১২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ এখনও সংকটে, ঝুঁকি বাড়িয়ে রেখেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের আড়ালে নারীদের দীর্ঘ নীরবতার গল্প তিন মাসেও কেন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো না সরকার? হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়লেন আরিয়ানা গ্রান্দে, অভিবাসী আটক ভিডিওতে গান ব্যবহারে বিতর্ক স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক বাজার অভিষেক, দুই ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল মূল্য; ইলন মাস্ক প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ট্রাম্পের নাম সরাতে আদালতের নির্দেশ বহাল, কেনেডি সেন্টার নিয়ে নতুন ধাক্কা ক্যানিয়ে ওয়েস্টের কনসার্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক, ট্যাম্পায় নিষেধাজ্ঞার দাবিতে সরব বিভিন্ন সংগঠন সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা সীমা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অভিবাসন বিতর্কে ভোটারদের না ইসলামী ব্যাংককে ২,৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্লোরিডায় কুকুরের হামলায় নারীর মৃত্যু, মালিকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১১১)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 137

শশাঙ্ক মণ্ডল

সাহিত্য

পঞ্চম অধ্যায়

বাংলা ভাষার পাশাপাশি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় মুসলমান ছাত্রদের জন্য ফারসি ভাষা শেখানো হত। রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের পাঠশালায় বা তোলবাখানায় পাঠানোর রেওয়াজ উনিশ শতকের শেষভাগে লক্ষ করা যাচ্ছে না। বিশ শতকের সূচনালগ্নে অনেক জায়গায় পাঠশালায় মেয়েদের পাঠানো হচ্ছে মেয়েদের জন্য আলাদা পাঠশালার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উনিশ শতকের শেষভাগে যে সব জায়গায় মেয়েদের আলাদা শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি সে সব জায়গায় অভিজাত অভিভাবকরা বাড়িতে শিক্ষক রেখে মেয়েদের কিছুটা পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করেছেন।

সে যুগে সুন্দরবনের কৃষিজীবী সমাজে যেহেতু উদ্ধৃত্ত সম্পদ খুব একটা বেশি থাকত না সেজন্য এক বড় অংশের ছাত্রদের পাঠশালার শুরুতেই শিক্ষা সমাপ্ত হত। ধনী পরিবার কিংবা সমাজের উচ্চ শিক্ষা লাভ করার জন্য সে যুগে ছাত্রদের একটা বড় অংশ হুগলী কলেজিয়েট স্কুল, বরিশাল বি. এম. হাইস্কুল, সরকারি বিদ্যালয়গুলির ছাত্রাবাস কিংবা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ধনী আত্মীয়দের বাড়িতে বাসস্থান সংগ্রহ করে পড়াশুনা চালাত। পাঠশালা বা মক্তবগুলির ছাত্রদের শিক্ষার কোন ধারাবাহিকতা ছিল না। বর্ষার সময়ে অথবা অন্য নানা কারণে শিক্ষা বন্ধ হয়ে যেত।

এর পিছনে শিক্ষকের স্থানত্যাগ, অভিভাবকদের আর্থিক দুর্গতি নিশ্চয়ই অন্যতম কারণ ছিল। সেজন্য পাঠশালায় নানা বয়সের ছাত্ররা পড়াশুনা করত। ছয় বছরের শিশু থেকে ১৫/১৬ বৎসরের ছেলেরা একসঙ্গে পড়াশুনা করত। শৃঙ্খলা ছিল ভয়ানক ও কঠোর। নানা ধরনের নিষ্ঠুর নিপীড়ন মূলক ব্যবস্থার মধ্যে চেয়ারে বসা, মধু মোড়া, ঘুঘুমোড়া এক পায়ে দাঁড়ানো, পিঠ মোড়া, আড়ায় ঝোলানো, আঙুলের মধ্যে কাঠি ঢুকিয়ে চাপ দেওয়া, এ ধরনের নানা শাস্তির ব্যবস্থা ছিল প্রতিটি পাঠশালাতে। ছাত্রদের মধ্যে মুসলমানদের তুলনায় হিন্দুদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা যায়।

কারণ এই এলাকায় আর্থিক দিক দিয়ে মুসলমানদের অবস্থা হিন্দুদের তুলনায় আরও শোচনীয় ছিল। কৃষকদের তলাকার অংশের একটা বিপুল অংশ ছিল মুসলমান চাষী- এদের উদ্বৃত্ত সম্পদ বলতে কিছুই থাকত না, ফলে এদের শিক্ষার অঙ্গনে প্রবেশাধিকার ছিল না। তা ছাড়া ইংরেজ রাজত্বে দীর্ঘকাল পর্যন্ত মুসলমানরা পাশ্চাত্যশিক্ষার ব্যাপারে উদাসীন ছিল এবং সরকারের পক্ষেও সরকারি চাকুরির ব্যাপারে মুসলমানদের উৎসাহ দেবার সংকীর্ণতা লক্ষ করা যায়। (৩) ব্রিটিশ রাজত্বের শুরু থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব এই পাঠশালাগুলি পালন করত।

বিংশ শতাব্দীতে সরকার অনুমোদিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। নূতন বনাঞ্চল উঠিত করে তাতে প্রজা বসতি শুরু হলে গ্রাম্য প্রধানদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে এই পাঠশালাগুলি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপারে খুব একটা দায়িত্ব নেওয়া হত না। শিশুদের একটা বড় অংশ শিক্ষার বাইরে থেকে যেত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ এখনও সংকটে, ঝুঁকি বাড়িয়ে রেখেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১১১)

১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

সাহিত্য

পঞ্চম অধ্যায়

বাংলা ভাষার পাশাপাশি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় মুসলমান ছাত্রদের জন্য ফারসি ভাষা শেখানো হত। রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের পাঠশালায় বা তোলবাখানায় পাঠানোর রেওয়াজ উনিশ শতকের শেষভাগে লক্ষ করা যাচ্ছে না। বিশ শতকের সূচনালগ্নে অনেক জায়গায় পাঠশালায় মেয়েদের পাঠানো হচ্ছে মেয়েদের জন্য আলাদা পাঠশালার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উনিশ শতকের শেষভাগে যে সব জায়গায় মেয়েদের আলাদা শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি সে সব জায়গায় অভিজাত অভিভাবকরা বাড়িতে শিক্ষক রেখে মেয়েদের কিছুটা পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করেছেন।

সে যুগে সুন্দরবনের কৃষিজীবী সমাজে যেহেতু উদ্ধৃত্ত সম্পদ খুব একটা বেশি থাকত না সেজন্য এক বড় অংশের ছাত্রদের পাঠশালার শুরুতেই শিক্ষা সমাপ্ত হত। ধনী পরিবার কিংবা সমাজের উচ্চ শিক্ষা লাভ করার জন্য সে যুগে ছাত্রদের একটা বড় অংশ হুগলী কলেজিয়েট স্কুল, বরিশাল বি. এম. হাইস্কুল, সরকারি বিদ্যালয়গুলির ছাত্রাবাস কিংবা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ধনী আত্মীয়দের বাড়িতে বাসস্থান সংগ্রহ করে পড়াশুনা চালাত। পাঠশালা বা মক্তবগুলির ছাত্রদের শিক্ষার কোন ধারাবাহিকতা ছিল না। বর্ষার সময়ে অথবা অন্য নানা কারণে শিক্ষা বন্ধ হয়ে যেত।

এর পিছনে শিক্ষকের স্থানত্যাগ, অভিভাবকদের আর্থিক দুর্গতি নিশ্চয়ই অন্যতম কারণ ছিল। সেজন্য পাঠশালায় নানা বয়সের ছাত্ররা পড়াশুনা করত। ছয় বছরের শিশু থেকে ১৫/১৬ বৎসরের ছেলেরা একসঙ্গে পড়াশুনা করত। শৃঙ্খলা ছিল ভয়ানক ও কঠোর। নানা ধরনের নিষ্ঠুর নিপীড়ন মূলক ব্যবস্থার মধ্যে চেয়ারে বসা, মধু মোড়া, ঘুঘুমোড়া এক পায়ে দাঁড়ানো, পিঠ মোড়া, আড়ায় ঝোলানো, আঙুলের মধ্যে কাঠি ঢুকিয়ে চাপ দেওয়া, এ ধরনের নানা শাস্তির ব্যবস্থা ছিল প্রতিটি পাঠশালাতে। ছাত্রদের মধ্যে মুসলমানদের তুলনায় হিন্দুদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা যায়।

কারণ এই এলাকায় আর্থিক দিক দিয়ে মুসলমানদের অবস্থা হিন্দুদের তুলনায় আরও শোচনীয় ছিল। কৃষকদের তলাকার অংশের একটা বিপুল অংশ ছিল মুসলমান চাষী- এদের উদ্বৃত্ত সম্পদ বলতে কিছুই থাকত না, ফলে এদের শিক্ষার অঙ্গনে প্রবেশাধিকার ছিল না। তা ছাড়া ইংরেজ রাজত্বে দীর্ঘকাল পর্যন্ত মুসলমানরা পাশ্চাত্যশিক্ষার ব্যাপারে উদাসীন ছিল এবং সরকারের পক্ষেও সরকারি চাকুরির ব্যাপারে মুসলমানদের উৎসাহ দেবার সংকীর্ণতা লক্ষ করা যায়। (৩) ব্রিটিশ রাজত্বের শুরু থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব এই পাঠশালাগুলি পালন করত।

বিংশ শতাব্দীতে সরকার অনুমোদিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। নূতন বনাঞ্চল উঠিত করে তাতে প্রজা বসতি শুরু হলে গ্রাম্য প্রধানদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে এই পাঠশালাগুলি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপারে খুব একটা দায়িত্ব নেওয়া হত না। শিশুদের একটা বড় অংশ শিক্ষার বাইরে থেকে যেত।