১০:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে নতুন ‘ফি’ পরিকল্পনা: আন্তর্জাতিক শিপিংয়ে বাড়তে পারে ব্যয় ও জটিলতা দুইবার পিছিয়ে পড়েও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করল ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই, তবে স্থায়ী সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত ঝুঁকি নিতে চায়না তেল কোম্পানি ও জাহাজ মালিকরা -ইরান-মার্কিন চুক্তি বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় যুদ্ধবিরতির পথে ওয়াশিংটন-তেহরান, কৌশলগত সংকটে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সমঝোতা কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক অভিষেক, স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে বিশ্বকাপে চমক বিএসএফ সম্মেলন ঘিরে ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রচারণা নাকচ করল বিজিবি যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্বকাপ: খেলাধুলা কি সত্যিই রাজনীতির বাইরে?

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৪৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • 80

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

“কিন্তু আপনি বলেছিলেন যে তিনি ছিলেন একজন টুলা ভাষার লেখক, এবং তাঁর কোনো শক্তি নেই।”

টলস্টয় তাঁর রোমশ ভ্রূ দুটোকে টেনে চোখের উপর নামিয়ে আনলেন, বললেন, “লেখার কায়দা ছিল খারাপ। ও কী ধরণের ভাষা তিনি ব্যবহার করতেন? লেখার মধ্যে শব্দের চেয়ে দাঁড়ি কমা বেশি। শক্তি হোলো একরকম ভালোবাসা। যে ভালোবাসে, তারই শক্তি আছে। প্রেমিকদের দিকে তাকিয়ে দ্যাখো, তারা সবাই শক্তিশালী।”

ডস্টইয়েভ স্কি সম্পর্কে তিনি আলাপ করতেন অনিচ্ছার সংগে, স’যমের সংগে, যেন কিছু এড়িয়ে গিয়ে, চাপা দিয়েঃ “কনফুসিয়াস এবং বৌদ্ধদের বাণীর সংগে নিজেকে পরিচিত করা উচিত ছিল তাঁর; তা তাঁকে অনেকখানি শান্ত ক’রে দিতো। ওইটি হোলো প্রধান জিনিষ, যা প্রত্যেক মানুষেরই জানা উচিত। তিনি ছিলেন এমন একটি মানুষ, যাঁর রক্তমাংস বিদ্রোহ ক’রে উঠতো।

তিনি রাগলেই তাঁর টেকো মাথার ওপর মাংসপিণ্ডগুলো অকস্মাৎ উঠতো মাথা তুলে; কান দুটো কাঁপতো। তাঁর অনুভূতি ছিল প্রচুর; কিন্তু তিনি চিন্তা করেছিলেন অতি সামান্য। কুরিয়ের-পন্থীদের কাছ থেকে, বা বুটাশেভিচের পাশ থেকে, বা অন্যদের কাছ থেকে তিনি চিন্তা করতে শিখেছিলেন। এবং পরে তাঁর সমস্ত জীবন ধ’রে তাদের তিনি ঘৃণা করেছেন। ইহুদি-সুলভ একটা বস্তু ছিল তাঁর মধ্যে। বিনা কারণেই তিনি সন্দিগ্ধ হ’য়ে উঠতেন। তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, ছিলেন মন্থর, ছিলেন সৌভাগ্যহীন। বড়ো অদ্ভুত পড়ে। আমি ঠিক বুঝি না, কেন।

তেমনি অকারণ। কারণ, ওই সব লাগে যে তাঁকে মানুষে এতো তাঁকে পড়া যেমন বেদনাদায়ক, ‘ইডিয়ট’, ওই সব ‘বাড়ন্তবয়সী’ ওই সব রাস্কনিকভ, কিম্বা বাকী অন্য সবাই, ওরা বাস্তব নয়। বাস্তব জগতে তারা ওদের চেয়ে অনেক সরল, অনেক সহজবোধ্য। দুঃখের বিষয় লোকে লিয়েসকভের লেখা পড়ে না। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের লেখক-তাঁর কোনো লেখা তুমি পড়েছ?”

“পড়েছি। তাঁকে আমার ভারী ভালো লাগে, বিশেষ ক’রে তাঁর ভাষা।”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৪৪)

০৩:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

“কিন্তু আপনি বলেছিলেন যে তিনি ছিলেন একজন টুলা ভাষার লেখক, এবং তাঁর কোনো শক্তি নেই।”

টলস্টয় তাঁর রোমশ ভ্রূ দুটোকে টেনে চোখের উপর নামিয়ে আনলেন, বললেন, “লেখার কায়দা ছিল খারাপ। ও কী ধরণের ভাষা তিনি ব্যবহার করতেন? লেখার মধ্যে শব্দের চেয়ে দাঁড়ি কমা বেশি। শক্তি হোলো একরকম ভালোবাসা। যে ভালোবাসে, তারই শক্তি আছে। প্রেমিকদের দিকে তাকিয়ে দ্যাখো, তারা সবাই শক্তিশালী।”

ডস্টইয়েভ স্কি সম্পর্কে তিনি আলাপ করতেন অনিচ্ছার সংগে, স’যমের সংগে, যেন কিছু এড়িয়ে গিয়ে, চাপা দিয়েঃ “কনফুসিয়াস এবং বৌদ্ধদের বাণীর সংগে নিজেকে পরিচিত করা উচিত ছিল তাঁর; তা তাঁকে অনেকখানি শান্ত ক’রে দিতো। ওইটি হোলো প্রধান জিনিষ, যা প্রত্যেক মানুষেরই জানা উচিত। তিনি ছিলেন এমন একটি মানুষ, যাঁর রক্তমাংস বিদ্রোহ ক’রে উঠতো।

তিনি রাগলেই তাঁর টেকো মাথার ওপর মাংসপিণ্ডগুলো অকস্মাৎ উঠতো মাথা তুলে; কান দুটো কাঁপতো। তাঁর অনুভূতি ছিল প্রচুর; কিন্তু তিনি চিন্তা করেছিলেন অতি সামান্য। কুরিয়ের-পন্থীদের কাছ থেকে, বা বুটাশেভিচের পাশ থেকে, বা অন্যদের কাছ থেকে তিনি চিন্তা করতে শিখেছিলেন। এবং পরে তাঁর সমস্ত জীবন ধ’রে তাদের তিনি ঘৃণা করেছেন। ইহুদি-সুলভ একটা বস্তু ছিল তাঁর মধ্যে। বিনা কারণেই তিনি সন্দিগ্ধ হ’য়ে উঠতেন। তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, ছিলেন মন্থর, ছিলেন সৌভাগ্যহীন। বড়ো অদ্ভুত পড়ে। আমি ঠিক বুঝি না, কেন।

তেমনি অকারণ। কারণ, ওই সব লাগে যে তাঁকে মানুষে এতো তাঁকে পড়া যেমন বেদনাদায়ক, ‘ইডিয়ট’, ওই সব ‘বাড়ন্তবয়সী’ ওই সব রাস্কনিকভ, কিম্বা বাকী অন্য সবাই, ওরা বাস্তব নয়। বাস্তব জগতে তারা ওদের চেয়ে অনেক সরল, অনেক সহজবোধ্য। দুঃখের বিষয় লোকে লিয়েসকভের লেখা পড়ে না। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের লেখক-তাঁর কোনো লেখা তুমি পড়েছ?”

“পড়েছি। তাঁকে আমার ভারী ভালো লাগে, বিশেষ ক’রে তাঁর ভাষা।”