০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
মাইকেল জ্যাকসনকে ভালোবাসা কি এখনও সম্ভব? দুর্নীতি-সহিংসতায় বিজেপি ও তৃণমূল একই মুদ্রার দুই পিঠ: রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ জীবন, তবু স্বাভাবিক থাকার বার্তা ট্রাম্পের ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা, সন্দেহভাজন আটক পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন ও নিষিদ্ধ স্থানগুলো: কেন বিজ্ঞানীরা এসব জায়গা লুকিয়ে রেখেছেন অনলাইনে কতটা ক্ষতি করছে আপনার এক ক্লিক? এআই, ভিডিও আর দৈনন্দিন অভ্যাসের অদৃশ্য কার্বন হিসাব কাজ ফেলে রাখার ফাঁদ: আলস্য নয়, স্ট্রেসই আসল কারণ এআই প্রেম থেকে মৃত্যুর পর কণ্ঠ—মানবজীবনের সীমানায় নতুন ঝড় এআই নিজেই বানাচ্ছে গোপন আঁতাত, বাড়ছে দাম—বাজারে নতুন ঝুঁকির সতর্কতা এআই প্রেমের ফাঁদ: ভার্চুয়াল সম্পর্ক কি বাড়াচ্ছে একাকিত্বের ঝুঁকি?

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১১১)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 123

শশাঙ্ক মণ্ডল

সাহিত্য

পঞ্চম অধ্যায়

বাংলা ভাষার পাশাপাশি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় মুসলমান ছাত্রদের জন্য ফারসি ভাষা শেখানো হত। রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের পাঠশালায় বা তোলবাখানায় পাঠানোর রেওয়াজ উনিশ শতকের শেষভাগে লক্ষ করা যাচ্ছে না। বিশ শতকের সূচনালগ্নে অনেক জায়গায় পাঠশালায় মেয়েদের পাঠানো হচ্ছে মেয়েদের জন্য আলাদা পাঠশালার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উনিশ শতকের শেষভাগে যে সব জায়গায় মেয়েদের আলাদা শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি সে সব জায়গায় অভিজাত অভিভাবকরা বাড়িতে শিক্ষক রেখে মেয়েদের কিছুটা পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করেছেন।

সে যুগে সুন্দরবনের কৃষিজীবী সমাজে যেহেতু উদ্ধৃত্ত সম্পদ খুব একটা বেশি থাকত না সেজন্য এক বড় অংশের ছাত্রদের পাঠশালার শুরুতেই শিক্ষা সমাপ্ত হত। ধনী পরিবার কিংবা সমাজের উচ্চ শিক্ষা লাভ করার জন্য সে যুগে ছাত্রদের একটা বড় অংশ হুগলী কলেজিয়েট স্কুল, বরিশাল বি. এম. হাইস্কুল, সরকারি বিদ্যালয়গুলির ছাত্রাবাস কিংবা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ধনী আত্মীয়দের বাড়িতে বাসস্থান সংগ্রহ করে পড়াশুনা চালাত। পাঠশালা বা মক্তবগুলির ছাত্রদের শিক্ষার কোন ধারাবাহিকতা ছিল না। বর্ষার সময়ে অথবা অন্য নানা কারণে শিক্ষা বন্ধ হয়ে যেত।

এর পিছনে শিক্ষকের স্থানত্যাগ, অভিভাবকদের আর্থিক দুর্গতি নিশ্চয়ই অন্যতম কারণ ছিল। সেজন্য পাঠশালায় নানা বয়সের ছাত্ররা পড়াশুনা করত। ছয় বছরের শিশু থেকে ১৫/১৬ বৎসরের ছেলেরা একসঙ্গে পড়াশুনা করত। শৃঙ্খলা ছিল ভয়ানক ও কঠোর। নানা ধরনের নিষ্ঠুর নিপীড়ন মূলক ব্যবস্থার মধ্যে চেয়ারে বসা, মধু মোড়া, ঘুঘুমোড়া এক পায়ে দাঁড়ানো, পিঠ মোড়া, আড়ায় ঝোলানো, আঙুলের মধ্যে কাঠি ঢুকিয়ে চাপ দেওয়া, এ ধরনের নানা শাস্তির ব্যবস্থা ছিল প্রতিটি পাঠশালাতে। ছাত্রদের মধ্যে মুসলমানদের তুলনায় হিন্দুদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা যায়।

কারণ এই এলাকায় আর্থিক দিক দিয়ে মুসলমানদের অবস্থা হিন্দুদের তুলনায় আরও শোচনীয় ছিল। কৃষকদের তলাকার অংশের একটা বিপুল অংশ ছিল মুসলমান চাষী- এদের উদ্বৃত্ত সম্পদ বলতে কিছুই থাকত না, ফলে এদের শিক্ষার অঙ্গনে প্রবেশাধিকার ছিল না। তা ছাড়া ইংরেজ রাজত্বে দীর্ঘকাল পর্যন্ত মুসলমানরা পাশ্চাত্যশিক্ষার ব্যাপারে উদাসীন ছিল এবং সরকারের পক্ষেও সরকারি চাকুরির ব্যাপারে মুসলমানদের উৎসাহ দেবার সংকীর্ণতা লক্ষ করা যায়। (৩) ব্রিটিশ রাজত্বের শুরু থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব এই পাঠশালাগুলি পালন করত।

বিংশ শতাব্দীতে সরকার অনুমোদিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। নূতন বনাঞ্চল উঠিত করে তাতে প্রজা বসতি শুরু হলে গ্রাম্য প্রধানদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে এই পাঠশালাগুলি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপারে খুব একটা দায়িত্ব নেওয়া হত না। শিশুদের একটা বড় অংশ শিক্ষার বাইরে থেকে যেত।

 

 

মাইকেল জ্যাকসনকে ভালোবাসা কি এখনও সম্ভব?

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১১১)

১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

সাহিত্য

পঞ্চম অধ্যায়

বাংলা ভাষার পাশাপাশি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় মুসলমান ছাত্রদের জন্য ফারসি ভাষা শেখানো হত। রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের পাঠশালায় বা তোলবাখানায় পাঠানোর রেওয়াজ উনিশ শতকের শেষভাগে লক্ষ করা যাচ্ছে না। বিশ শতকের সূচনালগ্নে অনেক জায়গায় পাঠশালায় মেয়েদের পাঠানো হচ্ছে মেয়েদের জন্য আলাদা পাঠশালার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উনিশ শতকের শেষভাগে যে সব জায়গায় মেয়েদের আলাদা শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি সে সব জায়গায় অভিজাত অভিভাবকরা বাড়িতে শিক্ষক রেখে মেয়েদের কিছুটা পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করেছেন।

সে যুগে সুন্দরবনের কৃষিজীবী সমাজে যেহেতু উদ্ধৃত্ত সম্পদ খুব একটা বেশি থাকত না সেজন্য এক বড় অংশের ছাত্রদের পাঠশালার শুরুতেই শিক্ষা সমাপ্ত হত। ধনী পরিবার কিংবা সমাজের উচ্চ শিক্ষা লাভ করার জন্য সে যুগে ছাত্রদের একটা বড় অংশ হুগলী কলেজিয়েট স্কুল, বরিশাল বি. এম. হাইস্কুল, সরকারি বিদ্যালয়গুলির ছাত্রাবাস কিংবা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ধনী আত্মীয়দের বাড়িতে বাসস্থান সংগ্রহ করে পড়াশুনা চালাত। পাঠশালা বা মক্তবগুলির ছাত্রদের শিক্ষার কোন ধারাবাহিকতা ছিল না। বর্ষার সময়ে অথবা অন্য নানা কারণে শিক্ষা বন্ধ হয়ে যেত।

এর পিছনে শিক্ষকের স্থানত্যাগ, অভিভাবকদের আর্থিক দুর্গতি নিশ্চয়ই অন্যতম কারণ ছিল। সেজন্য পাঠশালায় নানা বয়সের ছাত্ররা পড়াশুনা করত। ছয় বছরের শিশু থেকে ১৫/১৬ বৎসরের ছেলেরা একসঙ্গে পড়াশুনা করত। শৃঙ্খলা ছিল ভয়ানক ও কঠোর। নানা ধরনের নিষ্ঠুর নিপীড়ন মূলক ব্যবস্থার মধ্যে চেয়ারে বসা, মধু মোড়া, ঘুঘুমোড়া এক পায়ে দাঁড়ানো, পিঠ মোড়া, আড়ায় ঝোলানো, আঙুলের মধ্যে কাঠি ঢুকিয়ে চাপ দেওয়া, এ ধরনের নানা শাস্তির ব্যবস্থা ছিল প্রতিটি পাঠশালাতে। ছাত্রদের মধ্যে মুসলমানদের তুলনায় হিন্দুদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা যায়।

কারণ এই এলাকায় আর্থিক দিক দিয়ে মুসলমানদের অবস্থা হিন্দুদের তুলনায় আরও শোচনীয় ছিল। কৃষকদের তলাকার অংশের একটা বিপুল অংশ ছিল মুসলমান চাষী- এদের উদ্বৃত্ত সম্পদ বলতে কিছুই থাকত না, ফলে এদের শিক্ষার অঙ্গনে প্রবেশাধিকার ছিল না। তা ছাড়া ইংরেজ রাজত্বে দীর্ঘকাল পর্যন্ত মুসলমানরা পাশ্চাত্যশিক্ষার ব্যাপারে উদাসীন ছিল এবং সরকারের পক্ষেও সরকারি চাকুরির ব্যাপারে মুসলমানদের উৎসাহ দেবার সংকীর্ণতা লক্ষ করা যায়। (৩) ব্রিটিশ রাজত্বের শুরু থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব এই পাঠশালাগুলি পালন করত।

বিংশ শতাব্দীতে সরকার অনুমোদিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। নূতন বনাঞ্চল উঠিত করে তাতে প্রজা বসতি শুরু হলে গ্রাম্য প্রধানদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে এই পাঠশালাগুলি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপারে খুব একটা দায়িত্ব নেওয়া হত না। শিশুদের একটা বড় অংশ শিক্ষার বাইরে থেকে যেত।