০৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
রিকনসিলিয়েশানের আগে সহযোগিতা:  প্রতিরোধের সামনে বাস্তবসম্মত পথ সৌদি উপকূলে ট্যাংকারে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাত, আগুন; নিরাপদে সব নাবিক মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে প্রশ্ন না করার অনুরোধ, ‘ভিভিআইপি সফরে এটাই স্বাভাবিক’ বলল ভারত পারান্দুরে দ্বিতীয় চেন্নাই বিমানবন্দর বাতিল, বিজয়ের সিদ্ধান্তে স্ট্যালিনের তীব্র ক্ষোভ দিল্লিতে ভারী বৃষ্টি-ঝড়, ১৫টি ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলো ব্রাজিলে কংগ্রেসের ক্ষমতার দাপট: প্রেসিডেন্টের চেয়েও শক্তিশালী আইনসভা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল যুক্তরাষ্ট্রের পানি অবকাঠামোই এখন সাইবার হামলার সহজ লক্ষ্য যত্রতত্র বালু তোলায় ভয়াবহ নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-ফসলি জমি ভালো ফলনেও আউশের দামে হতাশ হবিগঞ্জের কৃষক, মণ ৭০০–৮০০ টাকা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৮)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 187

শ্রী নিখিলনাথ রায়

মহারাজের বাটীতে অঙ্গীকার-পত্রপ্রদানে স্বীকার করিয়া, বুলাকীদাস পাল্কী চড়িয়া, বড়বাজারে হাজারীমলের বাটীতে তাহার নিজ বাসায় গমন করে এবং মহম্মদ কমলকে তাহার নিকট পাঠাইতে বলিয়া যায়। বুলাকীদাস জয়দেবকে সঙ্গে করিয়া লইয়া যায়, পরে তাহার বাসায় অঙ্গীকার-পত্র লিখিত ও সাক্ষরিত হয়। তথায় অঙ্গীকার-পত্রের লেখক, বুলাকীদাস ও জয়দেব ব্যতীত চৈতন্য নাথ, লালা ডোমন সিংহ এবং ইয়ার মহম্মদ এই কয়েক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। জয়দেব চোবের সাক্ষ্যের মধ্যস্থলে মোহন দাস, কৃষ্ণজীবন, মোহন প্রসাদ প্রভৃতিকে আহ্বান করিয়া কয়েকটি দলিলপত্রের কথা জিজ্ঞাসা করা হয়; আমরা পরে সে সমস্ত বিষয়ের কথা উল্লেখ করিতেছি।

লালা ডোমন সিংহ সাক্ষ্য দেয় যে, সে নিজ চক্ষে বুলাকীদাসকে মহা- রাজের নামে অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়া দিতে দেখিয়াছে। ৪৬ হইতে ৪৮ হাজার টাকার কথা লেখা হয়। কমল উদ্দীন আলি খাঁ মহম্মদ কমল নহে; সে আর এক ব্যক্তি। লালা ডোমন সিংহ ফারসী জানায় কতক- গুলি কাগজ দেখিয়া বুলাকীদাসের মোহর প্রমাণ করে। চৈতন্যনাথ সাক্ষ্য দেয়, আমি বুলাকীদাসকে জানি; তাহাকে মহা- রাজের নামে অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়া দিতে দেখিয়াছি। অঙ্গীকার-পত্রে মাতাব রায়, শীলাবৎ ও মহম্মদ কমল সাক্ষী হয়।

তাহাতে ৪০ হইতে • হাজার টাকার কথা লিখিত হয়। মহম্মদ কমলের বাটী মুর্শিদাবাদে ছিল, এক্ষণে সে মৃত। কমল উদ্দীন মহম্মদ কমল নহে। তাহাকে M চিহ্নিত একখানি নাগরী দলিল দেখান হইলে, সে বলে যে, ইহার বিষয় আমি জানি; তাহা একখানি হিসাবের তালিকা। যখন এই হিসাবের স্থির হয়, তখন তথায় জয়দেব চোবে ও পুরুষোত্তম গুপ্ত উপস্থিত ছিল;- পদ্মমোহন দাস ও মোহন-প্রসাদ, মহারাজ ও গঙ্গাবিষ্ণুর সাক্ষাতে ইহাই। সাক্ষর করিয়া দেয়। সেখ ইয়ার মহম্মদ সাক্ষ্য দেয় যে, সে মহম্মদ কমলকে জানে।

কমল উদ্দীন ও মহম্মদ কমল এক নহে। মহম্মদ কমল ৫/৬ বৎসর হইল মহারাজের কলিকাতার বাটীতে মরিয়াছে এবং সে তাহাকে কবর দিয়াছে। মহম্মদ কমলকে সে বুলাকীদাসের অঙ্গীকার পত্রে সাক্ষী হইতে দেখিয়াছে; সে পত্রে শীলাবৎ ও মাতাব রায়ও সাক্ষী হয়। তাহাতে ৪৮,০২১ টাকা লিখিত হয় বলিয়া মনে হইতেছে। মীর আসদ উল্লা সাক্ষ্য দেয় যে, সে বুলাকীদাসকে চিনিত; নবাব মীর কাশেম রোটাস হইতে বুলাকীর নিকট কতকগুলি টাকা কড়ি পাঠাইয়া- ছিলেন। বুলাকী তৎকালে সাসেরামের নিকট দুর্গাবতী নামক স্থানে সেনাশিবিরে ছিল। সে টাকা তথায় তাহার নিকট দিলে, সে একখানি রসিদে মোহর করিয়া দেয়। সেই রসিদ আসদ উল্লা উপস্থিত করে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রিকনসিলিয়েশানের আগে সহযোগিতা:  প্রতিরোধের সামনে বাস্তবসম্মত পথ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৮)

১১:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

মহারাজের বাটীতে অঙ্গীকার-পত্রপ্রদানে স্বীকার করিয়া, বুলাকীদাস পাল্কী চড়িয়া, বড়বাজারে হাজারীমলের বাটীতে তাহার নিজ বাসায় গমন করে এবং মহম্মদ কমলকে তাহার নিকট পাঠাইতে বলিয়া যায়। বুলাকীদাস জয়দেবকে সঙ্গে করিয়া লইয়া যায়, পরে তাহার বাসায় অঙ্গীকার-পত্র লিখিত ও সাক্ষরিত হয়। তথায় অঙ্গীকার-পত্রের লেখক, বুলাকীদাস ও জয়দেব ব্যতীত চৈতন্য নাথ, লালা ডোমন সিংহ এবং ইয়ার মহম্মদ এই কয়েক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। জয়দেব চোবের সাক্ষ্যের মধ্যস্থলে মোহন দাস, কৃষ্ণজীবন, মোহন প্রসাদ প্রভৃতিকে আহ্বান করিয়া কয়েকটি দলিলপত্রের কথা জিজ্ঞাসা করা হয়; আমরা পরে সে সমস্ত বিষয়ের কথা উল্লেখ করিতেছি।

লালা ডোমন সিংহ সাক্ষ্য দেয় যে, সে নিজ চক্ষে বুলাকীদাসকে মহা- রাজের নামে অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়া দিতে দেখিয়াছে। ৪৬ হইতে ৪৮ হাজার টাকার কথা লেখা হয়। কমল উদ্দীন আলি খাঁ মহম্মদ কমল নহে; সে আর এক ব্যক্তি। লালা ডোমন সিংহ ফারসী জানায় কতক- গুলি কাগজ দেখিয়া বুলাকীদাসের মোহর প্রমাণ করে। চৈতন্যনাথ সাক্ষ্য দেয়, আমি বুলাকীদাসকে জানি; তাহাকে মহা- রাজের নামে অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়া দিতে দেখিয়াছি। অঙ্গীকার-পত্রে মাতাব রায়, শীলাবৎ ও মহম্মদ কমল সাক্ষী হয়।

তাহাতে ৪০ হইতে • হাজার টাকার কথা লিখিত হয়। মহম্মদ কমলের বাটী মুর্শিদাবাদে ছিল, এক্ষণে সে মৃত। কমল উদ্দীন মহম্মদ কমল নহে। তাহাকে M চিহ্নিত একখানি নাগরী দলিল দেখান হইলে, সে বলে যে, ইহার বিষয় আমি জানি; তাহা একখানি হিসাবের তালিকা। যখন এই হিসাবের স্থির হয়, তখন তথায় জয়দেব চোবে ও পুরুষোত্তম গুপ্ত উপস্থিত ছিল;- পদ্মমোহন দাস ও মোহন-প্রসাদ, মহারাজ ও গঙ্গাবিষ্ণুর সাক্ষাতে ইহাই। সাক্ষর করিয়া দেয়। সেখ ইয়ার মহম্মদ সাক্ষ্য দেয় যে, সে মহম্মদ কমলকে জানে।

কমল উদ্দীন ও মহম্মদ কমল এক নহে। মহম্মদ কমল ৫/৬ বৎসর হইল মহারাজের কলিকাতার বাটীতে মরিয়াছে এবং সে তাহাকে কবর দিয়াছে। মহম্মদ কমলকে সে বুলাকীদাসের অঙ্গীকার পত্রে সাক্ষী হইতে দেখিয়াছে; সে পত্রে শীলাবৎ ও মাতাব রায়ও সাক্ষী হয়। তাহাতে ৪৮,০২১ টাকা লিখিত হয় বলিয়া মনে হইতেছে। মীর আসদ উল্লা সাক্ষ্য দেয় যে, সে বুলাকীদাসকে চিনিত; নবাব মীর কাশেম রোটাস হইতে বুলাকীর নিকট কতকগুলি টাকা কড়ি পাঠাইয়া- ছিলেন। বুলাকী তৎকালে সাসেরামের নিকট দুর্গাবতী নামক স্থানে সেনাশিবিরে ছিল। সে টাকা তথায় তাহার নিকট দিলে, সে একখানি রসিদে মোহর করিয়া দেয়। সেই রসিদ আসদ উল্লা উপস্থিত করে।