০৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
অবরোধ এভাবে কাজ করে না নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট:  পাকিস্তানে শিয়া ক্ষোভ বিগত সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক প্রভাবে স্বকীয়তা হারিয়েছিল: আইনমন্ত্রী ইউটিউবের সংবাদ বিশ্লেষণকে এপিএসসি-ইউপিএসসি প্রস্তুতির ফর্মুলায় পরিণত করা এক প্রতিষ্ঠানের গল্প ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদাকে কুপিয়ে হত্যা বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ ৫৮ জেলায়, জাতীয় ঝুঁকি ‘উচ্চ’—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত জলপ্রপাত: আড়াআড়ি স্রোত, উল্টো ধারা আর কুয়াশার জলপ্রপাতের বিস্ময় বিবাহবিচ্ছেদের পর একাকী জীবনের কঠিন বাস্তবতা: আয় কমে খরচ বেড়ে বদলে যাচ্ছে জীবনধারা এজেএল ৪০: নবাগত তারকারা নতুন সুরে মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৮)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 157

শ্রী নিখিলনাথ রায়

মহারাজের বাটীতে অঙ্গীকার-পত্রপ্রদানে স্বীকার করিয়া, বুলাকীদাস পাল্কী চড়িয়া, বড়বাজারে হাজারীমলের বাটীতে তাহার নিজ বাসায় গমন করে এবং মহম্মদ কমলকে তাহার নিকট পাঠাইতে বলিয়া যায়। বুলাকীদাস জয়দেবকে সঙ্গে করিয়া লইয়া যায়, পরে তাহার বাসায় অঙ্গীকার-পত্র লিখিত ও সাক্ষরিত হয়। তথায় অঙ্গীকার-পত্রের লেখক, বুলাকীদাস ও জয়দেব ব্যতীত চৈতন্য নাথ, লালা ডোমন সিংহ এবং ইয়ার মহম্মদ এই কয়েক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। জয়দেব চোবের সাক্ষ্যের মধ্যস্থলে মোহন দাস, কৃষ্ণজীবন, মোহন প্রসাদ প্রভৃতিকে আহ্বান করিয়া কয়েকটি দলিলপত্রের কথা জিজ্ঞাসা করা হয়; আমরা পরে সে সমস্ত বিষয়ের কথা উল্লেখ করিতেছি।

লালা ডোমন সিংহ সাক্ষ্য দেয় যে, সে নিজ চক্ষে বুলাকীদাসকে মহা- রাজের নামে অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়া দিতে দেখিয়াছে। ৪৬ হইতে ৪৮ হাজার টাকার কথা লেখা হয়। কমল উদ্দীন আলি খাঁ মহম্মদ কমল নহে; সে আর এক ব্যক্তি। লালা ডোমন সিংহ ফারসী জানায় কতক- গুলি কাগজ দেখিয়া বুলাকীদাসের মোহর প্রমাণ করে। চৈতন্যনাথ সাক্ষ্য দেয়, আমি বুলাকীদাসকে জানি; তাহাকে মহা- রাজের নামে অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়া দিতে দেখিয়াছি। অঙ্গীকার-পত্রে মাতাব রায়, শীলাবৎ ও মহম্মদ কমল সাক্ষী হয়।

তাহাতে ৪০ হইতে • হাজার টাকার কথা লিখিত হয়। মহম্মদ কমলের বাটী মুর্শিদাবাদে ছিল, এক্ষণে সে মৃত। কমল উদ্দীন মহম্মদ কমল নহে। তাহাকে M চিহ্নিত একখানি নাগরী দলিল দেখান হইলে, সে বলে যে, ইহার বিষয় আমি জানি; তাহা একখানি হিসাবের তালিকা। যখন এই হিসাবের স্থির হয়, তখন তথায় জয়দেব চোবে ও পুরুষোত্তম গুপ্ত উপস্থিত ছিল;- পদ্মমোহন দাস ও মোহন-প্রসাদ, মহারাজ ও গঙ্গাবিষ্ণুর সাক্ষাতে ইহাই। সাক্ষর করিয়া দেয়। সেখ ইয়ার মহম্মদ সাক্ষ্য দেয় যে, সে মহম্মদ কমলকে জানে।

কমল উদ্দীন ও মহম্মদ কমল এক নহে। মহম্মদ কমল ৫/৬ বৎসর হইল মহারাজের কলিকাতার বাটীতে মরিয়াছে এবং সে তাহাকে কবর দিয়াছে। মহম্মদ কমলকে সে বুলাকীদাসের অঙ্গীকার পত্রে সাক্ষী হইতে দেখিয়াছে; সে পত্রে শীলাবৎ ও মাতাব রায়ও সাক্ষী হয়। তাহাতে ৪৮,০২১ টাকা লিখিত হয় বলিয়া মনে হইতেছে। মীর আসদ উল্লা সাক্ষ্য দেয় যে, সে বুলাকীদাসকে চিনিত; নবাব মীর কাশেম রোটাস হইতে বুলাকীর নিকট কতকগুলি টাকা কড়ি পাঠাইয়া- ছিলেন। বুলাকী তৎকালে সাসেরামের নিকট দুর্গাবতী নামক স্থানে সেনাশিবিরে ছিল। সে টাকা তথায় তাহার নিকট দিলে, সে একখানি রসিদে মোহর করিয়া দেয়। সেই রসিদ আসদ উল্লা উপস্থিত করে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অবরোধ এভাবে কাজ করে না

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৮)

১১:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

মহারাজের বাটীতে অঙ্গীকার-পত্রপ্রদানে স্বীকার করিয়া, বুলাকীদাস পাল্কী চড়িয়া, বড়বাজারে হাজারীমলের বাটীতে তাহার নিজ বাসায় গমন করে এবং মহম্মদ কমলকে তাহার নিকট পাঠাইতে বলিয়া যায়। বুলাকীদাস জয়দেবকে সঙ্গে করিয়া লইয়া যায়, পরে তাহার বাসায় অঙ্গীকার-পত্র লিখিত ও সাক্ষরিত হয়। তথায় অঙ্গীকার-পত্রের লেখক, বুলাকীদাস ও জয়দেব ব্যতীত চৈতন্য নাথ, লালা ডোমন সিংহ এবং ইয়ার মহম্মদ এই কয়েক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। জয়দেব চোবের সাক্ষ্যের মধ্যস্থলে মোহন দাস, কৃষ্ণজীবন, মোহন প্রসাদ প্রভৃতিকে আহ্বান করিয়া কয়েকটি দলিলপত্রের কথা জিজ্ঞাসা করা হয়; আমরা পরে সে সমস্ত বিষয়ের কথা উল্লেখ করিতেছি।

লালা ডোমন সিংহ সাক্ষ্য দেয় যে, সে নিজ চক্ষে বুলাকীদাসকে মহা- রাজের নামে অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়া দিতে দেখিয়াছে। ৪৬ হইতে ৪৮ হাজার টাকার কথা লেখা হয়। কমল উদ্দীন আলি খাঁ মহম্মদ কমল নহে; সে আর এক ব্যক্তি। লালা ডোমন সিংহ ফারসী জানায় কতক- গুলি কাগজ দেখিয়া বুলাকীদাসের মোহর প্রমাণ করে। চৈতন্যনাথ সাক্ষ্য দেয়, আমি বুলাকীদাসকে জানি; তাহাকে মহা- রাজের নামে অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়া দিতে দেখিয়াছি। অঙ্গীকার-পত্রে মাতাব রায়, শীলাবৎ ও মহম্মদ কমল সাক্ষী হয়।

তাহাতে ৪০ হইতে • হাজার টাকার কথা লিখিত হয়। মহম্মদ কমলের বাটী মুর্শিদাবাদে ছিল, এক্ষণে সে মৃত। কমল উদ্দীন মহম্মদ কমল নহে। তাহাকে M চিহ্নিত একখানি নাগরী দলিল দেখান হইলে, সে বলে যে, ইহার বিষয় আমি জানি; তাহা একখানি হিসাবের তালিকা। যখন এই হিসাবের স্থির হয়, তখন তথায় জয়দেব চোবে ও পুরুষোত্তম গুপ্ত উপস্থিত ছিল;- পদ্মমোহন দাস ও মোহন-প্রসাদ, মহারাজ ও গঙ্গাবিষ্ণুর সাক্ষাতে ইহাই। সাক্ষর করিয়া দেয়। সেখ ইয়ার মহম্মদ সাক্ষ্য দেয় যে, সে মহম্মদ কমলকে জানে।

কমল উদ্দীন ও মহম্মদ কমল এক নহে। মহম্মদ কমল ৫/৬ বৎসর হইল মহারাজের কলিকাতার বাটীতে মরিয়াছে এবং সে তাহাকে কবর দিয়াছে। মহম্মদ কমলকে সে বুলাকীদাসের অঙ্গীকার পত্রে সাক্ষী হইতে দেখিয়াছে; সে পত্রে শীলাবৎ ও মাতাব রায়ও সাক্ষী হয়। তাহাতে ৪৮,০২১ টাকা লিখিত হয় বলিয়া মনে হইতেছে। মীর আসদ উল্লা সাক্ষ্য দেয় যে, সে বুলাকীদাসকে চিনিত; নবাব মীর কাশেম রোটাস হইতে বুলাকীর নিকট কতকগুলি টাকা কড়ি পাঠাইয়া- ছিলেন। বুলাকী তৎকালে সাসেরামের নিকট দুর্গাবতী নামক স্থানে সেনাশিবিরে ছিল। সে টাকা তথায় তাহার নিকট দিলে, সে একখানি রসিদে মোহর করিয়া দেয়। সেই রসিদ আসদ উল্লা উপস্থিত করে।