা আছে। ওই যে, দেখতে পাচ্ছিস, সিনিউগিনের ঠাকুরমার কবরের ওপর পাথরের মূর্তি আর কটা দেবদূত।

এদিকে দ্যাখ। কোনোরকমে নজরে পড়ে এমন একটা মাটির ডিবির দিকে বুড়ো আঙুল নাচিয়ে বলল তিমুকা ‘এটা খার কবর সে লোকটা আত্মহত্যা করেছিল। বাবা বলছিল লোকটা নাকি ইচ্ছে করে গলায় দড়ি দিয়ে মরেছিল। লোকটা ডিপো-কারখানায় ফিটার মিস্তির কাজ করত। আমি তো বুঝতেই পারি না ইচ্ছে করে কেউ নিজের গলায় দড়ি দেয় কী করে।’

‘জানিস তিকা, আমার মনে হয় লোকটার নিশ্চয় কষ্টের জীবন ছিল, সুখের জীবন ছিল না। তাই না?’ ‘কী বলতে চাস্ তুই!’ তিকা প্রতিবাদ করল। মনে হল, ও কথাটা শুনে অবাক হয়ে গেছে। ‘এটা নিশ্চয়ই খারাপ নয়?’

‘কোন্টা খারাপ নয়?’

‘জীবনটা। জীবনটা ভারি মজার, ভারি ভালো। মরাটা কী করে আরও ভালো হতে পারে? বে’চে থাকলে ছুটে বেড়াতে পারিস, যা খুশি করতে পারিস। আর এখেনে তোকে তো চুপচাপ শুয়ে পড়ে থাকতে হবে!’

হেসে উঠল তিমুক্কা। রিনরিনে ঢেউ-খেলানো হাসি। তারপর আচমকা হাসি বন্ধ করল। ওর চোখের চাউনিতে কেমন যেন একটা হতবুদ্ধি ভাব। এক মিনিট চুপ করে থেকে ও ফিসফিসিয়ে বলল:

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

ইশকুল (পর্ব-৪৩)

০৮:০০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

প্রতিটি কবর, প্রতিটি স্মৃতিফলক তিষ্কার চেনা। পাখির মতো লাফিয়ে- লাফিয়ে চলতে-চলতে ও চিনিয়ে দিতে লাগল।

‘এটা সেই দমকলের লোকটার ওই-যে গত বছর আগুনে পুড়ে যে মারা গেল, তার। আর এটা অন্ধ চুরুবাকিনের। এদিকটায় সব ওই ধরনের লোকের কবর। ব্যবসাদার মহাজনদের এখানে গোর দেয়া হয় না। ওদের জন্যে একটা সরেস জমিতে বিশেষ ব্যবস্থা আছে। ওই যে, দেখতে পাচ্ছিস, সিনিউগিনের ঠাকুরমার কবরের ওপর পাথরের মূর্তি আর কটা দেবদূত।

এদিকে দ্যাখ। কোনোরকমে নজরে পড়ে এমন একটা মাটির ডিবির দিকে বুড়ো আঙুল নাচিয়ে বলল তিমুকা ‘এটা খার কবর সে লোকটা আত্মহত্যা করেছিল। বাবা বলছিল লোকটা নাকি ইচ্ছে করে গলায় দড়ি দিয়ে মরেছিল। লোকটা ডিপো-কারখানায় ফিটার মিস্তির কাজ করত। আমি তো বুঝতেই পারি না ইচ্ছে করে কেউ নিজের গলায় দড়ি দেয় কী করে।’

‘জানিস তিকা, আমার মনে হয় লোকটার নিশ্চয় কষ্টের জীবন ছিল, সুখের জীবন ছিল না। তাই না?’ ‘কী বলতে চাস্ তুই!’ তিকা প্রতিবাদ করল। মনে হল, ও কথাটা শুনে অবাক হয়ে গেছে। ‘এটা নিশ্চয়ই খারাপ নয়?’

‘কোন্টা খারাপ নয়?’

‘জীবনটা। জীবনটা ভারি মজার, ভারি ভালো। মরাটা কী করে আরও ভালো হতে পারে? বে’চে থাকলে ছুটে বেড়াতে পারিস, যা খুশি করতে পারিস। আর এখেনে তোকে তো চুপচাপ শুয়ে পড়ে থাকতে হবে!’

হেসে উঠল তিমুক্কা। রিনরিনে ঢেউ-খেলানো হাসি। তারপর আচমকা হাসি বন্ধ করল। ওর চোখের চাউনিতে কেমন যেন একটা হতবুদ্ধি ভাব। এক মিনিট চুপ করে থেকে ও ফিসফিসিয়ে বলল: