১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস পরমাণু বোমার আগের হিরোশিমা-নাগাসাকি ফিরিয়ে আনছে মাইনক্রাফটের কর্মশালা সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হোয়াইট হাউসের বিশাল বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চাইলেন ট্রাম্প ইরান চুক্তির পথে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

বাংলাদেশে আবহাওয়ায় পরিবর্তনে বাড়ছে শিশু ডায়রিয়া রোগী

  • Sarakhon Report
  • ০৪:২৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • 132

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ডায়রিয়া আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি দেখা গেছে৷ বিশেষজ্ঞরা এজন্য আবহাওয়া পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ মনে করছেন৷

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. শফি আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শিশুদের ডায়রিয়া বেশি হওয়ার কারণ আবহাওয়ার পরিবর্তন৷ বড় মানুষ এটা মানিয়ে নিতে পারলেও শিশুরা পারে না৷ আমরা বলি, আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিন৷ শিশু হাসপাতালে তো রোগীদের জায়গা দেওয়ার অবস্থা নেই৷অধিকাংশকেই ভর্তি করা লাগছে না৷ অনেকে হাসপাতালে আনতে দেরি করার কারণে শিশুদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে৷ তাদের ভর্তি করতে হচ্ছে৷ ধূলাবালি থেকে শিশুদের দূরে রাখা এবং ঠান্ডা যাতে না লাগে সেদিকে নজর রাখতে হবে৷’’

ডা. শোয়েব বিন ইসলাম বলেন, ‘‘ডায়রিয়া হলে মায়েরা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে৷ প্রথম হলো, পাতলা পায়খানা হলে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পরে আপনার বাচ্চার ওজন যত কেজি, তত চামচ স্যালাইন পানি খাওয়ান৷ ৫ এমএল এর চামচে মেপে স্যালাইন খাওয়াতে হবে৷ ডায়রিয়া চলাকালে শিশুকে ধীরে ধীরে স্যালাইন খাওয়াতে হবে৷ তাহলে শিশু বমি করবে না৷ এছাড়া আমরা জিঙ্ক ট্যাবলেট খাওয়াতে বলি৷ আর এসময় শিশু স্বাভাবিক খাবারই খাবে৷ মায়ের বুকের দুধ কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না৷ এভাবে ৫-৭ দিনে শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে অল্প কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগে, সুস্থ হতে৷ স্যালাইন বানানোর ১২ ঘন্টা পরে তা আর খাওয়া যাবে না৷’’

আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে বছরজুড়ে ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা হয়৷ বছরে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ডায়রিয়া রোগী এই হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নেয়৷ আইসিডিডিআরবির শর্ট স্টে ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. শোয়েব বিন ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রতিবছর শীতের শুরুতে আমাদের দেশে ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়৷ যদিও বিগত দুই বছরের তুলনায় এবছর কিছুটা বেশি৷ অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ২০ থেকে ২৫ ভাগ বেশি রোগী দেখা যাচ্ছে৷ ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রায় সব এলাকা থেকেই শিশুরা ডায়রিয়া নিয়ে আসছে৷ এবার যেটা দেখা যাচ্ছে, গত দুই সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৮৫০ জন থেকে ৯০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে৷ এর ৮০ শতাংশ রোগীর বয়স ২ বছরের কম৷ এবার যে রোগী আসছে, আমরা মাইক্রবাইলোজিক্যাল অ্যাসেস করে দেখেছি, তাদের অধিকাংশই রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন৷ অর্থাৎ ভাইরাসজনিত কারণে এই ডায়রিয়া হচ্ছে৷’’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ জানুয়ারি সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৬৪৭ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়৷

অন্যদিকে গত ১ নভেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি এই ৬৩ দিনে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৫ জন৷ অর্থাৎ প্রতিদিন সারা দেশে গড়ে ১ হাজার ৮০০ মানুষ ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷

কিছু কিছু জেলায় রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে৷ এই ৬৩ দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে৷ এই জেলায় ভর্তি হওয়া রোগী ছিল ৭ হাজার ৩৯০ জন৷

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আসলে শীতকালে জীবানুর আচরণ বদলে যায়৷ কিছু ভাইরাস শীতকালে সক্রিয় হয়৷ তাপমাত্রা তারতম্যের কারণে এটা হয়৷ শীত বেশি পড়লে জীবাণুর আচরণ বদলাতে থাকে৷ ফলে এই সময় ডায়রারিয়ার প্রকোপ বাড়বে সেটা বলা যায়৷ এবার যে অনেক বেশি ডায়রিয়ার রোগী সেটা বলা যাবে না৷ তবে কিছু বেশি৷ এক্ষেত্রে অভিভাবকরা একটু সচেতন হলেই বাচ্চাকে নিরাপদে রাখা সম্ভব৷”

খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাচ্চাকে বাইরে বের না করার পরামর্শও এই বিশেষজ্ঞের৷

সারাদেশে হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে শীত৷ গত কয়েক দিনের শীতের তীব্রতায় নাজেহাল মানুষ৷ দেখা দিয়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব৷ এতে বেশির ভাগ আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা৷ ঘন কুয়াশা আর শীতের তীব্রতার কারণে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন মানুষ৷ অনেক জায়গায় নির্দিষ্ট বেডের বিপরীতে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকেই৷

চিকিৎসকরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনজনিত ঠান্ডার কারণে রোগের প্রকোপ বাড়ছে৷ অনেকে কাশি, গলাব্যথা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত জটিলতাসহ জ্বর ও ভাইরাল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন৷

স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও আইসিডিডিআরবির পরামর্শক অধ্যাপক ডা. আজহারুল ইসলাম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘স্যালাইন যে একটা ওষুধ, এটা কোন সাধারণ খাবার না সেটা অনেক অভিভাবক বোঝেন না৷ অল্প পানিতে, অল্প স্যালাইন গুলিয়ে অথবা ভালোভাবে না গুলিয়ে স্যালাইন খাওয়া যাবে না৷ স্যালাইন বানাতে হবে সঠিকভাবে৷ স্যালাইন ও পানির অনুপাত ঠিক না হলে শিশুদের শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়৷ এসময় বাচ্চাদের আরো পানির পিপাসা বেড়ে যায়৷ সে আরো পানি খেতে চায় এবং ওই স্যালাইন পানি খাওয়ার ফলে শরীরে আরো লবণ বেড়ে যায়৷ একটা সময় বাচ্চার খিচুনি হয়৷ এ ধরনের সমস্যার কারণে অনেক সময় বাচ্চাকে বাঁচানো যায় না৷ আবার অনেক সময় ডায়রিয়ার সঙ্গে নিউমোনিয়াও হয়৷ সেটা অভিভাবকরা বোঝেন না৷ ফলে বাচ্চার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়৷ ফলে বাচ্চার কোন সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ৷’’

ডয়চে ভেলে বাংলা
জনপ্রিয় সংবাদ

ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক

বাংলাদেশে আবহাওয়ায় পরিবর্তনে বাড়ছে শিশু ডায়রিয়া রোগী

০৪:২৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ডায়রিয়া আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি দেখা গেছে৷ বিশেষজ্ঞরা এজন্য আবহাওয়া পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ মনে করছেন৷

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. শফি আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শিশুদের ডায়রিয়া বেশি হওয়ার কারণ আবহাওয়ার পরিবর্তন৷ বড় মানুষ এটা মানিয়ে নিতে পারলেও শিশুরা পারে না৷ আমরা বলি, আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিন৷ শিশু হাসপাতালে তো রোগীদের জায়গা দেওয়ার অবস্থা নেই৷অধিকাংশকেই ভর্তি করা লাগছে না৷ অনেকে হাসপাতালে আনতে দেরি করার কারণে শিশুদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে৷ তাদের ভর্তি করতে হচ্ছে৷ ধূলাবালি থেকে শিশুদের দূরে রাখা এবং ঠান্ডা যাতে না লাগে সেদিকে নজর রাখতে হবে৷’’

ডা. শোয়েব বিন ইসলাম বলেন, ‘‘ডায়রিয়া হলে মায়েরা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে৷ প্রথম হলো, পাতলা পায়খানা হলে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পরে আপনার বাচ্চার ওজন যত কেজি, তত চামচ স্যালাইন পানি খাওয়ান৷ ৫ এমএল এর চামচে মেপে স্যালাইন খাওয়াতে হবে৷ ডায়রিয়া চলাকালে শিশুকে ধীরে ধীরে স্যালাইন খাওয়াতে হবে৷ তাহলে শিশু বমি করবে না৷ এছাড়া আমরা জিঙ্ক ট্যাবলেট খাওয়াতে বলি৷ আর এসময় শিশু স্বাভাবিক খাবারই খাবে৷ মায়ের বুকের দুধ কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না৷ এভাবে ৫-৭ দিনে শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে অল্প কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগে, সুস্থ হতে৷ স্যালাইন বানানোর ১২ ঘন্টা পরে তা আর খাওয়া যাবে না৷’’

আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে বছরজুড়ে ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা হয়৷ বছরে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ডায়রিয়া রোগী এই হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নেয়৷ আইসিডিডিআরবির শর্ট স্টে ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. শোয়েব বিন ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রতিবছর শীতের শুরুতে আমাদের দেশে ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়৷ যদিও বিগত দুই বছরের তুলনায় এবছর কিছুটা বেশি৷ অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ২০ থেকে ২৫ ভাগ বেশি রোগী দেখা যাচ্ছে৷ ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রায় সব এলাকা থেকেই শিশুরা ডায়রিয়া নিয়ে আসছে৷ এবার যেটা দেখা যাচ্ছে, গত দুই সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৮৫০ জন থেকে ৯০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে৷ এর ৮০ শতাংশ রোগীর বয়স ২ বছরের কম৷ এবার যে রোগী আসছে, আমরা মাইক্রবাইলোজিক্যাল অ্যাসেস করে দেখেছি, তাদের অধিকাংশই রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন৷ অর্থাৎ ভাইরাসজনিত কারণে এই ডায়রিয়া হচ্ছে৷’’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ জানুয়ারি সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৬৪৭ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়৷

অন্যদিকে গত ১ নভেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি এই ৬৩ দিনে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৫ জন৷ অর্থাৎ প্রতিদিন সারা দেশে গড়ে ১ হাজার ৮০০ মানুষ ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷

কিছু কিছু জেলায় রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে৷ এই ৬৩ দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে৷ এই জেলায় ভর্তি হওয়া রোগী ছিল ৭ হাজার ৩৯০ জন৷

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আসলে শীতকালে জীবানুর আচরণ বদলে যায়৷ কিছু ভাইরাস শীতকালে সক্রিয় হয়৷ তাপমাত্রা তারতম্যের কারণে এটা হয়৷ শীত বেশি পড়লে জীবাণুর আচরণ বদলাতে থাকে৷ ফলে এই সময় ডায়রারিয়ার প্রকোপ বাড়বে সেটা বলা যায়৷ এবার যে অনেক বেশি ডায়রিয়ার রোগী সেটা বলা যাবে না৷ তবে কিছু বেশি৷ এক্ষেত্রে অভিভাবকরা একটু সচেতন হলেই বাচ্চাকে নিরাপদে রাখা সম্ভব৷”

খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাচ্চাকে বাইরে বের না করার পরামর্শও এই বিশেষজ্ঞের৷

সারাদেশে হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে শীত৷ গত কয়েক দিনের শীতের তীব্রতায় নাজেহাল মানুষ৷ দেখা দিয়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব৷ এতে বেশির ভাগ আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা৷ ঘন কুয়াশা আর শীতের তীব্রতার কারণে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন মানুষ৷ অনেক জায়গায় নির্দিষ্ট বেডের বিপরীতে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকেই৷

চিকিৎসকরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনজনিত ঠান্ডার কারণে রোগের প্রকোপ বাড়ছে৷ অনেকে কাশি, গলাব্যথা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত জটিলতাসহ জ্বর ও ভাইরাল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন৷

স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও আইসিডিডিআরবির পরামর্শক অধ্যাপক ডা. আজহারুল ইসলাম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘স্যালাইন যে একটা ওষুধ, এটা কোন সাধারণ খাবার না সেটা অনেক অভিভাবক বোঝেন না৷ অল্প পানিতে, অল্প স্যালাইন গুলিয়ে অথবা ভালোভাবে না গুলিয়ে স্যালাইন খাওয়া যাবে না৷ স্যালাইন বানাতে হবে সঠিকভাবে৷ স্যালাইন ও পানির অনুপাত ঠিক না হলে শিশুদের শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়৷ এসময় বাচ্চাদের আরো পানির পিপাসা বেড়ে যায়৷ সে আরো পানি খেতে চায় এবং ওই স্যালাইন পানি খাওয়ার ফলে শরীরে আরো লবণ বেড়ে যায়৷ একটা সময় বাচ্চার খিচুনি হয়৷ এ ধরনের সমস্যার কারণে অনেক সময় বাচ্চাকে বাঁচানো যায় না৷ আবার অনেক সময় ডায়রিয়ার সঙ্গে নিউমোনিয়াও হয়৷ সেটা অভিভাবকরা বোঝেন না৷ ফলে বাচ্চার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়৷ ফলে বাচ্চার কোন সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ৷’’

ডয়চে ভেলে বাংলা